• বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১১ বৈশাখ ১৪২৬  |   ৩৫ °সে
  • বেটা ভার্সন

গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির অনৈতিক প্রস্তাব বাতিল হোক

  সম্পাদকীয় ১৫ মার্চ ২০১৯, ১৫:১৭

সম্পাদকীয়

জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য নিয়ন্ত্রণকারী সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এর কাছে সম্প্রতি সকল প্রকার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে তিতাস গ্যাস কোম্পানি৷ তাও আবার একটু-আধটু নয়, এক ধাক্কায় গড়ে প্রায় ১০৩ গুণ দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে কোম্পানিটি৷ গত বছর অক্টোবরেও একবার গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে; সে হিসেবে চলতি অর্থবছরে এটি দ্বিতীয়বার মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব৷ বিইআরসি এর আইন বলছে, একটি অর্থবছরে একবারের বেশি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করা যাবে না; তারপরেও ঈর্ষণীয় লভ্যাংশের উপর দাঁড়িয়ে তিতাসের এ ধরনের প্রস্তাব কেবল অনৈতিক ও আইনবহির্ভূতই নয়, বিস্ময়করও বটে!

ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের তথ্যমতে, গত কয়েক বছরে শিল্পকারখানায় মজুরি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যয় বৃদ্ধির দরুণ পণ্যের উৎপাদনব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ২৯ শতাংশ৷ এমন পরিস্থিতিতে পুনরায় গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব দেশের উৎপাদনব্যবস্থার জন্য একটি অশনিসংকেত বললেও অত্যুক্তি হবে না৷ বস্তুত গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সাথে ব্যবসায়-বাণিজ্য তো বটেই, সাধারণ মানুষের জীবনধারণের নানান গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেরও সুগভীর সম্পর্ক রয়েছে৷ প্রথমত, পুনরায় গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির ফলে স্বাভাবিকভাবেই শিল্পকারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে৷ এর অর্থ হলো, অতি দ্রুত পণ্যদ্রব্যের মূল্যও বৃদ্ধি পাবে৷ বলার অপেক্ষা রাখে না যে উৎপাদনব্যয় যে হারে বৃদ্ধি পাবে, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাবে তার প্রায় দ্বিগুণ হারে৷ দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির অবধারিত ফলস্বরূপ মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে, বাড়বে সাধারণ মানুষের জীবনধারণের ব্যয়৷ মোটকথা, সামগ্রিক অর্থনীতিতেই এর একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়ার প্রায় শতভাগ সম্ভাবনা রয়েছে৷

এছাড়াও, এ মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর৷ একদিকে সকল ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা যেমন কমে যাবে, অপরদিকে বিদেশি ক্রেতাদের সাথে দরকষাকষিতে সুবিধা করতে না পারলে বাধাগ্রস্ত হতে পারে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা৷ বিনিয়োগ ও শিল্পোন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ ধরনের বাধাগুলো দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির ওপরেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে৷

উৎপাদন ও রপ্তানিখাতে বাংলাদেশের চলমান অগ্রগতি ধরে রাখতে এবং শিল্পক্ষেত্রে উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত করতে যেখানে নানা ধরনের প্রণোদনার ব্যবস্থা তৈরির ব্যাপারে চিন্তাভাবনা হওয়া দরকার, সেখানে উল্টো এ ধরনের অযাচিত প্রস্তাবনা দেশের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশকে প্রশ্নবোধক চিহ্নের সামনে এনে দাঁড় করাবে৷ শিল্পোদ্যোক্তাগণ নতুন বিনিয়োগের আগ্রহ হারিয়ে ফেললে কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে, যেখানে সরকারপ্রধান ইতোমধ্যেই নতুন কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগ সৃষ্টির ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ৷

তবে এ সমস্যা যে আজকের, তা নয়৷ সাধারণভাবেই, আমাদের দেশের অভ্যন্তরে একজন নতুন বিনিয়োগকারীর পক্ষে তার উৎপাদনব্যয় সম্পর্কে পূর্বধারণা অর্জন করাটা অতি দুঃসাধ্য একটি ব্যাপার৷ কেননা, এখানে কোনোরূপ পূর্বাভাস ছাড়াই জ্বালানীব্যয় হুটহাট পরিবর্তন হয়ে যায়৷ একজন নতুন বিনিয়োগকারীর পক্ষে তাই অনেক সময়ই সম্ভাব্য ক্ষতির ঝুঁকির বিপরীতে কোনো রকম আগাম ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয় না৷ এ পরিস্থিতি বিনিয়োগব্যবস্থার ওপর এক ধরনের হুমকি, যা শিল্পোদ্যোক্তা তৈরির পথে নিঃসন্দেহে একটি বড় বাধা৷

ব্যবসায়-বাণিজ্যের বাইরেও, আবাসিক পর্যায়ে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি দারুণ নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে সন্দেহ নেই৷ মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবমতে, রান্নাঘরে গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর এ বাবদ মাসিক ব্যয় বাড়বে অন্তত ৬০০ টাকা, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়৷ সাধারণ মানুষের জীবন নির্বাহের ব্যয় হঠাৎ করে এ পরিমাণে বৃদ্ধি পেলে তা রাষ্ট্রীয় অসন্তোষে রূপ নিতে পারে৷ এবং এমনটি হলে তা সরকারের ভাবমূর্তি আশঙ্কাজনকভাবে ক্ষুণ্ন করবে৷ তাই সব দিক বিবেচনায় গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির এ ধরনের হঠকারী প্রস্তাব সন্দেহাতীতভাবে বাতিল হওয়া উচিত৷

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড