• সোমবার, ২৭ মে ২০১৯, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন

নারী দিবস আর আমাদের হিপোক্রেসি!

  সাজ্জাতুল ইয়াকিন কসমিক ০৮ মার্চ ২০১৯, ১৫:১৪

প্রতীকী
ছবি : প্রতীকী

বিশ্ব নারী দিবস, চারদিকে নানান আয়োজন। আমরা আজকাল দিবস ভিত্তিক সব আয়োজনে বিশ্বাসী! ঐ যেমনটা বাবা দিবসে বাবা বাকী দিন তালোই মশাই অথবা মা দিবসে মা অন্য সময় মাসি-মা টাইপ। আর এজন্যেই নারী দিবসে যে নারীর সম্মান দেখিয়ে ভরে উঠে সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা প্রিন্ট মিডিয়ার পাতা, অন্য দিন সেই নারীই যেন কলা গাছ, যে যেভাবে পারছে ব্যবহার করে নিচ্ছে।

মূল কথা হচ্ছে, প্রেম করে যে ঠোঁটে চুম্বন করার জন্য মন উথাল পাথাল করে আবার স্পর্শ করা শেষ হয়ে গেলে সেই ঠোঁটকেই বলে উঠি কি বাজে মেয়েরে বাবা! ক্যারেক্টার লেস! বিয়ে করার আগে যে মেয়েকে মনে হয় ভাগ্য বদলের চাবিকাঠি, সেই মেয়েই চাবি হাতে খুলে বসে তার অশান্তির পথ আর উপহার পায় তিন বেলার মারধোর। যে বাবা 'মেয়ে চাই', 'মেয়ে চাই' বলে গলা ফাটায়, তার ঘরেই তার মত কালো মেয়ে হলেই মাথায় হাত! হায়রে! বিয়ের বাজারে এই মেয়ে বেচবো কিভাবে? লাখ লাখ টাকা আমি পাবো কোথায়?

আপনি কিংবা আমি সবাই এই নারী দিবসে আশেপাশের নারীর জন্য ফুল বা উপহার নিয়ে যাবো, কেক কাটবো, তুলবো সেলফি আর দেখাবো ভালোবাসা বা সম্মান। ঠিক পরদিনই শুরু হবে খেলা, মা খালা তো এক্সপায়ারড, প্রেমিকা বা এক্স প্রেমিকাকে নিয়ে আবেদনময়ী কথা আর বন্ধুর বউকে নিয়ে... সে আর নাই বললাম। আমরা জনে জনে বলি মেয়েদের সম্মান করুন, মেয়েরা মায়ের মত অথচ না নিজে সেটা করি না অন্যকে মায়ের মত ভাবি। সবাই টিভি রেডিওতে গলা ফাটিয়ে আওয়াজ না করে, ফেসবুকের দেয়াল খামচাখামচি না করে নিজ নিজ জায়গায় বদলে গেলে এই দিবসগুলো আর লাগে না। আলাদাভাবে পালন করার প্রয়োজন আর হয় না। বেঁচে যায় হাজার হাজার টাকা আর মিথ্যে ইমোশনের চাকা। তাহলে প্রতিদিন আর কোনো মেয়েকে বাসে, ট্রেনে আর রাস্তায় আমাদের লালসার চোখে ধর্ষিত হতে হবে না ।

আর এখনকার মেয়েরাও যে একদম সতী-সাবিত্রী বা তুলসী গাছের পাতা, সেটা বলবো না। কিছু মেয়ে অবশ্যই তো আছে যাদের আসলেই মায়েদের সাথে তুলনা করা যায় না, আর তাদের জন্য বাকীদের এই অবস্থা, যেন একদম সম্মান এর জায়গা থেকে সরিয়ে জায়গা করে দিয়েছে ঘৃণার স্থানে। বদলাতে আমাদের সকলেরই হবে, সকলের সকলের প্রতি সমানভাবে সম্মানবোধ গড়ে তুলতে হবে, ভেঙ্গে ফেলতে হবে মিছে দিবস দেখানো আদিখ্যেতা। না হয় কিছুদিন পর শুরু হবে সন্তান প্রজনন দিবস কিংবা বৃদ্ধাশ্রম দিবস বা বিয়ে দিবস অথবা সুন্নতে খাৎনা দিবস!

লেখক : শিক্ষার্থী, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

এমএ

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড