• বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫  |   ১৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

‘এই যে ভাই, একটা লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়ি হবে?’

  মো. হামীম ০২ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৫:০১

বাবা
অসুস্থ বাবার পাশে হামীম (ছবি : সংগৃগীত)

টানা দেড় মাস ধরে হসপিটালে আমরা। এইতো, কিছুদিন আগেও ছোট্ট একটা বেডে আব্বু আর আমার দিন কাটে এখান থেকে ওখানে দৌড়ের ওপরে। রাতে কখনো ফ্লোরে, কখনো হসপিটেলের বেঞ্চে, কখনো আল্লাহুম্মা বিসমিকা বলে চেয়ারেই ঘুমিয়ে পড়ি। হিসেব করে দেখলাম গেল দেড় বছরে অর্ধেকের বেশি সময় ছিলাম হাসপাতালগুলোতে, দেশের বাইরে। আবেগের দিক থেকে শুরু থেকেই পাথর ছিলাম। চোখ থেকে সহজেই পানি বের হয়নি, হলেও দেখতে দেইনি।

এই বয়সেই দুটো ভিনদেশে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি। এই বয়সেই মন্ত্রণালয়, শিক্ষাভবন, ভিসা অফিস, কনস্যুলেট, থানা পুলিশ, সিআইডি অফিস ঘোরা হয়ে গেল। এই বয়সেই একা একা পকেটে লাখ লাখ টাকা নিয়ে নির্ভয়ে হাঁটা শিখেছি। প্রথম কয়েকদিন হয়তো খুব ভয় পেয়েছিলাম। ব্যাংকের সবাই যখন আড়চোখে দেখতো মনে হতো এই বুঝি ছিনতাইকারীকে বলে দেবে।

কেউ ফোনে কথা বলতে বলতে আমার দিকে তাকালে মনে হতো এই বুঝি টার্গেট করল। রাস্তার পাশে সিএনজিওয়ালা, রিক্সাওয়ালাগুলোকেও মনে হতো এই বুঝি ধাক্কা দিয়ে কিডন্যাপ করে নেবে, কখনো দ্রুত হেঁটে, দৌড়ে, বুকে ব্যাগটা জড়িয়ে ধরে আশেপাশে পিছে তাকিয়ে যেতে যেতে মনে হতো বাসা পর্যন্ত বুঝি আর যাওয়া হবে না। কেউ যদি গুলি করে সব কেড়ে নেয়! তখন আমার পরিবারটার কি হবে?

ঝামেলা যে একেবারেই হয়নি তা না। কখনো উড়ো থ্রেট, লোভনীয় অফার, রাস্তাঘাটে আটকানোর চেষ্টা থেকে শুরু করে অনেক কিছুই হয়েছে যা নিজের মাঝেই চাপিয়ে রাখেছি। ভয় পাওয়া মানুষগুলোর সামনে আর নতুন করে ভয় দেখাতে চাইনি, নিজের ভয়ার্ত চেহারাটা দেখাতে চাইনি। কে বুঝে ডাক্তারের চেম্বার থেকে বের হয়ে হাসতে হাসতে বলার কষ্টটা, আরে ঠিক হয়ে যাবে। প্রয়োজন শুধু ছোট্ট একটা অপারেশনের।

আব্বু যখন পানির জন্য যখন বলত পানি পানি, আমার চোখ দিয়ে পানি আসতো, তবুও সেই মুহূর্তে গ্লাসে পানি ঢালার মতো সৌভাগ্যটা হয় নাই। পানি দিলেই যে নিউমোনিয়া হয়ে যাবে। নেবুলাইজার, সাকশনের ১১ ইঞ্চি পাইপ যখন গলায় ঢুকতো, যখন জ্বালাময়ী কেমো আব্বুর শরীরে ইঞ্জেকশন দিয়ে ঢোকাতো, তখনও আব্বু ব্যথায় ছটফট করত, আমি তার হাতটা ধরে থাকতাম। বলতাম তুমিইতো বলতে আমাকে, আই হ্যাভ টু বি ক্রুয়েল টু ব্লেস ইউ। আমাকে এইটুকু নিষ্ঠুর হতে দাও বাবা। সবই তো তোমার ভালোর জন্য।

আমাদের হসপিটালের রুমটা আম্মু খুব সুন্দর করে সাজিয়ে রেখেছেন। বাবার বেডের পাশে ওষুধপাতি, আমাদের ব্যাগ, ফলমূল, চার্জার, টিফিনবক্স, প্লেট, সাবানের কেইস থেকে শুরু করে আম্মুর দোয়া পড়ার বইটা, আম্মুর জন্য জায়নামাজ সবকিছুই ঠাসাঠাসি করে সুন্দরভাবে গোছানো। গেল দুটো বছর এভাবেই ভ্রাম্যমাণ সংসারে দেশ বিদেশ ঘুরে ফেললাম। কিন্তু তারা বললেন আর এভাবে সংসার গুছানো হবে না। আব্বু থাকবে এক যন্ত্রপাতি ভরা রুমে, আর আমাকে বললেন নিজের মতো জায়গা খুঁজে নিতে। অভ্যাস তো আছেই। ব্যাগে একটা কাঁথা, একটা গামছা, একসেট জামা আর একটা ব্রাশ হলে তো আর কি চাই?

অধিকাংশ মানুষই হসপিটাল থেকে হাসিমুখে বের হতো। খুব কম মানুষই কাঁদতে কাঁদতে বের হতো। আমাদের অবস্থা ছিলো মিক্সড টাইপ। আম্মু আব্বুকে বাস্তবতা কখনোই বলতে পারিনি। শুধু বলতাম এটাই লাস্ট অপারেশন, এইত্তো, আব্বু সুস্থ হয়ে যাবে। আব্বুর এক একটা রিস্কি অপারেশনের পরেও সবাই যখন হাসিমুখে বের হতো, আমিও জোর করে মুখে হাসি ধরে রাখতাম। শুধু আমিই জানতাম আমাদের হয়ত আরেকটা অপারেশন লাগবে। আমাকে হয়ত আবারো প্রিপারেশন নিতে হবে, লাখ লাখ টাকা জোগাড় করতে হবে। প্রতি অপারেশনেই গড়ে ৩-৮ লাখ টাকা, প্রতিটা কেমো দেড় লাখ।

আব্বু বলতেন, সংস্কৃতে একটা প্রবাদ আছে, ‘কৃর্তা ঋণং ঘৃতা পিবেত’ মানে, তোমরা ঋণ করে হলেও ঘি খাও। আমিও লোন করতে দেরী করিনি। প্রায় প্রতিটা সপ্তাহেই বড় বড় হিসেব নিয়ে বসতাম। এর মাঝে নিত্যদিনের বাজার, রিক্সাভাড়া থেকে শুরু করে মাসের কারেন্ট বিল, ফোনের বিল, বাসাভাড়া, কোন সরকারি অফিসে কতটা চা নাস্তার বিল বাধ্য হয়ে দিতে হলো হসপিটাল ঔষুধ থেকে শুরু করে অপারেশনের বিল সবকিছুরই হিসেব রাখতে হয়।

হিসেবগুলো এটার জন্য না যে দেখো বাবা তোমার জন্য এত্ত এত্ত খরচ করছি। হিসেব এজন্যই করা, আমাদের টুকটাক খরচগুলো কমিয়ে বাকিটা যেন চিকিৎসার জন্য দিতে পারি। বাস্তবতা যেমন আমাকে ১০টাকা বাঁচাতে ৩ কিলো হাটা শিখিয়েছিলো তেমনি ৩ মিনিট সময় বাঁচাতে ১০ কিলো রাস্তা ৩০০ টাকায় যাওয়াও শিখিয়েছিলো।

জানো বাবা, এই দুটো বছরে আমার অপ্রাপ্তি আর হারানোর তালিকাটা অনেক দীর্ঘ। অনেক সুন্দর আর মিষ্টি একটা লাইফ ছিল আমার জানো বাবা, এই দুটো বছরে আমার অপ্রাপ্তি আর হারানোর তালিকাটা অনেক দীর্ঘ। অনেক সুন্দর আর মিষ্টি একটা লাইফ ছিল আমার। ক্লাসে ব্যাকবেঞ্চার হলেও আমার প্রথম সারিতে বসা ভালো ভালো বন্ধুরা ছিল যাদের সাথে সারাদিন টই টই করে ঘুরতাম আর লাইব্রেরিতে বসে গ্রুপ স্টাডি করতাম। তুমি অসুস্থ হবার পর থেকে আমার আর সেই গ্রুপ করে পড়াটা হয়নি।

ক্লাস করা হয়নি, মেক্সিমাম ক্লাসটেস্টে উপস্থিত থাকতে পারিনি, এমনকি অনেকগুলো ফাইনাল পরীক্ষাও দিতে পারিনি। তবুও যে যতটুকু পেরেছি পরীক্ষার আগের দিনগুলোতে একটু পড়ার, পরীক্ষার হলে গিয়ে যা মাথায় আসছে লিখে দিয়ে আসছি। একটা মেয়েকে পছন্দ করতাম। সেও একদিন সামনাসামনি বলল, ‘তুমি তো ধান্দায় আছো, আমাকে বিয়ে করলে তোমার বাবার লোনগুলো সব আমার বাবার কাঁধে যাবে’। সেই মুহূর্তে তার হাত ছেড়ে দিয়ে তাকে চিরবিদায় জানাতে দেরি করিনি। আর যাই হোক, তুমি তো আমাকে ধান্দাবাজ হিসেবে গড়ে তোলোনি বাবা।

জানো বাবা, অনেক জায়গায় অনেক অপমান সহ্য করেছি। যখন আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের একজন সরাসরি বলেছিলেন, ‘তোমার বাবা অসুস্থ তো আমি কি করব!’ আরেকজন তো সরাসরি বলেই দিলেন, ‘ও! তোমার বাবা এখনও মরে নাই?’ তখন ছেলে হিসেবে, একজন ভার্সিটির স্টুডেন্ট হিসেবে, ভার্সিটির শিক্ষকের কাছে প্রতিবাদের ভাষা চোখের পানি ছাড়া কী হতে পারে বলো তো? তুমিই আমাকে বলতে, ‘আই হ্যাভ টু বি ক্রুয়েল টু ব্লেস ইউ’।

বাবা, আশীর্বাদ পেতে কি এতটা নিষ্ঠুরতা সহ্য করতে হয়? তবুও, আমার ভার্সিটির অধিকাংশ শিক্ষক অনেক আন্তরিক, উনারা আমার ক্লাস টেস্ট আর অ্যাটেন্ডেন্সে মার্ক না থাকলেও পাশ করিয়ে দিয়েছিলেন। অ্যাক্সেপশন্স আর নট এক্সামপল। আর তাছাড়াও ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি ক্লাসে না আসলে, হোমওয়ার্ক না করলে অনেকেরই অযুহাত থাকত স্যার অসুস্থ ছিলাম, বাবা অসুস্থ ছিল, নানি মারা গেছিল, জ্বর ইত্যাদি। হাজারো মিথ্যা অজুহাতের মাঝে একজন যে সত্যি বলছে এটা উনাররা ক্যামনে বুঝবে বলো?

কে বিশ্বাস করবে একজন মানুষের হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, ক্যানসার হয়েছে, ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা, স্ট্রোক এতকিছু হতে পারে। আমি এখন আর কাউকে, বিশেষ করে কোনো শিক্ষককে বলি না তোমার অসুস্থতার কথা। চাই না পিতৃতুল্য আরেকজন মানুষ আমাকে বলুক তোমার বাপ এখনও মরে নাই কি না।

ফেসবুকে যখন দেখতাম বন্ধুরা সবাই ক্লাস করতেছে, ঘুরতে যাচ্ছে তখনও তুমি হসপিটালের বেডে শুয়ে। আমি তোমার দিকে তাকাতাম, তোমার শ্বাস নেওয়া দেখতাম আর ভুলে যেতাম সমস্ত না পাওয়ার দুঃখ। আমাদের এক্সকারশন ট্যুরে আমাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমার ফ্রেন্ডরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছিল, ভার্সিটি লাইফে মধুরতম স্মৃতি হয়তো এখানেই থেকে যায়। ঠিক তখনও তুমি আমি হসপিটালে, তোমার পরপর দুটো অপারেশন।

সবাইকে দেখতাম সুমদ্ররের নীল পানিতে, সাজেকের নীল আকাশে ডানা মেলছে, আর আমি বসে আছি তোমার পায়ের পাশে, তোমার ঔষুধ, ফাইলগুলো নিয়ে সারাদিন এখান থেকে ওখানে দৌড়াচ্ছি। একে একে আমার ক্লাসটাকে হারাই, প্রিয় বন্ধুদেরকে হারাই, এখন তো মনে হয় ডিগ্রিটাকেও হারিয়ে ফেলব। সবাই বলবে তোমার ছেলে ইন্টার পাশ।

দীর্ঘ এই সময়টাতে তুমি শিখিয়েছ দায়িত্ব নিতে। শিখিয়েছ আবেগ আড়াল করতে, শিখিয়েছ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে, সে সিদ্ধান্তে দৃঢ় থাকতে।

যখন ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের টাকা তুলতে যেতাম, ম্যানেজার থেকে কাস্টমার সবাই আমার দিকে বড় বড় চোখে তাকিয়ে থাকত। আমি প্রতিবারই একা দাঁত ক্যালায় দাঁড়িয়ে থাকতাম। হয়তোবা কেউ আমাকে দুর্ধর্ষ ব্যাংক ডাকাত ভাবত কি না জানি না, তাদের সন্দেহভাজন চোখ আমাকে সেটিই বুঝায় দিত। দুটো এটিএম কার্ড থেকে টাকা তুললেও সিকিউরিটি প্রশ্ন করে মামা বাড়ি কই, কি করেন হ্যান ত্যান। আমি বুঝতাম এরা হয়তো ডাকাত না, সিসিটিভিতে আমার স্পষ্ট চেহারা আর নার্ভাসনেস বুঝানোর জন্যই এত অবান্তর প্রশ্ন।

আমি কখনো অভিযোগ করব না যে আমি ক্লাস, বন্ধু, ট্যুর, প্রিয়তমা, ক্যারিয়ার গড়ার সময় সবই হারিয়েছি। তবুও আমি সুখী, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া করি এইজন্যই যে আমি সেই গুটিকয়েক সৌভাগ্যবানদের মধ্যে একজন যে পিতার সেবা করার সুযোগ পেয়েছে।

কোন মেশিনে কি কি পার্টস থাকে, পেট্রোলে চলে না ডিজেলে চলে, ধানগাছে আদৌ তক্তা হয় কি না এগুলো ঠিকভাবে না বলতে পারলেও ঢাকায় আর ইন্ডিয়ায় নিউরো, ক্যানসার, স্ট্রোক, হার্টের ডাক্তার, ডায়বেটিস, ফিজিওথেরাপির ডাক্তারসহ অধিকাংশের নাম ঠিকানা মুখস্ত। কলকাতার কোন হোটেলের কী অবস্থা আর মুম্বাইয়ের কোন হোটেলের রান্না ভালো এগুলোও ঠোঁটস্থ।

প্রতিটা টেস্টে স্বাভাবিক মানুষের কী থাকে আর তোমার কী অবস্থা, এক্সরে, ইসিজি, এমআরআই সিটিস্ক্যানের ফ্লিম দেখে কমেন্ট করা শিখেছি তোমার ডাক্তারদের কাছ থেকে। উনারাই দেখাতেন, ‘দেখো, এই জায়গাকে এটা বলে, দেখো এখানেই টিউমারটা, দেখো এখানেই স্ট্রোক, এখানে এখানে ব্লাড জমেছে, এইগুলো দেখলে বুঝবে পানি জমেছে’।

আব্বু যে দিন প্রথমবার হার্ট অ্যাটাক করেন, তার দুইদিন পর আমার মেকানিক্স পরীক্ষা। সেবারের পরীক্ষায় একমাত্র মেকানিক্স সাবজেক্টে ফেইল আসছে। এবারো মেকানিক্স পরীক্ষার আগেই ডাক্তাররা সময় বেঁধে দিয়েছেন। আব্বুর যে দিন প্রথম ক্যানসার ধরা পড়ে, আব্বু ছিলেন ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হসপিটাল, কাকরাইলে। আব্বুর শেষ হসপিটালও এইটা। আমরা প্রথম অপারেশনের আগে এই আটতালার বারান্দায় বসে আমি জেদ শুরু করলাম, বললাম যেমনে পারি আমি ইন্ডিয়া নিয়ে যাব।

আমাদেরকে ডাক্তার বললেন, এই অবস্থায় কোনোভাবেই নিয়ে যাওয়া যাবে না। নিলেই পেশেন্ট যে কোনো মুহূর্তে মারা যেতে পারে। আমরা রিক্স নিলাম, সহায় সম্বল সবকিছু নিয়েই ছুটে গেলাম উন্নত চিকিৎসার জন্য। অথচ এই আমরাই এখন এই আটতালার সিঁড়ির সামনে দাঁড়িয়ে লাশ কোথায় কোথায় নিব এগুলো নিয়ে কথা বলছি আর এ দিকে, আমার বাবা যন্ত্রে ভরা রুমে খুব কষ্টে শ্বাস নিচ্ছেন। অথচ বাবা কিন্তু এখনও বেঁচে আছেন। গতকাল রাতেও যখন স্যার বলছিলেন, হামীম, আজ রাতটাও বুঝি তোমার বাবা থাকতে পারবেন না, তোমরা সবকিছুর প্রিপারেশন নিয়ে রাখো।

সেই রাতে আমি আর আমার চাচতো ভাই, যে কি না সদ্য ভার্সিটিতে ভর্তি হলো, দুজন মিলে অ্যাম্বুলেন্স খুঁজি। ভাই অ্যাম্বুলেন্স হবে? লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স? একে একে খোঁজ নিতে নিতে দুভাই ঢাকার রাস্তায় ছুটতে থাকি। অনেকেই তামাশা করে, বিরক্তির সুরে বলে ভাই রাত ১টা বাজে। রোগী মরলে এই নাম্বারে কল দিয়েন। সকালে উঠে আবার গেলাম আঞ্জুমানে মুফিদুলে। আর আমার বাবা হসপিটালে শুয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।

এই লেখাটা যখন শেষ করছি, তখন আমি আঞ্জুমানে মুফিদুলের অফিসে বসে। ঢুকেই বললাম, এই যে ভাই, একটা লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স হবে? আমার পেশেন্ট কিন্তু মারা জাননাই। ডাক্তার বলছেন প্রিপারেশন নিয়ে রাখতে, আছে আপনাদের ভালো মানের লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স? আমার দুচোখ বেয়ে অঝোরে পানি ঝড়ছে কিন্তু গলাটা একটুকু কাঁপছে না। আবারও বললাম, ‘এইযে ভাই, একটা লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়ি হবে?’

 

লেখক : শিক্ষার্থী

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড