• বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন

রহমত, মাগফিরাত আর নাজাতের অপূর্ব সম্মিলনের মাস রমজান

  সুলতান মাহমুদ বান্না ০৭ মে ২০১৯, ১৭:০৬

রহমত, মাগফিরাত আর নাজাতের অপূর্ব সম্মিলনের মাস রমজান মাস। মহান রাব্বুল আলামীন তার অনুগত বান্দাদের জন্য সকল প্রকার উপহার, উপটৌকন আর জৌলুসের পসরা নিয়ে হাজির এই মাসে। আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাসী তথা মুমিন মুসলিমদের এবাদাতে করাঘাত করছে এই গৌরবময় এবাদাত সাওম। মাহে রমজান আমাদের মাঝে মানবিক সেতুবন্ধন তৈরী ও তার চর্চার অপূর্ব সুযোগ। পৃথিবীতে শাশ্বত দীনের তথা ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী সকল ব্যক্তিরই প্রেমময় ছোঁয়ায় ইমানের পথ মজবুতের বার্তা ও প্রশিক্ষণ নিয়ে আগমন ঘটে প্রতিটি রমজানের। যেন একটি উৎসবমুখর পরিবেশ। আমরা মনে করি ‘সাওম’ মুসলিমদের শানিত করার মাধ্যমে পৃথিবীর সকল সৃষ্টির প্রতি মানবিক হওয়ার মাধ্যমে একটি শান্তির পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়তা করে।

ছোট্ট এই জীবনের শিলালিপিতে আমরা ইমানের কালি দিয়ে মানবিক সমৃদ্ধির স্রোতধারাকে আরো গতিশীল ও চলমান রাখতে পারি এই রমাজানের ৩০ টি দিনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে। প্রতি বছরের বাকী ৩৩০ দিনের শূন্যতা কাটিয়ে পুনরায় রমজানের সঙ্গে আমাদের সাক্ষাৎ। রমজানের প্রকৃত শিক্ষাই মানুষে-মানুষের বিভেদ ভেঙে দিতে পারে। রহমত, মাগফিরাত আর নাজাতের সৌরভ বিলিয়ে গোটা পৃথিবীকে শান্তির ছোঁয়ায় উদ্ভাসিত করতেই এই রমজান। রমজানে ঘরে ঘরে পড়ে যায় ইবাদতের নির্মল আবহ। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো আমাদের এই চির সবুজ নাতিশীতোঞ্চ আবহাওয়ায় শহর-নগর আর গ্রামগঞ্জের পাড়ামহলসহ সর্বত্রই বিস্তার করছে একটি ঐশরিক ভিন্ন আমেজ। কারণ, মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন, রমজানের রোজা আমার জন্য এবং আমি নিজ হাতে এর প্রতিদান দেব।’রাসুল (সাঃ) তাঁর একটি খুতবায় বলেছেন, হে মানবসকল! তোমাদের কাছে সমাগত এক মহান মাস, তাতে রয়েছে এমন এক রাত যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। রব্বুল আলামিন এ মাসে রোজাকে করেছেন ফরজ আর তারাবিকে করেছেন নফল। যে ব্যক্তি এ মাসে একটি নফল আদায় করে সে যেন অন্য সময় একটি ফরজ আদায় করল, আর যে ব্যক্তি একটি ফরজ আদায় করল সেজন্য অন্য সময়ের ৭০টি ফরজ আদায় করল।’

রমজানে আমরা তখনই সার্থক হবো, যখন রমজানে নিজেদের পূর্ণ সময়টাকে আল্লাহর ইবাদতের জন্য ঢেলে সাজিয়ে নেবো। রমজানে অধিক হারে নফল ইবাদত করার চেয়েও নিজেকে সম্পূর্ণরূপে গুনাহ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা বেশি করতে হবে। গুনাহমুক্ত সাওম পালন করার মাঝেই এ মহিমাময় মাসের আসল সার্থকতা নিহিত। এ ছাড়া তওবাকারীর জন্য এ রমজান মাসই গুনাহ মার্জনার মোক্ষম সময়। বিশেষ করে রমজানের শেষ রাতে আল্লাহর রহমতের দরিয়া উত্তাল থাকে। এ মাসে বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত ও বুঝে পড়া এবং আল্লাহর কাছে ইসতিগফার করা অর্থাৎ ক্ষমা চাওয়া, জান্নাত চাওয়া ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাওয়া। অন্যান্য সময়ের চাইতেও রমজান মাসে আরও অধিক পরিমাণ এবাদত করা। এ মাসে আমাদের আশে-পাশের সকলকে যথাযথভাবে সহায়তা করা যাতে, তারাও পূর্ণতার সঙ্গে এ মাসে ইবাদত করতে পারে। এ প্রসঙ্গে রসুল (সাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসে তার চাকর-বাকরদের কাজের বোঝা হালকা করে দেবে, আল্লাহ তাকে মাফ করে দেবেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন।’

আমাদের কর্তব্য আল্লাহর রহমতের পাওয়ার চেষ্টা করা ও তাঁর প্রতি সর্বদা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বেশী বেশী এবাদত করা। এ মাসের ফজিলত ও তাৎপর্য অনুধাবনে সচেষ্ট হওয়ার জন্য যতটুকু সম্ভব কোরআন এর অর্থসহ বুঝে পড়া এবং আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি কোন প্রকার ক্ষতি না করে সব কল্যাণকর কাজে নিয়োজিত থাকা। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এই পবিত্র মাসে আমাদেরকে সকল প্রকার মানবিক গুণাবলীতে কাজ কর্ম করার সক্ষমতা ও কল্যাণ দান করুন। যাতে আমাদের রমজানের অ্যালবাম হয়ে ওঠে চিরসুন্দর ও দৃষ্টিনন্দিত। আমীন!!

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড