• বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১১ বৈশাখ ১৪২৬  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন

ক্যাম্পাসকৃষি গড়বে সবুজ শিক্ষাঙ্গন

  ইফরান আল রাফি ০১ এপ্রিল ২০১৯, ০৯:৫২

ক্যাম্পাসকৃষি
ছবি : প্রতীকী (ইনসেটে লেখক ইমরান আল রাফি)

প্রাচীন থেকে শুরু করে বর্তমান সময়কাল পর্যন্ত কৃষি গৌরব ও ঐতিহ্যময় পেশা হিসেবে স্বীকৃত। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সভ্যতার আধুনিক ভিত্তি রচনা করেছে গ্রাম বাংলার কৃষকরা। তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়ন ও সময়ের পরিবর্তনের ফলে কৃষি স্থানবিশেষে বিভিন্ন নাম ধারণ করেছে। উদাহারণস্বরুপ বলা যেতে পারে নগরকৃষি বা ছাদকৃষি যা শোভাপাচ্ছে নগরীর বহুতল ভবনে।

উল্লেখ্য, শহরের যান্ত্রিক জীবনে গ্রামীণ প্রশান্তি এবং রাসায়নিক বালাইনাশক ও ফরমালিনমুক্ত শাকসবজি ও ফলমূলের জোগান দিতেই মূলত ছাদকৃষিতে নগরবাসীর পথচলা। ছাদকৃষি কিংবা নগর কৃষির ন্যায় ক্যাম্পাসকৃষি হচ্ছে এক নতুন ধারণা যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রাবাস, হল, হোস্টেল ও ডরমেটরিগুলোকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ মনোরম রাখতে উল্লেখ্যযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

বর্তমানে ছাত্রবাসগুলোতে আধুনিক সকল সুবিধা থাকলেও সবুজ বৃক্ষরাজি তেমন কোনো নজরে আসে না। বিশেষ করে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ ছাত্রাবাসে শিক্ষাজীবন অতিবাহিত করে। শোভাবর্ধনকারী সবুজ বৃক্ষরাজি পট অথবা টবে লাগিয়ে নিজ নিজ ছাত্রবাসের পরিবেশ সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখাই ক্যাম্পাসকৃষির উদ্দেশ্য।

ছাত্রাবাসগুলোর বারান্দা, করিডোর অথবা ছাদ হতে পারে বৃক্ষরাজি রোপণের উপযুক্ত স্থান। এই সুযোগ থাকার সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের ব্যক্তি উদ্যোগে ছাত্রাবাসগুলোতে শোভবর্ধনকারী বৃক্ষরোপণে তেমন একটা আগ্রহ লক্ষ্য করা যায় না। শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসকৃষিতে আকৃষ্ট করতে শিক্ষার্থীদের অব্যবহৃত পানির বোতল, প্লাস্ট্রিকের কৌটা অথবা সফট ড্রিংকসের বোতলকে টব অথবা পট হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে এক্ষেত্রে খরচ অনেকটা কমে আসবে এবং প্লাস্টিক দূষণ হ্রাস পাবে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন থাকবে।

টবে শোভাবর্ধনকারী বৃক্ষ হিসেবে গাঁদা, ক্যাকটাস, ডালিয়া, জিনিয়া, কসমস, অগ্নিশ্বর, ক্ষুদে বাঁশ এবং ঔষধি বৃক্ষ হিসেবে ঘৃতকুমারী, তুলসি, থানকুনি বৃক্ষ রোপণ করা সম্ভব। প্রতিটি টব বা পট হবে এক একটি অক্সিজেন ব্যাংক। অ্যাকাডেমিক পড়াশোনা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমের পর অবসর সময়ে গাছের পরিচর্যায় সময় অতিবাহিত করলে শিক্ষার্থীরা পাবে মনতুষ্টি এবং ঘুম ভাঙার পর যার ভোর শুরু হবে এমন এক সবুজ মনোরম পরিবেশে তার কাছে এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে।

ক্যাম্পাসকৃষিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সেচ্ছাসেবী সামাজিক আন্দোলন হিসেবে গড়ে তোলা এখন সময়ের প্রয়োজন। গাছের পরিচর্যায় গাছের প্রতি ভালোবাসা জন্মাবে যা মাদকসহ বিভিন্ন অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখবে শিক্ষার্থীদের। নতুন প্রজন্মের এই শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যেত।

শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও ইচ্ছা শক্তিই পারে আগামীর সবুজ পৃথিবী উপহার দিতে এবং পরিবেশ দূষণ রোধ করতে সহায়ক ভূমিকা। সেইদিন বেশিদূরে নয় যেদিন নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসকৃষিকে স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক আন্দোলনে রূপদানের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

লেখক : শিক্ষার্থী, কৃষি অনুষদ, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ওডি/আরএআর

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড