• রবিবার, ২৪ মার্চ ২০১৯, ১০ চৈত্র ১৪২৫  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন

কৃষিবিদদের লড়াই সংগ্রামের সূচনালগ্নে ছাত্রলীগ

  ইফরান আল রাফি ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:২৯

কৃষক
ধানক্ষেতে কৃষকরা (ছবি : সংগৃহীত)

কৃষিবিদদের লড়াই, সংগ্রাম ও বিজয়ের ছায়াতলে যার নাম ইতিহাসে অমর হয়ে আছে তিনি হলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধ বিধ্বস্ত মাতৃভূমিকে অর্থনীতিতে স্বনির্ভর করে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ফলশ্রুতিতে বঙ্গবন্ধু কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেন। তিনি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন কৃষি ও কৃষকের উন্নতি ছাড়া বাঙালি জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকার আর এজন্যই তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন কৃষি বিপ্লবের।

তিনি উচ্চতর কৃষি শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণের জন্য বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর, ১৯৬৪ সালে তৎকালীন কৃষিবিদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উচ্চতর বেতন স্কেল ও পদমর্যাদার দাবিতে দুই দফা আন্দোলনে সোচ্চার হন। যৌক্তিক এ দাবির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছিলেন তৎকালীন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ছাত্র-শিক্ষকরা। 

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ৭ জুন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (বাকসু) নির্বাচনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ পূর্ণ প্যানেলে বিপুল ভোটে জয় লাভ করে। বঙ্গবন্ধুর অভিনন্দন বার্তার পাশাপাশি বাকসু নেতাদেরকে গণভবনে সাক্ষাতের আমন্ত্রণ জানানো হয়। সে মোতাবেক বাকসু নেতৃবৃন্দ ১৯৭২ সালের ১৪ জুন গণভবনে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে শুভেচ্ছা সাক্ষাৎ করেন এবং বঙ্গবন্ধুকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার আমন্ত্রণ জানান। 

বিশ্ব শান্তি পরিষদ কর্তৃক বঙ্গবন্ধুকে বিশ্ব শান্তির প্রতীক রূপে 'জুলিও কুরি' স্বর্ণপদকে ভূষিত করায় বাকসু নেতৃবৃন্দ ১৯৭২ সালের নভেম্বরে অভিনন্দিত করতে গেলে বঙ্গবন্ধু আবেগাপ্লুতভাবে কৃষিবিদদেরকে শোষিত বঞ্চিত কৃষক সমাজ সহ নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর জন্য আরও বেগবান ও সম্প্রসারিত হওয়ার নির্দেশ দেন। অবশেষে ১৯৭৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার মধ্যে শত ব্যস্ততাকে অতিক্রম করে নাড়ির টানে ছুটে আসেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি)। 

আগের দিন বিকেলে অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহ পৌঁছেই তিনি তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক কাজী ফজলুল রহিম সাহেবের মাধ্যমে বাকসুর ভিপি ও সাধারণ সম্পাদকে সঙ্গে নিয়ে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজে দেখা করতে বলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চান। উনারা সবিস্তারে বিশ্ববিদ্যালয়ে গৃহীত কর্মসূচি সম্পর্কে বঙ্গবন্ধুকে অবহিত করেন। এক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু কোনো অভিনন্দন পত্র গ্রহণ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এ সময় বাকসু নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা ও দাবি উপস্থাপন করে তাঁকে কোনভাবে বিব্রত করবেননা বলে তাঁকে অঙ্গিকার সূচক মন্তব্য রেখে শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার স্বার্থেই মানপত্র গ্রহণে কোন আপত্তি থাকা যুক্তিযুক্ত হবেনা বলে অভিমত পেশ করেন। এ সময় বঙ্গবন্ধু মানপত্রের কপি দেখতে চান। তাঁকে কপিটি পড়তে দিয়ে জানানো হয় যে, অভিনন্দন পত্রে সৌজন্য প্রদর্শনমূলক ভাষাই রয়েছে। শুধুমাত্র দুই লাইনে কৃষি বিপ্লবের স্বার্থে ডাক্তার, প্রকৌশলীদের মত কৃষি গ্র্যাজুয়েটদেরকেও একই রূপ মর্যাদা দিতে হবে এ মর্মে উল্লেখিত অংশের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করানো হয়। তিনি এ বিষয়ে বিশ্লেষণমূলক ভাষ্য জানতে আগ্রহ প্রকাশ করায় তা অবহিত করা হয়। 

ফলশ্রুতিতে বঙ্গবন্ধু এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন এবং এ বিষয়ে সভায় দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য পেশ করবেন বলে উপাচার্য ও বাকসু নেতাদেরকে আশ্বস্ত করেন। ১৯৭৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বাকসুর ভিপি জনাব মো. নজিবুর রহমান (সাবেক রেজিস্ট্রার বাকৃবি) এবং সাধারণ সম্পাদক ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক (বর্তমান সরকারের কৃষি মন্ত্রী) এর উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আনা হয়। বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসে আবেগাপ্লুত হয়ে যান এবং তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে তার বক্তব্যে একবারও নির্বাচন বা ভোটের কথা বলেননি। তিনি শুধু কৃষি, কৃষক ও কৃষিবিদের নিয়ে কথা বলেছেন। কৃষিবিদ ও ছাত্ররা যখন তাদের পদমর্যাদার দাবি জানান বঙ্গবন্ধু সে দাবি নীতিগতভাবে মেনে নেন। 

তাঁর মতে কৃষিনির্ভর দেশে একই পর্যায়ের পড়াশুনা করে কৃষিবিদরা অন্যান্য পেশার মত প্রথম শ্রেণীর দাবিদার। জাতির জনকের এরূপ আশ্বাস পেয়ে উপস্থিত কৃষিবিদ, ছাত্রছাত্রী তুমুল স্লোগান ও করতালিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান। অবশেষে বঙ্গবন্ধুর মাধ্যমে কৃষিবিদরা ফিরে পেয়েছিলেন যৌক্তিক পদ মর্যাদার অধিকার এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি অমর হয়ে রইল ইতিহাসের পাতায়।

লেখক : শিক্ষার্থী, কৃষি অনুষদ, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড