• শনিবার, ২৩ মার্চ ২০১৯, ৯ চৈত্র ১৪২৫  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

ডাকসু নির্বাচন ২০১৯ ৷৷ নতুন সম্ভাবনা, নাকি পুরাতন সংকটের পুনরুজ্জীবন?

  সম্পাদকীয় ১৪ মার্চ ২০১৯, ১৩:৫৬

সম্পাদকীয়

২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন৷ সুদীর্ঘ সময় পর এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় তফসিল ঘোষণারও বেশ আগে থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসব-উন্মাদনা দৃশ্যমান হয়েছে৷

কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই নয়, দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়সহ সামগ্রিকভাবে সারা দেশের মানুষের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন ইস্যুটি গত মাসখানেক ছিল 'টক অব দ্য কান্ট্রি'৷ নানা রকম প্রত্যাশা ও সম্ভাবনার বুননে নতুন কোনো ভোরের প্রতীক্ষা ছিল সর্বসাধারণের মনের ভেতর, যে নতুন ভোর সকল অপ্রাপ্তি-অভিযোগ-অনাস্থা ছুড়ে ফেলে নব-আশায় উজ্জীবিত হবার প্রেরণা জোগাবে৷ গত বেশ কিছুকাল ধরে দেশের নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে যে একটা আশঙ্কাজনক অবিশ্বাসের জায়গা তৈরি হয়েছিল সারা দেশের মানুষের মনে, সেখান থেকে বের হয়ে আসার একটি মোক্ষম সুযোগ ছিল ডাকসু নির্বাচন৷ আর সে কারণেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন হলেও এর উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছিল সারা দেশে৷

গত ১১ মার্চ অতিনাটকীয় ঘটনাবলির মধ্য দিয়ে বহুল প্রতীক্ষিত এ নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হলো৷ এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা কী অর্জন করলাম বা কী হারালাম, কোন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মুক্ত হলো বা কোন নতুন সংকট সৃষ্টি হলো— তার ব্যবচ্ছেদ হওয়া প্রয়োজন৷

গত ৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে সকল অনিয়মের কথা বিরোধীপক্ষ বলে আসছিল, দুদিন আগে সিইসি কর্তৃক একটি বক্তব্যে তার সত্যতার যে ইঙ্গিত ছিল, সেখানে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রীয় হিতার্থে ডাকসু নির্বাচনকে যে কোনো মূল্যে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করে তোলাটা আবশ্যক ছিল৷ অথচ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতোই এ নির্বাচনেও আগের রাতে ব্যালটবাক্স ভর্তি করার অভিযোগ পাওয়া গেল৷ যার সরেজমিন প্রমাণ মিললো বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে৷ এ ঘটনাটি নির্বাচনের শুরুতেই অত্যন্ত হতাশাজনক একটি পরিস্থিতি তৈরি করলো যা কোনোভাবেই কাম্য ছিল না৷ যদিও এ সকল ব্যালট পেপার বাতিল করে পুনরায় নতুন করে ভোটগ্রহণ করা হয়, কিন্তু নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ হবার হাত থেকে রক্ষা করা গেল না৷

নির্বাচনের শুরু থেকেই সরকারপক্ষীয় ছাত্র সংগঠনটির বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের নানা অভিযোগ উত্থাপিত হলেও এবং নির্বাচনপ্রক্রিয়ার নানান পর্যায়ে বিরোধীপক্ষীয় সংগঠনগুলোর দ্বিমত ও তাদের প্রস্তাবনাসমূহ বাতিল করা হলেও নির্বাচনের ঠিক আগে আগে ক্যাম্পাসে একটি রাজনৈতিক সহাবস্থানের যে সাময়িক পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তা ছাত্র-শিক্ষক নির্বিশেষে সকলের মধ্যে এক ধরনের আশার সঞ্চার করেছিল৷ এর পরেও নানান শঙ্কা ছিল, নির্বাচন বিষয়ে নানান অনুমিত নেতিবাচক সম্ভাবনাও ছিল৷ শেষমেশ কি তবে সেই নেতিবাচক অনুমিত সম্ভাবনাই সত্য হলো?

নির্বাচন শেষ হবার কিছু সময় পূর্বেই সকল বিরোধী সংগঠনের নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা, পঁচিশটি পদের তেইশটিই যাদের দখলে, সর্বোচ্চ পদটিতে তাদের শোচনীয় পরাজয়, পরাজিত হওয়া পদ দুটোতে পুনঃনির্বাচনের দাবীতে আন্দোলন, বিপক্ষ সংগঠনগুলো কর্তৃক সম্পূর্ণ নির্বাচনটি বাতিলপূর্বক নতুন তফসিলের দাবীতে আন্দোলেন ডাক— এ যেন দেশের অন্য সব নির্বাচন ও নির্বাচনপরবর্তী দৃশ্যমালার একটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণ৷ দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং সারা দেশেই রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি গুণগত পরিবর্তনের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে সে সকল সম্ভাবনার পথ অনেকটাই রুদ্ধ হয়ে গেল, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অভ্যন্তরে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক চর্চা ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার চর্চার ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকরূপে প্রতীয়মান হবে— এ কথা সন্দেহাতীতভাবে বলা যায়৷

এ সকল দিক বিবেচনায় নিয়ে ডাকসু নির্বাচন-পরবর্তী অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দক্ষ হাতে কাজ করতে হবে৷ পরিস্থিতি যেন আরও অবনতির দিকে না যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ যেন কোনোভাবেই বিনষ্ট না হয়, সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রার্থীরা যাতে কোনোভাবেই কোনো রকম হয়রানির শিকার না হন— এ বিষয়গুলো অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই৷ নতুন নির্বাচন হোক বা না হোক, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সকল অনিয়মের অভিযোগকে সত্যতা ও সচ্ছতার আয়নায় ভুল প্রমাণ করতে সমর্থ হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী তাদের যোগ্য প্রতিনিধি হিসেবে ডাকসু কাজ করবে— এটাই এখন একমাত্র চাওয়া৷ আর যদি তা নাও হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মান ক্ষুণ্ন হয় বা মর্যাদা আরও কঠিনভাবে ভূলুণ্ঠিত হয় এমন কোনো ঘটনার নতুন কোনো পুনরাবৃত্তি হবে না— এটুকু অন্তত নিশ্চিত করা হোক৷

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড