• বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫  |   ১৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

সন্তানকে স্বপ্ন দেখতে শেখান

  রেহেনা আক্তার রেখা ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৭:১২

স্বপ্ন
ছবি : সংগৃহীত

সন্তান জন্মের আগেই বাবা-মা ঠিক করে রাখেন ছেলে হলে ইঞ্জিনিয়ার, আর মেয়ে হলে ডাক্তার বানাবেন। বেশিরভাগ অভিভাবকের স্বপ্ন থাকে এমনটাই। সন্তান কী চায়, কী হতে চায় সেটা কোনো বিষয় নয়, বাবা-মা যা চায় তাই করতে হবে। নিজের স্বপ্ন নয়, এখন ছেলে-মেয়েরা বাবা-মায়ের বেধে দেওয়া স্বপ্ন পূরণে ব্যস্ত। তবে কিছু কিছু অভিভাবক আছেন, যারা সংখ্যায় খুবই নগ্ন, যারা সন্তানের চাওয়া পাওয়াকে প্রাধান্য দেন, সন্তানকে নিজে থেকে স্বপ্ন দেখতে আর তার স্বপ্ন পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যান।

এখন আর শিক্ষার্থীরা নিজ থেকে স্বপ্ন দেখেন না, স্বপ্ন দেখেন না ব্যতিক্রম কিছু করার। স্রোতের বিপরীতে হাঁটতে এখন কেউ চায় না। সমাজ আর পরিবারের বেঁধে দেওয়া গদবাঁধা স্বপ্ন পূরণের পেছনে ছুটেন বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা। আর তাদের মধ্যে যে সব শিক্ষার্থীরা একটু সৃজনশীল, বন্ধুমহলে যে একটু অন্যরকম, একটু নিজের মতো চলতে ভালোবাসেন, নিজের মতো জীবনের লক্ষ্য পূরণে ছুটে চলেন, তারা সহপাঠীদের হাসিরপাত্রে পরিণত হন। সবার থেকে একটু আলাদা হওয়ার কারণেই চারপাশ থেকে তার শুনতে হয় কটু কথা, শুনতে হয় রাতদিন বাবা-মায়ের বকা।

শুধু তাই নয়, কিছু কিছু অভিভাবকের চাপে এই সব সৃজনশীল শিক্ষার্থীরা অকালেই ঝরে যায়। বাবা মায়ের চাপে সে নিজের পছন্দ-অপছন্দকে মাটিরে সঙ্গে মিশিয়ে বাবা-মায়ের বেঁধে দেওয়া স্বপ্ন পূরণে মরিয়া হয়ে ওঠেন। কিন্তু কয়জন সফল হয় নিজের পছন্দের বিরুদ্ধে বাবা মায়ের বেঁধে দেওয়া স্বপ্ন পূরণে। বেশিরভাগেই ব্যর্থ হন। যার কারণে পরবর্তী জীবন তাদের কাছে হয়ে ওঠে বিভিষীকাময়।

দিন দিন সেসব শিক্ষার্থীরা হতাশায় নিমজ্জিত হন। যে ছেলেটা এসএসসি ও এইচএসসি দুটো বোর্ড পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ ফাইভ পেয়েও বুয়েট অথবা মেডিকেলে চান্স পাননি, তার আমৃত্যু একটি আক্ষেপ থেকে যায়। যদিও তার নিজের ইচ্ছে নয়, তিনি বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদের স্বপ্ন পূরণে ব্যর্থ বলে বাকিটা জীবন অনুশোচনায় ভোগেন।

আমাদের সমাজে অনেকেই মনে করেন ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার অথবা বিসিএস ক্যাডার হতে না পারলে জীবন বৃথা। এই ধারণা আমাদের সবার মনের ভেতরে ছোটবেলা থেকে অভিভাবক-শিক্ষকরা গেঁথে দেন। আর এসবের বাইরে যে জীবনে সফল হওয়ার জন্য অনেক কিছু আছে তা ভাবতে চায় না তরুণ প্রজন্ম। তাই গদবাধা এসব স্বপ্নপূরণে সবাই ছুটে চলেন অবিরত।

আর যারা প্রচলিত ধারণার বাইরে ভিন্ন কিছু করার স্বপ্ন দেখেন তাদের সম্পর্কে পরিবারের অভিভাবকদের একটিই ধারণা- ‘ছেলে আমাদের মানুষ হলো না, তাকে কত করে বললাম একটু ভালো করে পড়াশোনা করে ডাক্তারি পড়তে, কিন্তু সে তো কথা শুনল না।’ কিন্তু এই সব ধারণা থেকে অভিভাবকদের বেরিয়ে আসতে হবে, অভিভাবকদের উচিত সন্তানের চাওয়া পাওয়াকে প্রাধান্য দিয়ে নিজ থেকে তাদের স্বপ্ন দেখতে উৎসাহিত করা।

লেখক : সাংবাদিক।

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড