• মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯, ৪ আষাঢ় ১৪২৬  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন

‘বুদ্ধিমান থেকে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এক জাতিতে পরিণত হবে বাংলাদেশ’

  ডা. সাঈদ এনাম ১৩ জুন ২০১৯, ১২:৩৬

ডা. সাঈদ এনাম 
সাইকিয়াট্রিস্ট ডা. সাঈদ এনাম 

ইউরোপিয়ান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশনের সেমিনারে গিয়েছিলাম ইউরোপ। আমার প্রেজেন্টেশন ছিল। পাঁচদিন ব্যাপী সায়েন্টিফিক সেমিনারে ইউরোপসহ সারা বিশ্বের কয়েক হাজার সাইকিয়াট্রিস্ট ছিলেন। গল্পগুজব, আড্ডা কথাবার্তার এক পর্যায়ে তারা অনেকেই বললেন, "যতদূর দেখেছি, যে কজনার সাথে মিশেছি, আমাদের কাছে মনে হয়েছে বাংলাদেশিরা জেনেটিক্যালি মেধাবী, বন্ধুবৎসল"। বিষয়টি ভেবেছিলাম নেহায়েত আমাকে খুশি করার জন্যেই বলছে। 

এক মাস পর ফের গেলাম ক্যালিফোর্নিয়াতে আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন এর সেমিনারে। সেখানে বিশাল আয়োজন, ইউরোপিয়ান সাইকিয়াট্রিক এসোসিয়েশনের চেয়ে তিনগুণ বেশি সাইকিয়াট্রিস্টের মিলন। সেখানেও আমি আমার সাবজেক্টের স্পিকার প্রেজেন্টার।

অবসরে গল্প আড্ডার এক পর্যায়ে তারাও একই কথা বললেন। বাংলাদেশি যে কয়েকজনের সাথে তাদের মেশার সুযোগ হয়েছে, যাদের খুব কাছ থেকে তারা দেখেছেন মিশেছেন, তাদের তুলনামূলক মেধাবী, বুদ্ধিমান মনে হয়েছে, এবং সেটাও তাদের মতে জেনেটিক্যালি।

বিষয়টি এবার একটু আমলে নিলাম। এ নিয়ে একটু গভীর আলাপের দিকে গেলাম তাদের সাথে। "হোয়াই এন্ড হাও"।

কনক্লুশনটা দাঁড়ালো বাংলাদেশিদের ফুড হেভিট। রান্নার স্টাইল।

আমাকে কাছে পেয়ে উৎসুক হয়ে তারা বাংলাদেশিদের খাবার প্রক্রিয়াজাত করণের ব্যাপারটা আরও কিছু জেনে নিল। আমি বললাম, "আমরা সাধারণত মা বা স্ত্রীর হাতের রান্না খাই আজীবন। তারা অত্যন্ত যত্ন সহকারে খাবারগুলো তৈরি করেন এবং টেবিলে পাড়েন। ধোয়া মোছা থেকে শুরু করে ডায়নিং টেবিল পর্যন্ত থাকে তাদের ভালোবাসা আর মমতার ছোঁয়া। রেস্টুরেন্টে আমরা তেমন একটা খাই না। অফিসে গেলে বাসা থেকেই টিফিন নিয়ে যাই"।

আমাদের বেশির ভাগ অফিসিওদের মা, স্ত্রী, কিংবা বোন হাউজ ওয়াইফ। তাদের সময় কাটে পরিবারের সুস্বাস্থ্যের কথা ভেবে ভেবে। অনেক মায়েরা বা স্ত্রীরা আছেন যারা নিজে বাজারে গিয়ে পরিবারের জন্যে ভালো কিছু একটা কিনে আনেন। এমন মমত্ববোধ বিরল।

আমার কথা তাদের অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য ঠেকলো। এসব শুনে অনেকের চোখের কোণে জলে চিক চিক করল। আমাদের মতো পরিবার প্রথা ইউরোপ আমেরিকান কালচারে নেই। একেবারে নেই বললে ভুল হবে কিছু সম্ভ্রান্ত পরিবারে এখনো আছে।

অফিসিওদের বেশির ভাগ হোটেল রেস্তোরাঁয় খান আর রাতে বাসায় গিয়ে নিজে ইলেক্ট্রনিক মেশিনে ঝটপট পাকিয়ে নেন। কোনমতে খাবারটা সেরে নেন। আমাদের মতো সবাইকে নিয়ে ডায়নিং টেবিলে বসে আয়েশ করে খাওয়া তাদের স্বভাবে নেই। এমন কি স্বামী, স্ত্রী, এডাল্ট বাচ্চা কাচ্চা রেস্তোরাঁর গেলেও সবাই নিজ নিজ মতো অর্ডার দেয়, নিজ নিজ বিল দেন।

এক আমেরিকান কলিগ একটা গল্প পাড়লো। রেস্টুরেন্টে বাবা, মা আর ছেলে গেছেন পিজা খেতে। একই টেবিলে বসা তিনজন। পিজা ওর্ডার হলো দুটো। মা বাবা দুজনে আয়েশ করে খেয়ে উঠলেন। ছেলে খেল না, এদিক ওদিক তাকিয়ে রইলো। মা একবার জিগ্যেস করছিল, 'ইউ...?' ছেলে বললো, 'নো মাম..ইটস ওকে'।

আমি গল্পটা বুঝলাম না। বললাম বিষয়টা কী? আমেরিকান সহকর্মী বললেন, "সাঈদ, এখানে রেস্টুরেন্টে যে যার সাধ্যমতো অর্ডার দেয়, খায়, যে যার বিল দেয়। হোস্টিং বা শেয়ারিং সিস্টেম নাই, ছোটবেলা থেকেই নাই। ছেলে এডাল্ট, সুতরাং তার সাধ্যমতো অর্ডার সে করবে, তার বিল সে দেবে। সেদিন ছেলের কাছে পয়সা ছিল না তাই সে অর্ডার করেনি। হোক না সাথে মা বাবা। সো হোয়াট"।

আমি বললাম, "মা,বাবা বিষয়টা বুঝেছে..? ছেলে তো পয়সা নেই তাই খাচ্ছে না?"। তিনি বললেন, "হ্যা। কিন্তু কিছুই করার নেই। সিস্টেমটাই ওরকম। উল্টোটাও হয়। ছেলের পয়সা আছে খাবে, মা বাবার কাছে নেই, খাবে না। বসে থাকবে। ইটস নরমাল হিয়ার..."

যাহোক যে কথায় ছিলাম বাংলাদেশিরা বুদ্ধিমান কেন এ নিয়ে এবং এটা এ অঞ্চলের ফুড হেভিটের জন্যে এসব আলোচনায়।

বাংলাদেশিরা মাছ খায় বেশি। নোনা ও মিঠা সব পানির মাছ পাওয়াও যায় বেশি। তাজা মাছ। মাছের তেলের পুষ্টিগুণ ব্রেইনের গঠনের জন্যে খুবই ভালো।

তবে আমাদের ভবিষ্যত খুব একটা ভালো না। ইদানিং যেভাবে ব্যবসায়ীরা মাছ, মাংস, ফলমূল, তৈল, সবজিতে ভেজাল ও বিষাক্ত ক্যামিকেল দিচ্ছে তাতে আগামী পঞ্চাশ বা একশো বছরে এদেশের ঘরে ঘরে দুইটা বা তিনটা বাচ্চা প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নেবে। বুদ্ধিমান জাতি থেকে আমরা পরিণত হব সুবিশাল বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এক জাতিতে।

ভেজাল ব্যবসায়ী সমাজের এসব কুলাংগারদের লাগাম এখনই টেনে ধরা উচিত। এদেরকে কঠিন শাস্তির আওতায় (ফায়ারিং স্কোয়াড) আনা উচিত, তা সে যত টপ লেভেলের ব্যবসায়ী হোক। এসব কুলাংগাররা একটা জাতিকে সুকৌশলে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

(বানান পরিমার্জিত) 

ওডি/এএন 

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড