সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় আবারও বাংলাদেশ

প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০১৯, ১১:২১

  ফয়জুল ইসলাম ফিরোজ

সময় ও স্রোত কারও জন্য অপেক্ষা করে না, তেমনি বাংলাদেশের সমৃদ্ধির ধারা স্রোতের মতোই, এ স্রোত কারও অপেক্ষা করে না, এ স্রোত তার গন্তব্যে পৌঁছাবেই। কারণ এ দেশের মানুষ তাদের সমৃদ্ধির স্রোত চিনতে পেরেছে এবং সেই স্রোতে গা ভাসিয়ে দিয়েছে। দেশের মানুষ তাদের নেতা নির্বাচনে ভুল করেনি। যে দিন বদলের ডাক শেখ হাসিনা দিয়েছিলেন, তারা সেই দিন বদলের ডাকে সাড়া দিয়েছে এবং সে দিন বদল হতে শুরু করেছে অনেক আগেই, বদলে যাচ্ছে মানুষের ভাগ্য, বদলে যাচ্ছে জীবন যাত্রা।

২০০৯ সালে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ওই সময়ে আশু করণীয়, মধ্য-মেয়াদি ও দীর্ঘ-মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে শেখ হাসিনার সরকার। পরে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করে করার পাশাপাশি দশ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবারও জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। ধরে রাখে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা। ১০ বছর একটানা সরকারের দায়িত্বগ্রহণ করে বিশ্বব্যাপী মন্দা থাকা সত্ত্বেও দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি অব্যাহত রাখতে সক্ষম আওয়ামী লীগ সরকার।

তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা পেয়েছে। মাথাপিছু আয় ২০০৫ সালের ৫৪৩ ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৭৫১ ডলারে উন্নীত হয়েছে। দারিদ্র্যের হার ২০০-০৬ অর্থবছরে ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ২১ দশমিক ৮ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে।

২০২১ সালে দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলার যে অঙ্গীকার শেখ হাসিনা দিয়েছিলেন টানা তৃতীয় বারের মতো সরকার গঠনে সেটা আরও বেশি গতিময় হবে বলে বিশ্বাস করি। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জীবনমান সহজ করা এবং উন্নত করার উদ্যোগ নেয় সরকার। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল স্থাপন করে ব্যান্ডওয়াইথ বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে জনগণ ২০০ ধরনের সেবা পাচ্ছে।

শিক্ষা খাতে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর বেশ জোর দিয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও যুগোপযোগী করে তুলতে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করে পুরো দেশকে শিক্ষা নগরীর আওতায় আনছে। যে স্রোতের ধারা শেখ হাসিনার সরকার সৃষ্টি করেছেন, সেই স্রোতকে আরও গতিশীল করে তুলবেন নবগঠিত সরকার।

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত, বিদ্যুৎকেন্দ্রে নির্মাণ, সড়ক, মহাসড়ক, সেতু, কালভার্ট নির্মাণসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন সাধনসহ বিগত দশ বছরের উন্নয়ন নজীর স্থাপন করেছে।

শেখ হাসিনার সরকার না আসলে থমকে যেত এ প্রবাহমান ধারা। যেখানে যাকে দরকার ঠিক তেমনভাবেই তিনি মন্ত্রী সভা গঠন করেন। ব্যর্থ হলে কাউকে ছাটাই করতেও দ্বিধা করেন না। বাংলার মাটিতে তিনি যে শেকড় গড়েছেন, সেই শেকড় থেকেই জন্ম নেবে সমৃদ্ধশীলতার বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের দিকে কেউ এখন লোলূপ দৃষ্টিতে তাকাতে সাহস পায় না। বিশ্ব বুঝতে পেরেছে এই দেশ শেখ হাসিনার দেশ, এই দেশকে দাবিয়ে রাখার মতো কেউ নেই। পুরো বিশ্ব সমীহ করতে শুরু করেছে এই দেশকে। দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষগুলোর জন্য সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে দারিদ্র্যের কষাঘাত থেকে রক্ষা করছেন। যাদের ঘর-বাড়ি নেই তাদের জন্য নির্মাণ করে দিচ্ছেন ঘর, যা এই বাংলায় অন্য কোনো সময়ে ঘটেনি।

আবারও শেখ হাসিনা সরকার গঠন করায় দেশের মানুষ শান্তির ছোঁয়া পাবে, স্বস্তিতে থাকতে পারবে, ন্যায্য দাবি দাওয়া পূরণের আশা করতে পারবে, স্বপ্ন দেখতে পারবে সোনালী ফসলের, শিক্ষার আলো দেখতে পাবে মানুষ, সাম্প্রদায়িক হামলার ভয় থাকবে না, ভেদাভেদ কমে যাবে, মাদক ও জঙ্গি হামলার ভয়াল ছোবল থেকে মুক্তি মিলবে, কারিগরি খাতে গুরুত্ব পাবে বেকার যুবক, চিকিৎসা সেবা সহজতর ধারা থাকবে বহমান, দুর্নীতি আর সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, অনিয়মের কালো থাবা থেকে রক্ষা পাবে সবাই,  গ্রামের কিশোরটি স্বপ্ন দেখবে উঁচু তলায়, আর শহরের কিশোরী স্বপ্ন দেখবে বিশ্বজয়ের, সোনার বাংলায়, সোনার হাসি ফুটবে মানুষের মুখে। শেখ হাসিনার হাতে বাংলাদেশ, আগামীর পথে বাংলাদেশ, সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় আবারও বাংলাদেশ।

লেখক : সহসভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা