• মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

'ইলিশ-সচেতনতা' অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সহায়ক হবে

  সম্পাদকীয়

১৬ মার্চ ২০১৯, ১৪:২২
সম্পাদকীয়

অবৈধ জাল ফেলবো না, জাটকা-ইলিশ ধরবো না।' এ শ্লোগান সামনে রেখে দেশব্যাপী জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ উদযাপিত হতে যাচ্ছে  ১৬ থেকে ২২ মার্চ। বলা বাহুল্য যে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ইলিশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। দেশের মোট জিডিপিতে এর অবদান ১ দশমিক ১৫ শতাংশ।

দেশে উৎপাদিত মোট মাছের ১২ শতাংশ ইলিশ থেকে আসে। আর্থিক মূল্যে এর পরিমাণ প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকার মতো। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পর যেটুকু রপ্তানি করা যায়, তা হতে দেড়শো থেকে তিনশো কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়।

বর্তমানে ইলিশ মাছ আহরণে সরাসরি নিয়োজিত মানুষের সংখ্যা পাঁচ লক্ষের মতো হলেও পরিবহণ, বাজারজাতকরণ, নৌকা ও জাল প্রস্তুতকরণসহ ইলিশের সাথে জড়িত কর্মকাণ্ডের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থেকে জীবিকা নির্বাহ করছে এমন মানুষের সংখ্যা প্রায় বিশ থেকে পঁচিশ লক্ষ।

পরিসংখ্যান বলছে, গত ত্রিশ বছরে দেশে ইলিশের উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত থেকে ধারণা পাওয়া যায়, সরকার-ঘোষিত নিষিদ্ধ আট মাস যদি জাটকা শিকার বন্ধ রাখা যায় তাহলে ২১ থেকে ২৪ হাজার কোটি নতুন পূর্ণবয়স্ক ইলিশ পাওয়া সম্ভব।

এ বছর ইতোমধ্যেই ইলিশ মাছের ডিম ছাড়ার মৌসুম পেরিয়ে গেছে; এখনই ছোট ইলিশের বেড়ে ওঠার সময়। তাই, এ সময়ে কোনোভাবেই মাছ ধরা উচিত নয়। কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, জেলেদের মধ্যে এসব বিষয় বিবেচনার তেমন কোনো আগ্রহ কখনোই দেখা যায় না। তাই ছোট মাছ ধরা থেকে তাদের বিরত রাখতে সরকার নানা সময়ে নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে থাকে।

এরই একটি অংশ হিসেবে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ইলিশের অভয়ারণ্য হিসেবে চিহ্নিত অংশগুলোতে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।কিন্তু প্রকৃত বাস্তবে, এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন৷

ইতোমধ্যেই শরীয়তপুরে পদ্মা নদীর বিশ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ইলিশের অভয়ারণ্যে সরকারি নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে ইলিশ শিকারের খবর পাওয়া গেছে। মৎস্য বিভাগ অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৪৪ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়ার ব্যবস্থা করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও একটি স্পিডবোট, চারটি নৌকা এবং এক লক্ষ বিশ হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়েছে। এ সকল সংবাদই প্রমাণ করে, আইন বা নির্দেশনা জারি করে এ সমস্যা সমাধান দুরূহ।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বলছে, ১৯৮৬ সালের পর দেশে ইলিশের উৎপাদনে ভাটা পড়ে৷ গবেষকেরা মত দেন, উৎপাদন হ্রাস পাওয়ার জন্য জাটকা নিধনই প্রধানরূপে দায়ী। এরপরেই জাটকা নিধন বন্ধে সামাজিক আন্দোলন শুরু হয়। এর সুফলও হাতে হাতে পাওয়া গেছে৷

তাই যে কোনো বিবেচনাতেই ইলিশ মাছ চাষের খাতকে আরও লাভজনক পর্যায়ে উন্নত করতে হলে নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে ইলিশসহ যে কোনো মাছ ধরা, ক্রয়-বিক্রয়, মজুদ ও সরবরাহ যাতে একেবারে বন্ধ থাকে, সে ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে সজাগ থাকতে হবে। এ সময়কালে জেলেদের জীবননির্বাহে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেদিকে লক্ষ রেখে তাদের জন্য প্রণোদনা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। এ বছর জেলেদের পুর্নবাসনে ৮ হাজার ১৯০ দশমিক ৪ মেট্রিক টন চাল দেয়া হবে বলে ইতোমধ্যেই জানা গেছে৷ এ পরিমাণটি যথেষ্ট কি না সেটা বিবেচনা করে দেখতে হবে। সেই সাথে সুষ্ঠুভাবে তত্ত্বাবধান করতে হবে যেন এ সহায়তার সম্পূর্ণটাই জেলেদের কাছে ঠিকঠাকভাবে পৌঁছায়।

জাটকা নিধন সংক্রান্ত বিষয়ে জেলেদের সচেতন করে তোলার স্বার্থে নানাবিধ সচেতনতামূলক ব্যবস্থাও গ্রহণ করা যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে মাসব্যাপী সচেতনতামূলক ভিডিওচিত্র প্রদর্শন, টেলিভিশনসহ সকল ধরনের ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় প্রচার-প্রচারণা ও নিষিদ্ধকালীন সময়জুড়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জাটকা সংরক্ষণ আইনের প্রচারের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। পাশাপাশি কঠোর পুলিশি তৎপরতাও জাটকা নিধন রোধে দারুণ ভূমিকা রাখতে পারে।জাতীয় স্বার্থে প্রশাসন এ বিষয়ে অনমনীয় অবস্থান গ্রহণ করবেন— এটাই কাম্য।

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড