• সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ৩ পৌষ ১৪২৬  |   ২১ °সে
  • বেটা ভার্সন

ধর্মঘটের নামে সারাদেশে নৈরাজ্য

  শাফিউল কায়েস ২৯ অক্টোবর ২০১৮, ১৬:০১

ধর্মঘট
পরিবহন ধর্মঘট (ছবি : সংগৃহীত)

ধর্মঘটের কারণে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিআরটিসির দু’ একটা বাস দেখা গেলেও তাতে ছিল উপচেপড়া ভিড়। অনেকে তাদের কর্মব্যস্ত গন্তব্যে যাওয়ার জন্য পিক-আপে ওঠে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। নয়তো ভ্যান, রিক্সা কিংবা সিএনজিতে যাচ্ছে তিন-চার-পাঁচ গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে। কিন্তু তাতেও বাধাগ্রস্ত হচ্ছিলো যাত্রীরা বিশেষ করে নারী ও রোগীরা বেশি ভোগান্তির সম্মুখীন হয়েছে।

পরিবহন নেতাদের নানা ধরনের আপত্তির কারণে দীর্ঘ ৮ বছর পরেও সড়ক পরিবহন আইনটি পাস করা হচ্ছিলো না। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে দেশে অনেক দুর্ঘটনা ঘটলেও এই আইন সকলের দৃষ্টি অগোচরেই ছিলো। কিন্তু গত ২৯ জুলাই কুর্মিটোলায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী বিনা কারণে বাসচাপায় মৃত্যু এবং নৌমন্ত্রী শাজাহান খান দুর্ঘটনাকে র্পাশ্ববর্তী দেশের সড়ক দুর্ঘটনার সাথে তুলনা সেই সাথে অট্রহাসি দেওয়ার কারণে দেশজুড়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সড়কে নিরাপত্তার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে।

ফলশ্রুতিতে ওপর মহল ও নিচমহল সকলের দৃষ্টিগোচর হয় সড়ক পরিবহন আইনের বিষয়টি। এই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে জাতীয় সংসদে পাস হয় বহুল আলোচিত ও অপেক্ষিত সড়ক পরিবহন আইন। কিন্তু পাস হওয়া এই আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধনসহ ৪৮ ঘণ্টা কর্মবিরতির খোলাসে সারাদেশে ধর্মঘট পালন করছে সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন, যা সরকার-সমর্থক সংগঠন হিসাবে পরিচিত। আমাদের দেশে পরিবহন বলতে সাধারণত বাস, মিনিবাস, কার, সিএনজি ইত্যদি। সাধারণ জনগণ এই সব যানবাহন ব্যবহার করে যাতায়াত করে থাকে। যাতায়াত করতে গিয়ে তারা নানাভবে হেনস্তার শিকার হয় পরিবহন শ্রমিকদের হাতে।

এই কর্মসূচিতে সারাদেশে নৈরাজ্য চালায় পরিবহন শ্রমিকরা। সারাদেশে দূর পাল্লার যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ থাকে যার ফলে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে সাধারণ জনগণসহ সকল শ্রেণির মানষদের। এই ধর্মঘট চলাকালীন সময়ে মৌলভীবাজারের বড়লেখায় শ্রমিকদের অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখার জেরে  বিনা চিকিৎসায় মারা যায় সাতদিনের এক শিশু কন্যা।

পরিবহন ধর্মঘটের কারণে বিপাকে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক (সম্মান) ১ম বর্ষের ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। ২৮ অক্টোবর, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। যার ফলে বেশ ভালো রকমের সমস্যার সম্মূখীন হয় এই ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা।

এই পরিবহন ধর্মঘটকে নিয়ে ইতোমধ্যে অনেক প্রহসনের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবহন শ্রমিকের হাতে লাঞ্ছনার শিকার হয় নারায়ণগঞ্জের একটি কলেজের শিক্ষার্থীরা। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ভুঁইগড় এলাকায় নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রীদের বহন করা বাসে ছাত্রী এবং বাস চালকের মুখে ও  পরিধান কাপড়ে পোড়ামবিল লাগিয়ে দেয় পরিবহন শ্রমিকরা। অন্যত্র সিরাজগঞ্জে রোগী আনতে যাওয়া একটি অ্যাম্বুলেন্সে কালি ও পোড়ামোবিল ঢেলে দেওয়াসহ চালকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া যায় যা ধর্মঘটের বিরোধী কর্মকাণ্ড।

এ ছাড়া রাজধানীর শনিরআখড়া, মাতুয়াইল, জুরাইন, পোস্তগোলা, চিটাগং রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় যাত্রী ও চালকদের নানভাবে লাঞ্ছনার শিকার করে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, এই মুহূর্তে আইন পরিবর্তন করার কোন সুযোগ নেই। তাছাড়া আইন সাধারণত জনগণের কল্যাণে তৈরি হয়, পরিবহন শ্রমিকেরা জনগণের বহির্ভূত নয়। ফিটনেসবিহীন গাড়ী না চালালে, আইন মেনে গাড়ি চালালে কোনো আইনই বাস্তবিকভাবে শ্রমিকদের সমস্যার কারণ হবে না।

মূলত সরকার জনগণের, সরকারকে যে কোনো পন্থা অবলম্বন করে হোক পরিবহন শ্রমিকদের জনগণকে জিম্মি করার আন্দোলন থেকে ফিরিয়ে জনগণের যাতায়াতের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।সবকিছুতে জনসাধারণের ভোগান্তি। জনসাধারণ এই ভোগান্তির থেকে রেহায় পেতে চায়।

লেখক : শিক্ষার্থী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ।
 

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড