• রবিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৫ ফাল্গুন ১৪২৫  |   ১৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

কৃষি উন্নয়নে সরকারের কাছে প্রত্যাশা

  ইফরান আল রাফি ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:৫৬

রাফি
ইফরান আল রাফি (ছবি : সম্পাদিত)

কৃষি বাঙালি সভ্যতার হাজার বছরের ঐতিহ্যের পরিচায়ক। কৃষি এখন শুধু ধান, গম আর পাটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় কৃষি এখন সম্ভাবনাময় ও উৎপাদন-মুখী খাত। 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চতুর্থ বারের মত সরকার গঠন করেছেন এবং নতুন মন্ত্রী পরিষদ গঠিত হয়েছে। আনন্দের বিষয় হলো প্রথমবারের মতো কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন একজন দেশবরেণ্য কৃষিবিদ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তে গ্রামের কৃষক থেকে শুরু করে কৃষিবিদ মহল পর্যন্ত আনন্দের জোয়ার। আনন্দের কথা এই যে, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত মাননীয় কৃষিমন্ত্রী কৃষিবিদ ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি মহোদয়ের কৃষি ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক বহু অভিজ্ঞতা রয়েছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক কৃষিবিদদের প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা প্রদানেও রয়েছে বাকসুর সাবেক এই সফল ছাত্র নেতার অবদান। ফলশ্রুতিতে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে কৃষি সম্পৃক্ত মানুষের প্রত্যাশা আরও বেড়ে গেছে। বিগত দিনগুলোর তুলনায় কৃষি এখন সমৃদ্ধ। উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে দক্ষিণ এশিয়ায় চমৎকার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। 

তথ্য প্রযুক্তিকে কৃষক বান্ধব করতে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে ইন্টারনেট ভিত্তিক তথ্য সেবা কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে যা কৃষির ডিজিটালাইজেশনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। 

কৃষকদের জন্য দশ টাকায় ব্যাংকিং সেবা প্রদান, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বিনামূল্যে সার, বীজ এবং বালাইনাশক প্রদান  ইত্যাদি কৃষি ক্ষেত্রে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে কৃষি ক্ষেত্রে প্রণোদনা বৃদ্ধি কৃষককে আশার আলো দেখিয়েছে। 

বর্তমানে সরকারের ই-ভিলেজ (E-Village) প্রকল্প কৃষির ডিজিটালাইজেশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলছে। সেখানে একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমেই কৃষক সহজেই মোবাইলের মেসেজের মাধ্যমে জানতে পারবে জমিতে কি পরিমাণ সার, সেচ সহ অন্যান্য কৃষি উপকরণ লাগবে। কৃষি ঋণের অভাবে যে জমি পতিত ছিল বর্তমানে সেখানে সোনালী ফসল উৎপাদিত হচ্ছে। 

সর্বোপরি বলা যায়, কৃষিতেই সোনার হরিণ দেখছেন বাঙালিরা। বিগত বছরগুলোর ন্যায় উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকলে কৃষিই হবে অর্থনীতির প্রধান হাতিয়ার। নির্বাচিত সরকারকে প্রথমেই প্রান্তিক কৃষকের ভাগ্যে উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী মহা পরিকল্পনা নিতে হবে। অনেক সময় কৃষকরা ফসলের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয় এক্ষেত্রে সরাসরি সরকারি মনিটরিং ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে হবে এবং সরকারি উদ্যোগে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে উৎপাদিত কৃষি পণ্য ক্রয় করতে হবে।

ফলশ্রুতিতে মধ্য ভোগীদের অবসান ঘটবে এবং কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবে। সার, বীজ, বালাইনাশক ও জ্বালানি তেলের মূল্য কৃষকের নাগালের মধ্যে রাখতে হবে। দেশে বিশেষ কৃষি অঞ্চল গড়ে তুলতে হবে যেখানে বহুমুখী পরিকল্পনায় উৎপাদিত হবে কৃষি পণ্য এবং গড়ে উঠবে কৃষি ভিত্তিক শিল্প কারখানা। কৃষি গবেষণায় অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে। উন্নত দেশের ন্যায় গ্রিনহাউজ ভিত্তিক কৃষি গবেষণা চালু করতে হবে। কৃষকদেরকে ঐক্যবদ্ধ করতে এবং সমবায় পদ্ধতিতে চাষাবাদে উৎসাহী করতে প্রত্যেক গ্রামে সরকারি উদ্যোগে কৃষি ক্লাব গড়ে তুলতে হবে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও শত্রুতার বশীভূত হয়ে কৃষক প্রতিবছর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে উন্নত দেশগুলোর ন্যায় শস্য বীমা চালুকরণ বিষয়টি সরকারের নজর দেওয়া প্রয়োজন।যান্ত্রিক কৃষিকে আরো সহজলভ্য করতে দীর্ঘমেয়াদী স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। ফলন মৌসুমে কৃষি পণ্য সরবরাহ বেশী থাকে ফলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কৃষক ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়। 

সারা বছর কৃষি পণ্য সরবরাহ সহজলভ্য রাখতে প্রতিটি ইউনিয়নে হিমাগার গড়ে তুলতে হবে। মৎস্য, পোল্ট্রি ও ডেইরি শিল্পে তরুণ উদ্যোক্তা গড়ে তোলার লক্ষে বহুমুখী প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। গ্রামীণ কৃষিভিত্তিক কুটির শিল্পে বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ মিটারের পরিবর্তে কৃষক বান্ধব বিদ্যুৎ মিটারের ব্যবস্থা করতে হবে। 

বর্তমানে সরকারি সহযোগিতা পাওয়ায় কৃষকরা যান্ত্রিক কৃষির অভিমুখে ঝুঁকছেন, ফলে গড়ে উঠেছে বাণিজ্যিক কৃষি খামার। যান্ত্রিক কৃষিকে সহজলভ্য করতে কৃষি যন্ত্রপাতির উপর আরও ভর্তুকি প্রদান করতে হবে। ফসলের রোগ ব্যাধি ও পোকামাকড়ের কারণে কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এক্ষেত্রে প্রত্যেক উপজেলায় কৃষি ক্লিনিক গড়ে তুললে কৃষক উপকৃত হবে। সেচ সুবিধা শতভাগ নিশ্চিতকরণে নদী ড্রেজিং, গভীর নলকূপ স্থাপন ইত্যাদি আরও বাড়াতে হবে। কৃষিতে নারীদের সম্পৃক্ত করতে দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে এবং নারী শ্রমিকদের পারিশ্রমিক পুরুষ শ্রমিকদের সমতুল্য করতে হবে। বহুতল ভবনগুলোর নকশা প্রণয়নের সময় ছাদ কৃষির বিষয়টি নজরে রাখা প্রয়োজন যা নগরবাসীর পুষ্টি চাহিদা পূরণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। 

কৃষির ডিজিটালাইজেশন বিষয়টিকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে এবং ই-ভিলেজ প্রকল্পের ন্যায় আরও কৃষক বান্ধব প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ প্রদান করতে হবে। উন্নত জাতের ফসল, গবাদি পশু ও পোল্ট্রি জাত উদ্ভাবনে গবেষণা বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে। কৃষি গবেষণা ও উন্নয়নে কৃষিবিদদের বিকল্প নেই; তাই আরও কৃষি ভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে হবে। কৃষকদেরকে সহজলভ্য ভাবে কৃষি সম্পৃক্ত আইনি সহযোগিতা পেতে প্রত্যেক উপজেলায় কৃষক নিরাপত্তা সেল গঠন করা যেতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ অঞ্চলের কৃষি উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

পরিশেষে বলতে চাই, কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন হলে দেশ এগিয়ে যাবে সমৃদ্ধির পথে।

লেখক: শিক্ষার্থী, কৃষি অনুষদ, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড