• সোমবার, ২৭ মে ২০১৯, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন

নারী দিবসে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভাবনা

নারী সহিংসতা থেকে মুক্তির উপায় আপনার মগজে

  সাব্বির আহমেদ ০৮ মার্চ ২০১৯, ১০:২৮

প্রতীকী
ছবি : প্রতীকী

'সাম্যের গান গাই- আমার চক্ষে পুরুষ রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই। বিশ্বের যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর। বিশ্বে যা-কিছু এল পাপ-তাপ বেদনা অশ্রুবারি অর্ধেক তার আনিয়েছে নর, অর্ধেক তার নারী।' জাতীয় কবি কাজী নজরুলের এই কবিতা আমাদের বর্তমান সময়ের সাথে কতটুকু সঙ্গতিপূর্ণ তা আজ সময়ের কাছে প্রত্যেক নারীর প্রশ্ন।

আজ ৮ মার্চ। আন্তর্জাতিক নারী দিবস। ১৯৭৫ সাল থেকে প্রতি বছরের ন্যায় এ বারও বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করা হচ্ছে। এবারের নারী দিবসের মূল প্রতিপাদ্য বা স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে 'সবাই মিলে ভাবো, নতুন কিছু করো নারী-পুরুষ সমতার নতুন বিশ্ব গড়ো।'

নারী দিবসে আমাদের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, নারী অধিকারের বর্তমান-ভবিষ্যৎ এসব নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে বর্তমান প্রজন্মের সচেতন নারীরা। নারী দিবস নিয়ে তাদের প্রাপ্তি- অপ্রাপ্তি, বর্তমান-ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে কথা বলেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কিছু শিক্ষার্থী।

সমসাময়িক বিষয় নিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নাসরিন ইসলাম মুন বলেন, '২০১৯ সালে এসে যদি আমাকে আমারই কোনো সহপাঠী বা বন্ধুর কাছ থেকে শুনতে হয় 'চাকরি করে তুমি কি করবা?' তাহলে বলতেই হয় ১৯৭৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে ৮ মার্চ স্বীকৃতি পেলেও বাস্তবিক পক্ষে নারী স্বাধীনতা, নারীর সম-অধিকারে সবাই বিশ্বাসী নয়।

মুন বলেন, 'সভা-সমাবেশ, আলোচনাসভা করে কখনো সম-অধিকার, সম্মান নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, যদি না কেউ তা মননে ধারণ করে, দৃষ্টিভঙ্গি না পাল্টায়। আর দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠে পরিবার থেকে। যে তার মা বা বোনকে যেমন আচরণ পেতে দেখে অভ্যস্ত তার দৃষ্টিভঙ্গি সেভাবেই গড়ে উঠে। ব্যতিক্রম যে নেই তা নয়। তাছাড়া নানাভাবে রাস্তাঘাটে কিংবা কর্মক্ষেত্রে নারীর প্রতি সহিংসতা তো আছেই। নারী-পুরুষ একে অন্যের পরিপূরক। তাই উভয়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া একটি সংসার, একটি সমাজ, একটি দেশ তথা জাতির উন্নতি সম্ভব নয়। প্রথমে আমি একজন মানুষ, তারপর আমি একজন নারী। আর নারীর প্রতি সহিংসতা থেকে মুক্তির উপায় আপনার মননে, আপনার মগজে।'

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আফরোজা মীম এর মতে, 'নারী দিবস আমাদের নারীদের প্রয়োজনীয়তা/অধিকার বারবার মনে করিয়ে দেয়। শুধু গ্রাম নয়, আমাদের শহরেও অসংখ্য বঞ্চিত নারী আছেন। আসলে নারীদের উচিত নিজেরাই নিজেদেরকে উৎসাহিত করা।'

বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ইসমত জেরিন বিনতে নিজাম কিছুটা আক্ষেপের সুরে বলেন, 'পহেলা বৈশাখ; পহেলা ফাল্গুন, বই মেলা, চৈত্র সংক্রান্তি, বাস–ট্রেন, রিকশা সবখানে উত্ত্যক্ত হচ্ছি আমরা। হ্যাঁ কেবল বিশেষ দিনগুলোতে না, প্রতিদিনই উত্ত্যক্ত হচ্ছি আমরা। প্রতিদিনের সাথে বিশেষ দিনগুলোর পার্থক্য এই যে, অন্যান্য দিনে পুরুষ আর পশুকে আমরা পার্থক্য করতে পারি কিন্তু বিশেষ দিনগুলোর ভিড়ে সবাই কেমন যেন পশু হয়ে যায়। নারী নির্যাতনের ঘটনার মুক্তি আপনাদের সকলের মগজে।'

ফাতেমা তুজ জহুরা আখিরা নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, 'যদি নারীদের বর্তমান অবস্থার কথা বলি তাহলে প্রথম যে বিষয়টা সামনে আসে সেটা হলো নারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি। আর এর মধ্যে সবথেকে প্রচলিত দুইটা বিষয় হলো আত্মহনন এবং ধর্ষণের বিষয়টি। আর নারীদের ইভ টিজিং তো আজকাল সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছে। পৃথিবীর অনেকেই এসব সমস্যার মোকাবিলা করছে এবং এসব সমস্যার শিকারের তালিকা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই বর্তমানে আমাদের নারীদের একটাই চাওয়া একটা সুন্দর নিরাপদ পরিবেশ।'

ফারজানা হক নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, 'যে প্রয়োজনীয়তা থেকে নারী দিবসের উৎপত্তি, তার সাথে আজকের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ রূপে ভিন্ন। আজকে নারীরা পদে পদে অবহেলিত, অপমানিত। নারীরা তাদের অধিকার হতে বঞ্চিত হলে সমাজের আশানুরূপ উন্নয়ন কামনা বোকামি হবে। বছরের একটি দিন শুধু সম্মান পেয়ে বাকি দিনগুলোতে রাস্তাঘাটে ইভ টিজিং এর স্বীকার হতে চায় না নারীরা। নারীরা আজও অনেক ক্ষেত্রে নিপীড়িত, অবহেলিত। অনেক নারী তাঁদের অধিকার সম্পর্কে অবগত নয়। নারীরা আজ নারী হিসেবে নয় বরং মানুষ হিসেবে সমাজে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত হতে চায়। আর এটা নারীদের প্রতি কোন করুণা নয় বরং নারীদের অধিকার। আর পুরুষ জাতির বোধগম্য হওয়া উচিত আপনি যখন কোনো নারীকে শ্রদ্ধা করেন, তখন আপনি আপনার নিজেরই সম্মান বাড়ান। তাইতো কাজী নজরুল নারীদের সম্মানার্থে বলেছেন, ''জগতের যত বড় বড় জয়, বড় বড় অভিযান মাতা ভগ্নি বধুদের ত্যাগে হইয়াছে মহান।''

লেখক : শিক্ষার্থী, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

এমএ

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড