• বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন

মাদকাসক্তের সিংহভাগই শিক্ষার্থী

  শাফিউল কায়েস ২৩ অক্টোবর ২০১৮, ০৪:৪৪

মাদকসক্ত
ছবি : সংগৃহীত

দিনের পর দিন বাংলাদেশে বেড়েই চলেছে মাদকাসক্তের সংখ্যা। বর্তমানে দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা  ৬০ লাখেরও বেশি। যার মধ্যে সিংহভাগই শিক্ষার্থী। মাদক আমাদের সমাজকে ঘিরে ফেলেছে, যার বিষাক্ত ছোবলে মৃত্যু অনিবার্য। বেশির ভাগ শিক্ষার্থী  মাদকাসক্ত হওয়ার পেছনে কাজ করে বন্ধু-বান্ধব। প্রথমে তারা সিগারেট থেকে নেশা শুরু করলেও অন্যান্য মাদক দ্রব্যের প্রতি আসক্তি ধীরে ধীরে বেড়ে যায়।

একবার এই নেশার জালে জড়িয়ে পড়লে অতি সহজে কেউ বেড়িয়ে আসতে পারে  না। যার ফলে সমজে মাদকাসক্তরা দিনের পর দিন আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। সমাজ হয়ে উঠছে বিশৃঙ্খল। যে সময়টাতে তাদের হাতে বই, খাতা ও কলম থাকার কথা  ঠিক সে সময় তারা বুঝে হোক বা না বুঝে হোক মাদকদ্রব্য হাতে তুলে নিয়েছে। অতিমাত্রায় ওষুধ সেবন করলে  রাসায়নিক ক্রিয়ার  ফলে শরীর হয়ে ওঠে বিষাক্ত বা শরীরের সকল ক্রিয়া নিস্তেজ হয়ে পড়ে,ডেকে  আনে মৃত্যু।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে ড্রাগের অপব্যবহারের মাধ্যমে মাদকাসক্তির সূচনা হয়। অর্থাৎ অপব্যবহার কিংবা অতিমাত্রায় ব্যবহারে অভ্যাস, অভ্যাস থেকে আসক্তি।বর্তমানে দেশজুড়ে প্রায় ৫ লাখ বা তারও বেশি মানুষ নানা ভাবে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত, যার মধ্যে অনেক শিক্ষার্থী এই ব্যবসার সাথে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে জড়িতে  রয়েছে।

পড়ালেখা খরচ চালানোর জন্য বাড়ি থেকে কষ্ট করে মা বাবা যে  টাকা পাঠায়, একজন মাদকাসক্ত শিক্ষার্থী সেখান থেকে টাকা বাঁচিয়ে অন্য কোনো ভালো কাজে না লাগিয়ে মাদকদ্রব্য ক্রয় করে। আসক্ত শিক্ষার্থীদের অধিকাংশ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। আর যখন টাকা যোগাল করতে ব্যর্থ হয় তখন তারা বিভিন্ন রকমের অসামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়ে। এ সুযোগে মাদক ব্যবসায়ীরা  তাদেরকে দিয়ে খুন, অপহরণ, নারী ও শিশু পাচার, চাঁদাবাজিসহ নানা অসামাজিক  কাজে ব্যবহার করছে । তাদরে জ্ঞান থাকলেও তারা নেশার কাছে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে । তাদের চায় এখন মাদকদ্রব্য আর সেটা যে কিছুর বিনিময়ে হলেও।

সম্প্রতি দেশে হেরোইন ও গাঁজার অপব্যবহার হ্রাস পেলেও মিথাইল অ্যাম্ফিটামিন দ্বারা তৈরি ইয়াবা এর অপব্যবহার বর্তমানে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তথ্য সূত্রে, ইয়াবা মূলত পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার থেকে পাচার হয়ে আমাদের দেশে আসে। যার মূল মাথা হিসাবে কাজ করছে দেশের বড় বড় নেতা ও শক্তিশালী অপরাধীচক্র। সুতরাং এই বিষয় সহজে অনুমান করা যায় যে দেশের মাদকাসক্তির কারণে যে শুধু শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা নয়, এতে গোটা পরিবার, সমাজ কিংবা গোটা দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

মাদকাসক্তি প্রতিরোধের সর্বাপেক্ষা কার্যকর উপায় হচ্ছে মাদকদ্রব্য ও মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে সামাজিক ও ধর্মীয় সচেতনতা তুলে ধরা। এছাড়াও মাদকদ্রব্য অনুপ্রবেশের দিকে  সরকারে প্রশাসনের কড়া নজর দেওয়া যাতে কোনো ভাবেই দেশে মাদকদ্রব্য অনুপ্রবেশ করতে না পারে এবং মাদক ব্যবসার সাথে  প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের আইনি আওতায় গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। 

স্কুল,কলেজ ও  বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি মাদকদ্রব্য সেবনের কুফল সম্পর্কে শিক্ষা প্রদান এবং মাদকাসক্তদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা। সর্বোপরি , মাদকাসক্তি একটি পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সমস্যা, এটা সামাজ বিধ্বংসের মূল কারণ। তাই সবাই আসুন, আমরা নিজে সচেতন হই অন্যকে মাদকসক্ত হওয়া থেকে বিরত রাখি।
 

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড