• মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

পড়ন্ত বেলায় আশার আলো

  রহমান মৃধা

১০ জুলাই ২০১৯, ১৫:৫৫
রহমান মৃধা
সুইডেন প্রবাসী রহমান মৃধা

টেমস নদীর তীরে আবার এসেছি ফিরে বহু বছর পরে। আজকের বিকেলে নদীর ভাটার সময় এসেছি কিং এডওয়ার্ড মেমোরিয়াল পার্ক, ওয়াপিংয়ে। পার্কটি ঠিক স্যাডওয়েল এবং লাইম হাউজের মাঝামাঝি। লন্ডেনে ছোট বড় অনেক পার্ক রয়েছে, হাইড পার্ক তার মধ্যে অন্যতম। 

আজ হাইড পার্ক রেখে এই পার্কে ঢুকেছি কারণ একটাই তাহলো এই পার্কের পাশে আমার ছোটভাই শাহিন তার সপরিবারে ১৭ বছর ধরে বসবাস করছে। শাহিনের এক ছেলে এক মেয়ে, তারা আছে বেশ। প্রতিদিন নিত্যনতুন বাংলা দেশের শাকসবজী থেকে শুরু করে মাছ, মাংস সব কিছু মেলে এখানে, দেখে যেন মনে হলো লিটল বাংলাদেশ লন্ডনের স্যাডওয়েলে। 

আমি সুইডেন থেকে মাঝেমধ্যেই এখানে আসি। দেশের পরিবেশে খাওয়া দাওয়া থেকে শুরু করে ঘোরাঘুরি করা, বাজার করা, তারপর শাহিনের স্ত্রী রান্না করে ভালো, তার হাতের রান্না খাওয়া, আবার সুইডেনে ফিরে যাবার পথে কিছু কেনাকাটা করা, সবই হয়ে থাকে। গতকাল হঠাৎ এসেছি কারণ আমার ছোটবোন জলি থাকে ক্যালিফোর্নিয়ায়। সে এসেছে সপরিবারে ইউরোপে ঘুরতে। এবারের ভ্রমণে তারা লন্ডনে ঢুকেছে প্রথমে। এদিকে গত কাল ছিল জলির জন্মদিন, তাই লন্ডন গ্যাটউইকে নেমেই সরাসরি শাহিনের বাসাতে ঢুকতেই সবার সঙ্গে দেখা। 

কিছুক্ষণ একত্রে সময় পার করে পড়ন্ত বেলায় হাঁটতে বেরিয়ে পড়লাম সেই খ্যাতনামা টেমস নদীর তীরে। 

টেমস নদীকে দেখেই মনে পড়ে গেল বুড়িগঙ্গাকে, মনে পড়ে গেল পদ্মাকে, মনে পড়ে গেল নবগঙ্গাকে। টেমসের দুইপাশ দিয়ে সুন্দর করে গড়ে উঠেছ লন্ডন শহর। সূর্যের আলো যেন টেমস নদীর ঘোলা পানিতে হারিয়ে যেতে শুরু করেছে ঠিক তখন জলি, শাহিন এবং তাদের পরিবারকে নিয়ে কিছুক্ষণ একসঙ্গে আড্ডা মেরে রাতের ডিনারে ঢুকে গেলাম এক তারকিশ হালাল রেষ্ট্রুরেন্টে। 

সবকিছুতেই হালালের ১০০% গ্যারান্টি থাকা সত্বেও আমার চোখে ধরা পড়ে গেল ওয়ট্রেসের অশালীনতা। সামান্যতম শালীনতা বোধ দেখলাম না তার কাপড় বা আচারণে। 

যাইহোক রাতের ডিনার বাইরে শেষ করে শাহিনের বাসায় ফিরে আরো কিছুক্ষণ আড্ডা, তার পর দেখি রাত বারটা বাজে। সকালে ঘুম থেকে উঠতে হবে কারণ জলি এবং তার পরিবার সকাল ৯টার ট্রেনে হল্যান্ডের আমস্টারডাম শহরের উদ্যেশ্যে রওনা দিবে। 

সকালে ঘুম থেকে উঠে জলিদের বিদায় দিয়ে টাওয়ার হেমলেটের স্যাডওয়েলে শাহিনের সাথে বাজারে গেলাম। কনটা রেখে কনটা কিনব, ভাবনায় পড়ে গেলাম! ইলিশ মাছ থেকে শুরু করে অনেক কিছুই কেনা হলো। 

পরে বাসায় এসে গোসল সেরে ইষ্ট লন্ডনের টাওয়ার হেমলেটে জুম্নার নামাজে চলে গেলাম। বিশাল বড় মসজিদে একত্রে সবাই জুম্মার নামাজ আদায় করলাম। লন্ডনে বসবাসরত সমস্ত বাংলাদেশীর বেশির ভাগই এই এলাকায় থাকে বিধায় বাংলাদেশীদের সঙ্গে এক জনসমুদ্রে আজকের জুম্মার নামাজ পড়া সৌভাগ্যের বলে মনে হলো।

আজ বিকেলের সময়টি কাটবে কিছুটা আলাদা ভাবে। সেই ১৯৮৪ সালে ছেড়েছি বাংলাদেশ এবং ঢাকা রেসিডেন্সসিয়াল মডেল স্কুল এবং কলেজ। ছেড়েছি সেই কলেজের সব বন্ধুদের। পরে সময়, কাজ এবং পরিবর্তন করেছে আমাদের ছিন্ন, করেছে ভিন্ন। সেই হারিয়ে যাওয়া মুহুর্ত আবার ফিরে এসেছে এত বছর পরে যা ভাবতেও গা শিহরে উঠছে। আজ দেখা হবে আমার দুই বছরের একত্রে থাকা রুমমেটের সঙ্গে। যার সঙ্গে কেটেছে আমার একটানা দুইটা বছর। যে আজ বসবাস করছে বহু বছর ধরে নিউজিল্যান্ড তার পরিবারকে নিয়ে। নাছিম পেশায় ডাক্তার। 

আমার লন্ডন ভ্রমনের খবর তাকে জানিয়েছে বন্ধু নাজমুল, থাকে লন্ডনে। নাজমুলের সঙ্গে আমার প্রতিদিনই যোগাযোগ হয়। হঠাৎ নাজমুল জানালো নাছিম এসেছে ইউরোপ ট্যুরে। গতকাল লন্ডনে ল্যান্ড করার পরই নাছিমের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা দুজনেই মনে হচ্ছে বেশ এক্সাইটেড কখন দেখা হবে। দেখা হবে আজ সন্ধ্যায়, মনে হচ্ছে পড়ন্ত বেলায় দেখছি আশার আলো। একে অপরকে দেখে নিশ্চয় লাগবে ভালো। শাহিনের বউ বেশ আয়োজন করেছে। এখন শুধু সেই মুহুর্তের প্রতিক্ষায় আর অপেক্ষায়।

ওডি/আরএডি

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড