• রবিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৫ ফাল্গুন ১৪২৫  |   ২৩ °সে
  • বেটা ভার্সন

সর্বশেষ : মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে বিপুল পরিমাণ বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ ১ জনকে আটক করেছে র‍্যাব

ভালোবাসায় ক্রিকেট, স্বপ্ন ধারাভাষ্যকার হওয়ার

  রো‌জেল আহ‌মেদ ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:৪৭

ধারাভাষ্যকার
রোজেল আহমেদ (ছবি : সম্পাদিত)

শুরুর ইতিহাসটা সাধা‌সি‌ধে বাঙা‌লিয়ানায় পূর্ণ। তখন বয়স সাত কিংবা আট। সদ্য বাল্যকা‌লে পদার্পণ। ‌ছোটাছু‌টি, লাফালা‌ফির মা‌ঝে ক্রি‌কেট নামক একটা নেশা তখন থে‌কেই ম‌নে আবদ্ধ। ম‌নে প‌ড়ে ছোটবেলায় আম্মু‌র কা‌ছে বায়না ধরায় এক‌টি ব্যাট পে‌য়ে‌ছিলাম। বাসায় থাকা কা‌ঠের টুকরা কে‌টে আলী ভাই আর আম্মুর প্র‌চেষ্টায় হা‌তে তৈ‌রি ব্যাট। শুরুটা তখনই ব্যাট হা‌তে রো‌জেল যেন উড়ন্ত চি‌লের মতো স্বাধীন।‌

খেলাধুলায় পটু ছিলাম বেশ। বড় হ‌তে থাকলাম আর স্বপ্নটাও বড় হ‌তে থাকল। হঠাৎ ম‌নে হলো ক্রি‌কেটার হব। ‌শিশু মন দারুণ কিছু স্মৃ‌তি রে‌খে যায়। ম‌নে প‌ড়ে তখন পঞ্চম শ্রে‌ণি‌তে প‌ড়ি, তখন ক্রি‌কেট‌কে দারুণ উপ‌ভোগ কর‌তে শি‌খে‌ছি। ব্যাট হা‌তে আমার বয়সী বন্ধু‌দের হার মানাতাম খুব সহ‌জেই, কিন্তু পথচলাটা সহজ ছিল না। বাবা বাঁধ সাধ‌লেন।

প‌রের বছরই ক্যা‌ডেট ‌কোচিংয়ে ভ‌র্তি হওয়ায় ক্রিকেট তেমন খেলা হতো না, কিন্তু স্বপ্ন‌কে দ‌মি‌য়ে রাখার ক্ষমতা কারো নেই। ম‌নের লা‌লিত স্বপ্ন। সাদাকা‌লো টি‌ভি‌তে ক্রি‌কেট দেখতাম। সারাক্ষণ ম‌নো‌যোগ দি‌য়ে শুনতাম। শব্দের মাত্রা বা‌ড়ি‌য়ে এক পৈশা‌চিক আনন্দ পেতাম।‌ ডিশ লাইন ছিল না। বারান্দার গ্রি‌লে এন্টেনার তার লা‌গি‌য়ে চ্যা‌নেল ধরা‌নোর তীব্র চেষ্টা।‌

বি‌ধি এবার প‌ক্ষে, অস্পষ্টভা‌বে হ‌লেও টেন স্পোর্টস চ্যা‌নেল দেখ‌তে পেলাম। ‌সে‌দি‌নের মতো খু‌শির দিন হয়ত জীব‌নে খুব কম পে‌য়ে‌ছি।‌ দেখলা‌ম বাঁহা‌তি একজন ব্যাটসম্যান আর চুল লম্বা এক বোলার। প‌রের দিন পত্রিকায় দেখলাম লারা সেঞ্চু‌রি ক‌রে‌ছে। তারপর দেখলাম লারার টিম ওয়েস্ট ইন্ডিজ অস্ট্রে‌লিয়ার সঙ্গে পরা‌জিত হয়। তখন কী জা‌নি ভে‌বে অস্ট্রে‌লিয়াকে সা‌পোর্ট করা শুরু করলাম। ‌ক্রি‌কেট জি‌নিসটা মাঠ থে‌কে টে‌লি‌ভিশন আর শ‌ব্দের খেলায় আমার কা‌ছে উপ‌ভোগ্য হ‌য়ে ফি‌রে এল আম‌ার জীব‌নে। ভালোবাসতাম ক্রি‌কেট‌কে পাগ‌লের মতো।

বিইউপি

সফলদের সঙ্গে রোজেল আহমেদ

 

ধারাভাষ্যকর হ‌য়ে ওঠার গল্প..

জীব‌নে সপ্ন ছিল এটা বলব না, বলব তীব্র ভালোলাগা থে‌কে এ জগ‌তে পদার্পণ।‌ ক্রি‌কেট অস্ট্রে‌লিয়া তত‌দি‌নে আমার ম‌নের বড় অংশ দখল ক‌রে‌ছে। তা‌দের খেলার সময় ধারাভাষ্যকর‌দের বলার ধরণ আমা‌কে খুব আকর্ষণ করত। চোখ, মন, অন্তর ‌দি‌য়ে ফ‌লো কর‌তে থাকলাম।‌ নি‌জে চর্চা করতাম কিছু বলার। প্রথম প্রথম কিছুই হতো না তবু হাল ছা‌ড়ি‌নি। একটা পর্যা‌য়ে এটা নেশার মতো হ‌য়ে যায়। তখন ইং‌রে‌জি‌তে ধারাভাষ্য দেওয়াটা ক‌ঠিন হ‌লেও ক্রি‌কেট অস্ট্রে‌লিয়ার একজন ব‌লে নি‌জে‌কে স্বপ্ন দেখতাম। তাই পি‌ছে না তা‌কি‌য়ে চেষ্টা চা‌লি‌য়ে গেলাম। তত‌দি‌নে খেলা দেখার মাত্রা বে‌ড়ে গে‌ছে।

আরেকটা ব্যাপার না বল‌লেই নয়, তখন ময়মন‌সিংহ জিলা স্কু‌লে প‌ড়ি। স্কু‌লে আমার মতো কিছু ক্রি‌কেট পাগল ছিল।‌ বি‌ভিন্ন খেলার পর নি‌জে‌দের ম‌ধ্যে আলোচনা করতাম।‌ চেষ্টা করতাম ইং‌রে‌জি‌তে বলার জন্য। সত্য বল‌তে বন্ধু‌দের সঙ্গে এসব আলোচনা আমার ধারাভাষ্য জগ‌তে আসার বড় অনু‌প্রেরণা। প্রথম ডাকট‌া পাই ২০১৩ সা‌লে।‌ নেত্র‌কোণায় একটা টুর্না‌মেন্টে ধারাভাষ্য ক‌রে জেলা প্রশাসক ও অনেক গুণী ব্য‌ক্তির প্রশংসা আমায় উদ্বুদ্ধ ক‌রে‌ছিল। তারপর ময়মন‌সিংহ প্রি‌মিয়ার লীগ র‌বিন ভাই ক‌মে‌ন্ট্রির সু‌যোগ ক‌রে দি‌য়ে‌ছি‌লেন। তারপর বড় সু‌যোগটা আসে ২০১৭ সা‌লে। বাংলা‌দে‌শের প্রথম ক‌মে‌ন্টেটর হান্ট ‘স্বাধীন কমেন্টেটর হান্ট’ এ টপ ৩৫ এ ইয়েস কার্ড পে‌য়ে‌ছিলাম।

ত‌বে বি‌ধি বাম কারণ এটা ছিল বাংলা ক‌মে‌ন্টি, কিন্তু আমি নি‌জে‌কে প্রস্তুত ক‌রে‌ছি ইং‌লিশ ক‌মেন্টেটর হি‌সে‌বে।‌ চৌধুরী জাফর উল্লাহ শারাফাত, শফীকুল হক হীরা স্যার‌দের সঙ্গে সেখা‌নে প‌রিচয়। আরও ছি‌লেন ‘দেশ রূপান্তর’ প‌ত্রিকার সাংবাদিক অমৃত ভাই। তার মাধ্য‌মে পরবর্তী‌তে ‘লাস্ট ম্যান স্ট্যান্ডস বাংলাদেশ’ এ ক‌মে‌ন্ট্রি করার সু‌যোগ আসে। আ‌মিও রা‌জি হ‌য়ে যাই, কেননা এটা আমার স্বপ্নের সঙ্গে মি‌শে যায়।‌ এখানকার ম্যা‌নে‌জিং ডি‌রেক্টর রিফাত ভাই, কো-ক‌মে‌ন্টেটর র‌বি ভাইসহ সকল ভাই‌দের ভালোবাসা পে‌য়ে‌ছি। যা আমার পথচলা‌ সহজ ক‌রে‌ছে। বর্তমা‌নে এখা‌নে কাজ কর‌ছি। বল‌তে গে‌লে সময়টা‌কে দারুণ উপ‌ভোগ কর‌ছি।

বিইউপি

রোজেলের চোখে মুখে এক আকাশ রঙিন স্বপ্ন

 

ভ‌বিষ্যত ভাবনা :

মানুষ স্বপ্ন নি‌য়েই বেঁচে থাকে। আমি ক‌মে‌ন্ট্রি নি‌য়ে সপ্ন দে‌খি।‌ নি‌জে‌কে প্রস্তুত কর‌ছি। ইন্টারন্যাশনাল পর্যা‌য়ে নি‌জে‌কে পৌঁ‌ছে নেবার আপ্রাণ চেষ্টা থাক‌বে। কে জা‌নে হয়ত এক‌দিন আমার ছোট‌বেল‌ার স্বপ্নের সব ক‌মে‌ন্টেটরস‌দের সঙ্গে পা‌শে ব‌সে কিছু বলার সু‌যোগ পাব। তত‌দিন আমি আমার গন্ত‌ব্যের প‌থে এক পা দু পা ক‌রে এগো‌ব। শত বাধার মা‌ঝেও ইং‌রে‌জি ক‌মে‌ন্ট্রি‌কে যে স্বপ্ন হি‌সে‌বে দেখা যায়, তা পূরণ ক‌রে নি‌জে‌কে আদর্শ জায়গায় দেখার ইচ্ছ‌টাই আমার পরবর্তী ভাবনা।‌ তাই‌তো পথ হাঁটিয়া‌ছি স্বপ্নকে আছ‌ড়ে ধরব তাই।

লেখক : শিক্ষার্থী, বাংলা‌দেশ ইইনিভা‌র্সি‌টি অব প্র‌ফেশনালস (অর্থনীতি বিভাগ)

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড