• সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫  |   ১৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

এই গল্পের নাম ‘ব্যাকলগ’

  হিমেল শাহরিয়ার ০৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ১১:৩২

শিক্ষার্থী
ছবি : প্রতীকী

ব্যাকলগ! একটা শব্দ নয়, একটা গল্প। একটা ব্যর্থতার গল্প। কিংবা হোচট খাওয়া থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। যারা বিশ্বাস করে হোচট খাওয়া মানে হেরে যাওয়া নয় বরং জয়ের অনিহা থেকে পরাজয় শুরু, তাদের জন্য ব্যাকলগ একটা সুপাঠ্য কাব্য।

একজন ব্যাকবেঞ্চার শিক্ষার্থীর জীবন ঘনিষ্ট গল্পের নাম ‘ব্যাকলগ’। ক্ষেত্র বিশেষে বাদ যান না প্রথম সারির শিক্ষার্থীরাও। ব্যাকবেঞ্চারের কাছে ব্যাকলগ মানে ঘুরে দাঁড়ানো। অপরদিকে, ফ্রন্টবেঞ্চারের কাছে ব্যাকলগ যেন অজানা এক উপহাস! 

যে ব্যাকলগ নিয়ে এত কথা এবার জানা যাক ব্যাকলগ আসলে কী?

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী কোনো শিক্ষার্থী সেমিস্টার বা ফাইনাল পরীক্ষায় কোনো বিষয়ে পাশ নাম্বার তুলতে না পারলে তাকে শুধু ঐ বিষয়ে অকৃতকার্য রেখে পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হয়। সে ওই পরীক্ষা তার পরবর্তী ব্যাচ এর সঙ্গে দিতে পারে। এতে সে সেমিস্টার বা তার ব্যাচ থেকে ঝরে না পড়ে তার স্বাভাবিক অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে। শুধু তাই নয়, পরীক্ষায় প্রশ্ন কমন না আসলে আত্মরক্ষার কিংবা পরে ভালোভাবে দেওয়ার নিমিত্তে খাতা কেটে চলে আসার নাম ব্যাকলগ।

কিন্তু এই ব্যাকলগ শব্দটিকে সবাই নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক নিয়মকে মূলে রেখে তারা বিভিন্নভাবে ব্যাকলগকে গ্রহণ করে নেয়। যা ব্যাকলগকে নিয়ে যায় ভিন্ন স্থানে। বিভিন্নভাবে শিক্ষার্থীরা এই ব্যাকলগ পরীক্ষা দিয়ে থাকে।  

একশ্রেণি আছে যারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারে না। তারা পরীক্ষায় খাতায় লিখে উত্তীর্ণ নাম্বার তুলতে পারে না। মূলত এই বিষয়টাকে রেখে ব্যাকলগের নিয়ম। কিন্তু অনেকে আছেন যারা পাস নম্বর এর বিষয়টাকে ঠিক রেখে ব্যাকলগকে নিয়ে গেছে অন্যরকম মানে। কেউ আছে পরীক্ষায় পূর্ন প্রস্তুতি নিতে পারে না। তাই তারা ইচ্ছাকৃতভাবে খাতায় লিখে না বা অনেক ক্ষেত্রে লিখলেও খাতা কেটে দিয়ে আসে। এই শ্রেণির ব্যাকলগারদের ব্যাকলগ যখন নিশ্চিত তখন তা উপভোগ করাই শ্রেয় এই নীতিতে বিশ্বাসী।

আরও এক শ্রেণি আছেন অসুস্থতার কারণে পূর্ণ প্রস্তুতি নিতে পারে না। তাই তারাও এই কাজটি করে। আরও এক শ্রেণি আছেন প্রস্তুতি ভালো কিন্তু কমন আসে নাই, ভালো মার্ক তুলতে পারবে না, পরবর্তীতে ভালো করে দেবে এই চিন্তা নিয়ে ব্যাকলগ দেয়।

এই যে, পরীক্ষায় দ্বিতীয় বার সুযোগ দেওয়ার কারণে অনেকে এই সুযোগটি নেয় কিন্তু কয়জনে এই সুযোগটি কাজে লাগাতে পারে? এর কারণে পোহাতে হয় অনেক গ্লানি। সাধারণত ব্যাকলগ দিতে হয় নিচের জুনিয়র ব্যাচের নিয়মিত পরীক্ষার সময়। এই সময় আবার তাদের নিয়মিত পরীক্ষা থাকে। ফলে এই পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায় না।

আবার ব্যাকলগ দিতে হলে কাগজপত্র নিয়ে করতে হয় দৌড়ঝাঁপ। যা বিরক্তির সৃষ্টি করে। কারণ স্বাভাবিক পরীক্ষার কাগজপত্র সবকিছু ডিপার্টমেন্ট থেকে পাওয়া যায় এবং ডিপার্টমেন্ট সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু এই ব্যাকলগের বিষয়টা নিয়ন্ত্রণ করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বোর্ড। যা দেয় অফিসিয়াল যন্ত্রণা।

এসব যন্ত্রণার বিষয়টা অনেকে নেয় ভিন্নভাবে। কষ্টটাকে ভিন্নভাবে নিয়ে সুখ নিতে চায়। অনেকে এটাকে ভালোবাসার পীড়া হিসেবে ধরে। সাধারণত ব্যাকলগের কাগজটি হয় গোলাপি। তাই তারা ভালোবাসার প্রতীক গোলাপ ফুলের সঙ্গে এর তুলনা করে। এ যেন একটা স্বাভাবিক বিষয়। ভালোবাসা যেমন ধোকা দেয় হয়তো পরীক্ষাটাও দেবে। তবে সব কষ্ট সয়ে সয়ে নতুন কিছু পাওয়ার জন্যও। ব্যাকলগ এর ক্ষেত্রে এইরকম ভালো কিছু হবে।

ভালো মন্দের ঝামেলা আর দ্বিধা দ্বন্দ্বের এই ব্যাকলগ। এটা কারো কাছে ভালোবাসার এক গল্প, আর কারো কাছে অজানা ভাষায় লেখা কোনো বই! তবুও বেঁচে থাকুক ব্যাকলগ, বেঁচে থাকুক ব্যাকবেঞ্চারদের ঘুরে দাঁড়ানোর সেই অবলম্বন।

লেখক : শিক্ষার্থী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড