• শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৪ ফাল্গুন ১৪২৫  |   ২৩ °সে
  • বেটা ভার্সন

শিক্ষিত বেকারের করুণ আর্তনাদ

  আবু সাঈদ জনি ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:৫২

আর্তনাদ
ছবি : প্রতীকী

‘হে দারিদ্র্য তুমি মোরে করেছ মহান’ বিশ্ব কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার একটি লাইন। লাইনটির সঙ্গে আমাদের দেশের তরুণ শিক্ষিত বেকারের কাছে মানানসই নয়। কারণ দারিদ্র্য একটি অভিশাপ। তরুণদের অনেক চাহিদা। এই চাহিদা পূরণ করতে চাই অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা, বেকারমুক্ত জীবন। এদেশের তরুণ শিক্ষিত বেকারের করুণ আর্তনাদ আমাদের সুশীল সমাজকে কলুষিত করে। অভাবের তাড়নায় জঘণ্যতম কাজ করতেও দ্বিধা করে না এই শিক্ষিত বেকার।

বাংলায় একটি প্রবাদ আছে, ‘অভাবে স্বভাব নষ্ট’। মানুষ অভাবে নিমজ্জিত হলে কোনো নীতিবাক্য তার কানে ঢুকে না। যার দরুণ সে যে কোনো ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। আমাদের দেশে বেকারত্ব একটি সামাজিক মারাত্মক ব্যাধি হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এই একবিংশ শতাব্দীর উন্নয়ন, টেকসই প্রযুক্তিভিত্তিক স্বাধীন দেশে বেকারত্ব একটি অভিশাপ। বেকারত্ব বলতে সাধারণত শ্রমশক্তির সেই অংশ যারা একটি নির্দিষ্ট সময়ের মাঝে কাজের সন্ধান করা সত্ত্বেও কোনো কাজ না পাওয়া।

বিভিন্ন ধরনের কাজের চাহিদার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গতিপূর্ণ না হওয়ায় এদেশের শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্প্রতি আমাদের দেশে অনেক উন্নয়ন হয়েছে, কিন্তু সেই উন্নয়নে তরুণ সমাজের অংশগ্রহণ খুবই কম। উচ্চশিক্ষা অর্জন করে প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী বেকারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।

বিখ্যাত সাময়িকী ‘দ্য ইকোনোমিস্ট’ (ই, আই, ইউ) এর প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রায় ৪৭% শতাংশ স্নাতক (সম্মান) পাস করা শিক্ষার্থীরাই এই বেকারের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন। বলতে খারাপ লাগলেও একথা সত্য যে, এদেশের তরুণেরা যত বেশি পড়াশোনা করছে, ততই তাদের বেকার থাকার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বি, বি, এস) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এদেশে বেকারের সংখ্যাটি ২৬ লাখ ৭৭ হাজার, যা গেল বছরের তুলনায় ৮৭ হাজার বেশি। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বি, সি, এস) এ বছর প্রায় সাড়ে ৪ লাখ প্রার্থী আবেদন করেছেন। এতেই প্রতীয়মান হয় যে দেশে তরুণদের বেকারত্ব কতটুকু।

বেকারত্ব পুঁজি করে সম্প্রতি বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের আত্মহত্যার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সালে চাকরি না পেয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সৈকত গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। আবার, যুগান্তরে প্রকাশিত, সরকারি চাকরি না পাওয়ায় ঢাবি ছাত্র তানভীর ৩ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে।

অপরদিকে, একটি বেকার গোষ্ঠী চাঁদাবাজি, ছিনতাই, টেন্ডারবাজি, রাহাজানি, মাদকদ্রব্য সেবন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে আমাদের সমাজকে কলুষিত করছে। একজন বেকারের জন্য পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র কলুষিত হচ্ছে। এই সামাজিক ব্যাধি থেকে আমাদের দ্রুত বেরিয়ে আসতে হবে। আর এজন্য প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা, দক্ষ জনবল ও কর্মসংস্থান। শিক্ষিত জনবলকে সরকারি চাকরির দিকে বেশি না ঝুঁকে বেসরকারি চাকরির বা নিজে উদ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টা করা।

এ সমস্যার সমাধানের জন্য রাষ্ট্রকে কারিগরি শিক্ষার প্রসার, বেকার ভাতা প্রদান, দেশীয় কুটির শিল্পের প্রসার, কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। একবিংশ শতাব্দির সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে দেশকে উন্নয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। যার দরুণ বাংলাদেশ হবে একটি সমৃদ্ধশালী উন্নয়নশীল দেশ।

লেখক : শিক্ষার্থী, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড