• মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯, ৪ আষাঢ় ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

আড়ংকে বাঁচাতে হবে

  অধিকার ডেস্ক ০৪ জুন ২০১৯, ১৬:১৬

আড়ং
ছবি : সংগৃহীত

আড়ং নিয়ে আমি গর্ব করি। নিজেদের একটি ফ্যাশন হাউসের ব্র্যান্ড ভ্যালু দাঁড়িয়েছে, কাছাকাছি বিদেশেরগুলো সকলে চেনে, এর চেয়ে শ্লাঘার আর কী আছে?

আমাদের অনেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের টাই বাংলাদেশে তৈরি, লিভাইস বা রালফ লরেন-এর বানানো পোশাকের বেশিরভাগই বাংলাদেশে বানানো হয়েছে বলে খুশি হই, খুশি হওয়াই উচিত।

কিন্তু এসব তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে আমরা দর্জির দায়িত্ব পালন করি মাত্র, ডিজাইন বা সেলস্-মার্কেটিং- এর কোনোটাই আমরা করি না। তাই বিশাল ওই বাণিজ্য যজ্ঞে এত কষ্ট করেও আমাদের পাওনা নামমাত্র।যতদিন আমরা নিজস্ব ব্র্যান্ড না তৈরি করব, নিজেরা নেবে সব দায়িত্ব, ততদিন পর্যন্ত কিন্তু এই খুঁদ-কুড়ো নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে আমাদের।

আড়ং তার যাত্রার শুরু থেকে প্রায় তিন দশক ধরে একটি ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেছে।ডিজাইনের স্বকীয়তায় প্রায় রুখে দিয়েছে ভারতীয় আধিপত্য। অভিজাত বা দামি ব্র্যান্ড বলতে ভারত-পাকিস্তান, এমনকি অ্যামেরিকা ক্যানাডার পোশাক নয়, আমরা আড়ংকেই বুঝি। শুধু তাই নয়, আড়ংকে অনুসরণ করে বা হাত ধরে আরও অনেকগুলো দেশি ফ্যাশন আউটলেট এসেছে৷ সেই দেশি ১০ কুঁড়ি বা ত্রিশ ভালো ব্যবসাও করেছে৷

কথা হচ্ছে আড়ং বেশি দাম রাখে কি না? অবশ্যই বেশি দাম রাখে এবং রাখাই উচিত। আমি ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশের সর্বোচ্চ ক্যাটাগরিতে ট্যাক্স দেই, কিন্তু আড়ংয়ের জামাকাপড় আমার হাতে গোণা কয়েকটাই, আমার স্ত্রী বা মেয়ের আরো কম। মূলত দামের জন্যই আমরা আড়ংয়ে কেনাকাটা কম করি, আরেকটি কারণ ভিড়; সারাক্ষণই সেখানে মানুষ গিজগিজ করে, অন্য দোকানে গেলে বিক্রয়কর্মীরা খুশি হয়, আড়ংয়ে হয় বিরক্ত; এত এত বেচাকেনা করতে গিয়ে তারা হয়ত ক্লান্ত হয়ে পড়েন!

আমি মনে করি, ফ্যাশন হাউসের জন্য দাম বেঁধে দেওয়া হাস্যকর। দাম বেশি মনে হলে কিনবেন না সেখান থেকে। মিটে গেল! এখন যদি কেউ বলে যে, এইসবের জন্যই দেশ উচ্ছন্নে যাচ্ছে, দেশে দুর্নীতি হচ্ছে, তবে তার সঙ্গে দ্বিমত করা ছাড়া আমার করার কিছু নেই। আড়ংয়ের শাড়ি-পাঞ্জাবির বেশি দাম সত্ত্বেও যে আমরা তা কিনতে চাই বিপণনের বিবেচনায় সেটাই ওর ব্র্যান্ড ভ্যালু।

আমি জোর দিয়ে বলি, ১০০ টাকার কাপড় ২০০ টাকা মজুরির একটি পোশাকের দাম হাজার টাকার বেশিও হতে পারে৷ ভালো না লাগলে তা না কেনার অপার স্বাধীনতা আপনার রয়েছে৷

এবার গতকালের প্রসঙ্গে আসি। জানলাম, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গতকাল আড়ংয়ের একটি আউটলেটে গেছেন, হঠাৎ দাম বেশি রাখার অভিযোগে জরিমানা করেছেন, বন্ধ করে দিয়েছেন সারা দিনের জন্য। আমার প্রশ্ন– এই কাজটি ঈদের দুই দিন আগে কেন করতে হলো? এই অভিযোগে দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তই বা কেমন করে দিলেন ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব? যারা আড়ংয়ের জামা কিনবেন ঠিক করেছিলেন, দাম বেশি দিতেও যারা রাজি ছিলেন, তাদের বঞ্চিত করার এই আইনি শক্তি কোথায় পেলেন তিনি? বলা হচ্ছে, এই সাহসিকতার জন্য নাকি তাকে বদলি করা হয়েছে?

মজার বিষয় হলো কর্তৃপক্ষ গতকাল বলেছিল এই বদলির সঙ্গে আড়ংয়ে অভিযানের কোনো সম্পর্ক নেই।আজ আবার বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তা স্থগিত করা হয়েছে! মানে কী? কী বার্তা আমাদের দিচ্ছেন নীতিনির্ধারকেরা!

প্রসঙ্গে ফিরে আসি, আমি খেয়াল করেছি, প্রতি বছর ভারতীয় ক্রেতা পাকিস্তানি কায়দার নানা পোশাক নানা নাম ধরে আমাদের দেশে আসে। আমরা হুমড়ি খেয়ে দ্বিগুণ তিনগুণ দাম দিয়ে সেগুলো কিনি। কিনি অনেকটা বাধ্য হয়েই। আমাদের নিজস্ব ব্র্যান্ডগুলো না দাঁড়ালে এই কেনা আর কাটা পড়া আমাদের অব্যাহত থাকবে। এই যুদ্ধে আড়ং আমাদের পথপ্রদর্শক৷

তবে আরও একটা বিষয় আমাদের একটু নজর করা উচিত৷ গতকাল আড়ং কাহিনির পর সামাজিক গণমাধ্যম আড়ং নিন্দায় ভরে গেছে৷ দেশের প্রধান ফ্যাশন ব্র্যান্ড হওয়া সত্ত্বেও কেন তারা এতটা অজনপ্রিয়, ন্যায়ভিত্তিক ব্যবসা তারা করছে কি না এটিও নিশ্চয়ই তারা ভেবে দেখবেন৷

লেখক : খালেদ মুহিউদ্দীন, প্রধান, ডয়চে ভেলের বাংলা বিভাগ। 

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড