• মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

বাংলাদেশ কী পেল বিশ্বকাপে?

  মাহবুব নাহিদ

০৮ জুলাই ২০১৯, ১৭:০৭

শেষ হয়ে গেল টাইগারদের বিশ্বকাপ মিশন। অনেক বেশি আশা ভরসা দেখলেও আসলে দিনশেষে আমরা হতাশ হয়েছি। ৮ম অবস্থানে থেকে আমাদের বিশ্বকাপ শেষ করতে হয়েছে যেখানে আমরা সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্নও দেখে ফেলেছিলাম। আসলে বাস্তব এমনই নির্মম হয়। বিশ্বকাপ শেষ হবার পর এখন মিলাতে দেনা-পাওনার হিসাব।

নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ এবারে ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ টিম নিয়ে খেলেছে। তাতেও ফলাফল ৮ম! হ্যাঁ, একদমই সত্যি। এবারের বিশ্বকাপ লিগ সিস্টেমে হওয়ায় আমরা যারা র‍্যাংকিয়ে নিচের দিকের দল তাদের জন্য সমস্যাই হয়ে গেছে। এতগুলো ম্যাচ টানা ভালো খেলে যাওয়া সম্ভব না। আর ফলাফল তাই হলো। তবে আমরা ৮ম হয়েও যেন বিশ্বকাপ পেয়েছি। আমাদের সেই বিশ্বকাপ হলো পৃথিবীর নম্বর ওয়ান অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। হয়তো তাকে সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার বলে ফেললেও ভুল হবে না। এই বিশ্বকাপে সাকিব যা যা করেছে তা একেক করে বললে শেষ হবে না তবে দুঃখ একটাই যে,একটা মানুষ এমন অতিমানবীয় পারফরম্যান্স করার পরেও অন্তত সেমিফাইনালিস্টটুকুও হতে পারল না। সাকিবের পরেই অবশ্যই বলব সাইফউদ্দিনের কথা। প্রথম বিশ্বকাপেই সাইফউদ্দিন বাজিমাত করেছে, নিজের জাত চিনিয়েছে আর আগামী বিশ্বকাপে যে একজন ভয়ানক বাঘ হয়েই আসবেন তাও জানান দিয়েছেন। মুস্তাফিজ প্রথমে ছন্দে না থাকলেও শেষ দিকে কামব্যাক করেছেন, ২০ উইকেট নিয়েছে। মুশফিক অনেক রান করেছে। পাশাপাশি মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেকরাও মোটামুটি পারফর্ম করেছে। কিন্তু হতাশ করেছে দেশসেরা ওপেনার তামিম আর ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাস্টিক মাশরাফি। তাদের কাছ থেকে ভালো খেলা আশা করেছিল বাংলাদেশ। হয়তো শেষ বিশ্বকাপে আরেকটুখানি ঝলক দেখাতে পারত ম্যাশ, কিন্তু সেটা দুর্ভাগ্যই রয়ে গেল। আমরা জিতেছি পয়েন্ট টেবিলের নিচের দিকের দলের সাথে। আর আমাদের সকলের আফসোসই বলে দেয় আমাদের দলের খেলাই আমাদের আশাকে বড় করে দিয়েছে। কিন্তু আমরা এখনো সেই ধরনের প্রফেশনাল টিমে হয়ে পারিনি। যে কারণেই হয়তো নিউজিল্যান্ড আর ভারতের ম্যাচটা নার্ভ না রাখতে পারায় হেরেছি। 

কিন্তু এটাও সত্যি যে, যারা খেলেছে তারা সবাই অভিজ্ঞ। দুই একজন বাদে সবাই অনেকদিন ধরে দলে খেলছে। কেনো তারা নার্ভ ধরে রাখতে পারছে সেটা দেখা উচিত। টিম নিয়ে কাজ করতে হবে অনেক। আমরা দিন দিন বড় দল হয়ে উঠছি। ফিল্ডিংয়ে প্রচুর উন্নতি করতে হবে। ফিল্ডিং ভালো করলে দুই একটা ম্যাচ অন্তত জিতেও যেতে পারতাম। আমাদের বোলারদের সেন্স ও লাইন লেন্থ নিয়ে প্রচুর কাজ করার প্রয়োজন। কখন কীভাবে বল করতে হয়, নতুন বলে কীভাবে বল করতে হয়, পুরান বলে কীভাবে করতে হয়, পাওয়ার প্লে তে কীভাবে আর স্লগ ওভারে কীভাবে করতে হয় তা নিয়ে কাজ করতে। বোলিং কোচ নিয়েও ভাবা উচিত। হিথ স্ট্রিক কোচ থাকা অবস্থায় হয়তো এর চেয়ে অবস্থা ভালো ছিল। 

এই বিশ্বকাপ মাশিরাফির শেষ বিশ্বকাপ। আমরা এবার পারিনি তবে আমরা অনেক কিছুই শিখেছি। তামিম-সাকিব-মুশফিক-মাহমুদুল্লাহ হয়তো আগামী বিশ্বকাপ খেলবে। দুই একজন মিস করলেও করতে পারে। ফিটনেস আর ফর্মের কথা তো আর বলা যায় না। তাই এরা চলে গেলে আমরা যেন শ্রীলঙ্কা না হয়ে যাই সেটা নিয়ে ভাবতে। এদের পজিশনে কারা আসতে পারে তাদের এড়া থাকতেই দলে নিয়মিত করতে হবে। আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটে আরও বেশি থেকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। ভারত রনজি ট্রফি আর আইপিএলকে গুরুত্ব দিয়েই আজ এমন একটা দল হয়েছে। এই বিশ্বকাপের কথা ভুলে যেতে হবে, ভুল থেকে শুধু শিক্ষাটুকু নিয়ে নতুন উদ্যমে শুরু করতে হবে। বাস্তব মেনে নিতেই হবে, আমাদের এখনো বহু উন্নতির প্রয়োজন। শুধু আবেগেই গাঁ ভাসালে চলবে না। জুনিয়র কিছু প্লেয়ার উঠে আসছে তাদের সঠিকভাবে পরিচর্যা করতে হবে। 

আমরা অবশ্যই চাইব আমাদের তামিম-সাকিব-মুশফিক-মাহমুদুল্লাহ আগামী বিশ্বকাপও খেলবে আর পাশে এগিয়ে আসবে সাইফউদ্দিন মিরাজদের মতো তরুণ তুর্কিরা। হয়তো আগামী বিশ্বকাপেই দেখিয়ে দিবে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ জিততে পারে। আর পুরো বাংলাদেশ একসাথে চিৎকার করে বলবে "খেলবে টাইগার, জিতবে টাইগার"
 

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড