• শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ১৩ বৈশাখ ১৪২৬  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন

চিকিৎসা ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনা ও ক্লিনিক বাণিজ্য রোধ করতে হবে

  জয়নুল হক ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:৪৮

চিকিৎসা
প্রতীকী ছবির সঙ্গে ইনসেটে লেখক জয়নুল হক (ছবি : সম্পাদিত)

চিকিৎসা সেবা পাওয়া মানুষের মৌলিক অধিকারগুলোর মধ্যে অন্যতম। চিকিৎসা সেবার নিশ্চয়তা মানুষের জীবনযাপনের পথ সুগম করে দেয়। বর্তমান সময়ে চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম ও অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায়। দিন দিন যার মাত্রা বেড়েই চলছে।

চিকিৎসকরা নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্য বৃহত্তর স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিচ্ছে। বর্তমানে লক্ষ্য করা যায়, প্রায় প্রত্যেক চিকিৎসক সরকারি হাসপাতালে চাকুরির পাশাপাশি প্রাইভেট হাসপাতাল বা ক্লিনিকেও রোগী দেখে। যার ফলশ্রুতিতে সরকারি হাসপাতালে সময় দিতে পারে না। নিজের কর্মঘণ্টার সময়েও প্রাইভেট হাসপাতাল এবং ক্লিনিকে রোগী দেখে। বেশি টাকা উপার্জনের লোভে সর্বসাধারণকে তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করে।

জনগণ সরকারি হাসপাতালে প্রায় সময়েই গিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসককে পায় না। কারণ, তখন ঐ চিকিৎসক ক্লিনিকে রোগী দেখে টাকা উপার্জনে ব্যস্ত। কর্তব্যরত চিকিৎসক তার নিজের যে কর্তব্য, সরকার বা কর্তৃপক্ষ তাকে যে কারণে নিয়োগ দিয়েছে সে দিকে ভ্রুক্ষেপ ও করে না। যার ফলে, অনেক রোগী চিকিৎসার অভাবে, সময়মত চিকিৎসা সেবা না পাওয়ার দরুণ অমানবিক জীবন যাপন করে এমনকি মৃত্যু পথে ঢলে পড়ে।

তারই সঙ্গেই বিভিন্ন হাসপাতালে চলে দালালদের দৌরাত্ম্য। সাধারণ মানুষেরা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গেলে দালালরা তাদের কাছ থেকে টাকা লুটে নেয়। চিকিৎসা সেবা পাওয়ার জন্য যাদের কাছে অনেক রোগীকে বাড়তি টাকা দিতে হয়। অনেক সরকারি হাসপাতালে যে চিকিৎসা সেবা ( ঔষধ পত্র) ফ্রিতে পাওয়ার কথা, সেখানে টাকা ছাড়া মেলে না কোনো ধরনের সুবিধা! টাকা দিলেই মেলে সিট! পাওয়া যায় ভালো চিকিৎসা!

আবার বর্তমান সময়ে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে চলছে রমরমা ব্যবসা। চিকিৎসকদের কাছে গেলেই একগাদা রিপোর্ট করানোর জন্য বলে দেন। এমনকি নিদিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নামও বলে দেন! যার মাধ্যমে পরীক্ষার ফি বাবদ ইচ্ছেমাফিক টাকা-পয়সা আদায় করা হয়।

কেউ যদি চিকিৎসকের কথানুযায়ী সেন্টারে পরীক্ষা না করে অন্যত্র করেন, তাহলে তিনি তা গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেন। ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো চিকিৎসকদের নির্দিষ্ট হারে পার্সেন্টেজ দিয়ে সাধারণ জনগণের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। যার ফলে গরীব-ধনী আপামর জনগণ ভুক্তভোগী হয়।

এখন চিকিৎসাকে আর সেবা হিসেবে বিবেচনা করা হয় না, চিকিৎসা এখন রূপ নিয়েছে রমরমা ব্যবসায়। চিকিৎসক হওয়া মানে কাড়িকাড়ি টাকা আর পার্সেন্টেজ। ঘরে বসেই বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ওষুধ কোম্পানির কাছ থেকে পাওয়া যায় সুবিধাদী।

ওষুধ কোম্পানির কাছ থেকে টয়লেট টিস্যু থেকে শুরু করে ঘরের দেওয়ালের ফটো ফ্রেম পর্যন্ত জিনিসপত্র পাওয়া যায়। যে কোম্পানি বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার বেশি পার্সেন্টিজ দেয়, চিকিৎসকরাও গুণগতমান বিচার না করেই ঐ কোম্পানির ঔষধ রোগীদেরকে লিখে দেয়।

এভাবেই রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে দেশের অবৈধ ও প্রশ্নবিদ্ধ শত শত বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। বার বার ঘোষণা দিয়েও দেশব্যাপী কার্যকর অভিযান অব্যহত রাখতে পারেনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এই চিকিৎসা-বেনিয়ারা যাচ্ছেতাই করবে, ভুল চিকিৎসা দিয়ে মানুষকে মেরে ফেলবে, মৃত মানুষকে দিনের পর দিন আইসিইউতে রেখে টাকা আদায় করবে, হার্টে ব্লক না থাকলেও রিং পরিয়ে টাকা আদায় করবে, সিজারের প্রয়োজন না হলেও সিজার করিয়ে ছাড়বে, মন যা চায় তাই করবে, কিন্তু তাদেরকে কিচ্ছু বলা যাবে না।

এসব অবৈধ ক্লিনিক, চিকিৎসা ব্যবস্থা ও ডায়াগনস্টিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে জনসাধারণকেও সোচ্চার হতে হবে। অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো বন্ধের জন্য সরকারি কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সর্বোপরি জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে সিকিৎসা ক্ষেত্রের এ অসঙ্গতি দূরীভুত করে জনগণের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

লেখক : শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড