• সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ৩ পৌষ ১৪২৬  |   ২১ °সে
  • বেটা ভার্সন

বিড়ম্বনার রাজনীতি কতকাল কাঁধে নিয়ে চলবে বাঙালি!

  অধিকার ডেস্ক    ৩০ অক্টোবর ২০১৮, ১২:৪৫

এম আই কে রাশিদুল ইসলাম রাশেদ
এম আই কে রাশিদুল ইসলাম রাশেদ

যেখানে বাঙালি, সেখানেই দলাদলি। যেখানে বাঙালি, সেখানেই দুর্গাকালী আর সেখানেই হয়ে থাকে পাঁঠাবলি। দলাদলির ব্যাপারে বাঙালি চিরকালই ওস্তাদ। আর মানুষ সবসময় দলাদলি করতে চায়, এটা তার পছন্দ ও অভ্যাসবশত বটে। বর্তমানের বাংলাদেশে যা হচ্ছে- ক্ষমতার গদি দখলের জন্য দলাদলি। বহুদল জোটবদ্ধ হচ্ছে শুধুমাত্র ক্ষমতাকে দখলের জন্য। ডান-বাম সব মিলে জোটবদ্ধ হচ্ছে পুরোনো সব ধরনের শত্রুতা ভুলে, শুধু ক্ষমতা দখলের জন্য।

যদিও অনেক আগেই জোট হতে দেখা গেছে এবং সে জোট ক্ষমতাও পেয়েছে। ক্ষমতার স্বাদ ভাগাভাগি করে ভোগ করেছে এসব জোট। ক্ষমতার দাপটে তাড়িয়ে বেড়ানোতে পটুতা লক্ষ করা গেছে তাদেরকে। ক্ষমতার দাপট অনেকক্ষেত্রে সূর্যের চেয়ে বালি গরম রীতিতে ব্যবহার করতে দেখা গেছে। তাতে ঐ ব্যক্তির কোনো অমত হবে না, যে ব্যক্তির পায়ে বালির গরমের তাপে ফোস্কা পড়েছে। রাষ্ট্রের বিগত শাসনামলে এমনটি ঘটেছে অহরহ। শাসনকে আড়াল করে শাসানোতে অভ্যস্ত হয়েছেন প্রায় প্রত্যেক শাসক। এতে কারও দ্বিমত করার অবকাশ নেই। কেননা কোনো শাসক সাহস করে বলতে পারবে না যে, সে শাসানোতে অভ্যস্ত হয়নি। যদিও কেউ কেউ নির্লজ্জ হয়ে বলবে যে, সে শাসক ছিলেন না বরং সেবক ছিলেন।

তখনি প্রশ্ন উঠবে- সেবক কি কখনো স্বার্থের চিন্তায় স্বার্থান্ধ হয়ে থাকে? স্বার্থচর্চা করে কেউ সেবকের স্বার্থকতা অর্জন করতে পারে? পারেনা। কিন্তু সবাই তো স্বার্থচর্চা করেছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বারবার উলঙ্গ করা হয়েছে গণতন্ত্রের পোশাক পরিচ্ছদ। নাকানি চুবানি খেতে খেতে গণতন্ত্রের গতি বিচ্যুত হয়েছে বারবার। কি নির্বাচন, কি নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র, কি ভোটবাক্স, কি গণতান্ত্রিক রীতিনীতি অথবা দলীয় গণতান্ত্রিক পদ্ধতি, প্রশাসনিক অবকাঠামোগত গণতান্ত্রিক পদ্ধতি- সবজায়গাতে গণতন্ত্রের গতিকে নষ্ট করা হয়েছে। আর আজও আধুনিক গণতন্ত্র তো প্রবেশ করতে পারেনি এখানে। অর্থাৎ উদারনৈতিক গণতন্ত্র। 

যে কথা এদেশের সর্বস্তরের জনগণ মনে করে- এখানকার সকল রাজনীতিবিদরা শুধু ক্ষমতার রাজনীতিতে বিশ্বাসী। চরম অযোগ্যতা থাকা স্বত্ত্বেও ক্ষমতার গদি এদের সবসময় আকৃষ্ট করে থাকে। সেজন্যে এখানকার রাজনীতিবিদরা ক্ষমতা দখলের প্রয়োজন অতিরিক্ত কোনো চিন্তা, সৌজন্যতা, নৈতিকতার চিন্তা বা ব্যবহার করতে নাড়াজ। তাইতো এদের চিন্তাজগতের মানুষ বা রাজনীতিবিদ না হয়ে ক্ষমতা দখলের কেতাবী পন্ডিত্যমনা হতে চায়। বরং যেনতেনভাবে ক্ষমতাকে দখল করতে চায়।তাতে যন্ত্র, ষড়যন্ত্র, বাহুবল, অস্ত্রবল প্রয়োগসহ যত ধরনের পদ্ধতি অবলম্বন করা যায়, তাই করতে দেখা যায়।

কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের রাজনৈতিক দর্শন শুধু ক্ষমতা দখলের নিমিত্তে চলে গেলে, সে রাষ্ট্রের কোনো আদর্শ বা রীতিনীতি সুস্পষ্ট থাকে না। কখনো সে রাষ্ট্রে উচ্চতর আদর্শ, সম্ভ্রমশীল সংস্কৃতি ভদ্র মেজাজের সাথে চর্চা হতে দেখা যায় না। ফলে উদারতাবাদ প্রতিষ্ঠা পায় না। বরং হীনমন্যতা সৃষ্টি হয় সর্বস্তরে। অথচ ক্ষমতাকে দখল নিয়ে রীতিমত জঘন্য বিরুদ্ধাচরণ করতে দেখা যায়। যেটা ইতোমধ্যে প্রবলভাবে লক্ষণীয়, বিশেষত এ ধরনের আচরণ প্রায় পঞ্চাশ বছরের বঙ্গরাষ্ট্রের রাজনীতিতে খুব বেশি লক্ষণীয় বটে। 

এ বঙ্গরাষ্ট্রে শাসকের শাসানোটা যেন একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তাই কোনো শাসক শাসন না করে শাসানোতে ব্যতিব্যস্ত থেকেছে সবসময়। স্রেফ শাসানোটা যেন তাদের কাছে পরম অহঙ্কারের পর্যায়ের । এ অহঙ্কার না থাকলে জনগণ মূল্যায়ন করবে না, এমনটি তাদের চিন্তাগত বিষয়। ঐ যে কথায় প্রচলন করেছে- বাঙালি ডান্ডায় ঠান্ডা। তাই বাঙালিকে ডান্ডা মেরে ঠান্ডা রাখার প্রবণতা সবসময় দেখা গেছে। সোহাগ দিয়ে, আদর দিয়ে, ভালোবাসা দিয়ে, সেবা দিয়ে শাসন কায়েমের নজির নেই বাঙালির শাসকদের। ফলে যা হওয়ার হয়েছে তাই- জনগণও অনভ্যস্ত সোহাগের শাসন উপভোগ করাতে। তাই বাঙালি ডান্ডায় দণ্ডিত হয় নিত্য। চুনকালি বা পোড়া মবিল তো ঐসব শাসানোর একটা ব্যবহার মাত্র। এতে কি আর ইজ্জত, মর্যাদা নষ্ট হয় বাঙালির! আর শঙ্কর জাতির কি আলাদা ঐতিহ্যশীল মর্যাদা আছে? বরং সেটা থাকতে নেই যে কোনো শঙ্কর জাতির। তাই পোড়া মবিল বা আলকাতরা গায়ে মুখে লাগানো লজ্জার না। যে জন্যে শাসকের পক্ষ থেকে প্রতিরোধের চেষ্টা করতে দেখা গেছে, না জনগণকে প্রতিবাদ করতে দেখা গেছে। হয়তো কেউ এটাকে হোলি খেলা হিসেবে অভিহিত করেছে। 

রাজনীতিক বিষয়ে সুক্ষ্ম ও সুষ্ঠু রুচিবোধ বাঙালির কখনো তৈরি হয় নি। সুক্ষ্ম ও সুষ্ঠু রুচিবোধের রাজনীতির জন্য উন্নত মানসিক চিন্তা ও উচ্চতর নির্লোভ চিন্তা থাকতে হয়। সেটাতো বাঙালির ধাঁচে নেই, কোনো কালে ছিলও না বটে। তাইতো বহু উন্নত রাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সাথে পরিচয় থেকেও, নিজের রাষ্ট্রে একটি  উন্নত রাজনৈতিক সভ্যতা গড়ে তুলতে পারেনি। যেজন্যে ভিনদেশিদের দ্বারস্থ হতে হয় নিজেদের রাজনৈতিক বিরোধ মিটানোর জন্য। আর এ সুযোগে ভিনদেশিরা জুয়াড়ির ন্যায় খেলে থাকে এ রাষ্ট্রের রাজনীতি নিয়ে। আর এই জুয়াড়িরা নির্ধারণ করে থাকে জনগণের ভাগ্য, বিশেষকরে প্রতি পাঁচ বছর পর শাসকের গদি কে পাবে আর কে পাবে না। আধুনিক সভ্য গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের আর রাষ্ট্রের নাগরিকের জন্য যেটা চরম বিড়ম্বনা বটে। এই বিড়ম্বনা কতকাল কাঁধে নিয়ে বেড়াবে বাঙালি!

এম আই কে রাশিদুল ইসলাম রাশেদ
কবি, লেখক, রাজনীতিবিদ।

 

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড