• শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ৫ মাঘ ১৪২৫  |   ১৭ °সে
  • বেটা ভার্সন

আকস্মিক রাজনীতিবিদ আশরাফ!

  এম আই কে রাশিদুল ইসলাম রাশেদ ০৮ জানুয়ারি ২০১৯, ১৩:০৬

সৈয়দ আশরাফ
প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম (ছবি : সংগৃহীত)

জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতীয় নেতা হিসেবে সমধিক পরিচিত, স্বাধীনতার সময় মুজিব নগর সরকারের রাষ্ট্র প্রধান অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের জ্যেষ্ঠ পুত্র বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দুইবারের সফল সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর অন্যতম সদস্য বাংলার মুকুটহীন সম্রাট, বাংলার সিদ্ধার্থ, সততার প্রকৃষ্ট উদাহরণ, সৎ রাজনীতির যোগ্য বরপুত্র হিসেবে এই বাংলার ইতিহাসে খ্যাত, নির্লোভ ব্যক্তিত্ব হিসেবে বাংলার রাজনীতির ইতিহাসে পরম পরিচিত সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

যিনি ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছেন সৎ ও নির্লোভ ব্যক্তিত্ব হিসেবে বাংলার আপামর জনগণের হৃদয়ে কীভাবে ঢুকতে হয় এবং তা বাংলার রাজনীতিতে এক চরম মাইল ফলকের উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। বাংলার ইতিহাসে একজন সৎ রাজনৈতিক ব্যক্তি কিভাবে জনগণের মনের অজান্তে মনের গহীনে ঢুকে যায়! 

তার অন্যতম জ্বলন্ত উদাহরণ তিনি নিজেই। একজন অসৎ কপটচারী প্রেমিক হয়েও তাকে মনের গভীরে প্রোথিত করেছেন। কেননা সততার প্রকৃষ্ট পন্থা অবলম্বন করলে সততা নিজেই সমস্ত স্তরের মানুষের কাছে শ্রদ্ধা তৈরি করে, যা খুব প্রাকৃতিকভাবে হয়ে থাকে। 

কেউ বাধা দিলেও কোনো লাভ নেই, সততা নিজেই প্রাকৃতিকভাবে শ্রদ্ধা তৈরি করে ও শ্রদ্ধা জাগরিত করে। যেটা ইতোমধ্যে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। সততার পরিচয় কিভাবে হয়! তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, তড়িৎ গতির প্রচার মাধ্যম, ছাপা প্রচার মাধ্যমসহ দলমত, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে একজন সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা তারই প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

নামাজে জানাজাতে কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ কিংবা সংসদ চত্বরে যে লোকসমাগম, তা যতটা আলাদা উদাহরণ, তার থেকে বড় উদাহরণ ১৮কোটি মানুষের হৃদপিন্ডকে নাড়িয়ে দেওয়া। তার মৃত্যু নাড়িয়ে দিয়েছেন সমস্ত স্তরের মানুষের হৃদপিন্ডকে। কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ নয় শুধু তাকে বাংলাদেশের ৬৪জেলায় নামাজে জানাজা দেওয়ার সুযোগ হতো, তাহলে প্রত্যেক জেলাতেই কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহের নামাজে জানাজার মতো লোকসমাগম ঘটত এবং শ্রদ্ধা জানাতো বটে। 

বাংলাদেশে এমন একজন নির্ভীক নির্লোভ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে বাংলার রাজনীতির ইতিহাসে আর কেউ তার কাছাকাছি জনপ্রিয়তা লাভ করতে পারেনি। যে বা যারা তাকে হিংসা করে, তারাও তার সততা, নির্লোভ ব্যক্তিত্বকে ভয় পেয়েছে ও পাশাপাশি তার আজকের এ জনপ্রিয়তার প্রতিহিংসার আগুনে পুড়ে লাল রঙের আভা তৈরি করছে তাদের ভেতরে। 

মানুষের যোগ্যতা, সততা আর মর্যাদা কৃত্রিম কোনো কিছুতে তৈরি হয় না। এগুলো প্রাকৃতিকভাবে কালেভদ্রে কিছু মানুষের সঙ্গে থাকে। অর্থ বিত্ত একজন অতিমানব হিসেবে পরিচিত করায় না কখনো। তাই একজন অর্থ-গৃধ্নু বৈষয়িক সাফল্য পেতে পারেন, কিন্তু সততার মর্যাদাপূর্ণ হতে দেখা যায় না, ক্ষমতাধর তার ক্ষমতার মাধ্যমে মর্যাদাপূর্ণ হতে চেষ্টা করলেও লাভ নেই, কেননা সততার পরিচয় যদিবা ক্ষমতা ব্যবহারে না থাকে কিংবা ক্ষমতা অর্জনে। যার হাতে ক্ষমতা আছে কিন্তু অপব্যবহার নেই, ক্ষমতাকে অমর্যাদাকর করেনি অপব্যবহারের মাধ্যমে তিনিই ছিলেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। 

রাজনীতির অর্থ দেশসেবা, জনসেবা, সেটা পুরোপুরিভাবে তিনি ধারণ ও পোষণ করতেন। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি তিনি মনেপ্রাণে ঘৃণা করতেন এবং তা কখনো তাকে স্পর্শ করতে পারেনি।

এটা তার মাহত্মতার বহিঃপ্রকাশ। এজন্য তিনি নিজেই সমস্ত রাজনীতিবিদদের ইঙ্গিত করে বলেছিলেন- 

‘রাজনীতি করলে দুর্নীতি ছাড়ুন, 
আর দুর্নীতি করলে রাজনীতি ছাড়ুন।’

এখন সময় এসেছে রাষ্ট্রকে দুর্নীতি মুক্ত করার এবং সেক্ষেত্রে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম আইকন হতে পারে রাষ্ট্রের কাছে, সমাজের কাছে, ব্যক্তি মানুষের কাছে। বিশেষত দুর্নীতি মুক্ত রাষ্ট্র গঠনের জন্য। 

‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, 
হিমালয়ের চেয়ে বেশি উঁচু এক রাজনৈতিক পর্বতের নাম।’ 

এক কথায় তিনি ছিলেন রাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক আকস্মিক রাজনীতিবিদ। এই আকস্মিক রাজনীতিবিদ সাধারণ মানুষের অন্তরে ঢুকেছেন। সুতরাং নির্দিষ্ট কেউ বা কোনো সংস্থা বা দল তাকে শ্রদ্ধা করতে হবে, তেমন কোনো কথা নেই। 

বরং যারা করেনি, তারা সরাসরি প্রমাণ করেছেন কৃতজ্ঞতা বোধ রাষ্ট্র থেকে বিলুপ্তি ঘটেছে। আসলে তা নয়- বরং  সাধারণের মাঝে অতি অসাধারণ হয়ে প্রত্যেক হৃদয়ে বসবাস করার উৎকৃষ্টতর উদাহরণ সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

 

লেখকঃ

এম আই কে রাশিদুল ইসলাম রাশেদ

কবি, লেখক ও রাজনীতিবিদ

 

 

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড