• শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১ পৌষ ১৪২৬  |   ১৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

মুক্তিকামী মানুষের, মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন আজো অধরা!

  অধিকার ডেস্ক    ০৯ অক্টোবর ২০১৮, ১৩:০৬

এম আই কে রাশিদুল ইসলাম রাশেদ
এম আই কে রাশিদুল ইসলাম রাশেদ কবি, লেখক, রাজনীতিবিদ।

সাধারণে অসাধারণ অর্জন করতে, জাতির আত্মার মুক্তির লক্ষ্যে যারা ৭১এর সেদিনগুলোতে নেমেছিলো রাজপথে, করেছিলো রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। পরিশেষে সেদিন ছিনিয়ে আনতে পেরেছিলো একটি মহান মুক্তি, একটি স্বাধীনতা। কিন্তু আজো আক্ষরিকভাবে মুক্তির স্বাদ গ্রহন করতে পারেনি মুক্তিকামী মুক্তিযোদ্ধারা। এদের প্রায় সবাই মুক্তির স্বাদ না পেতে পেতে অধিক ক্লান্ত।

এরা যেন আজো বিশেষ কারাবন্দী। কিন্তু তাঁদের এই ক্লান্তিতে উৎফুল্লতার পরম স্বাদ পায় সেই সব লোকগুলো, যারা সেদিন এই জাতিকে শকুনের শক্ত ঠোঁটে বেঁধে রেখেছিলো, হায়েনার ন্যায় আচরণ করেছিলো। আসলে নেতৃত্বের দূরদর্শিতার কারণেই মুক্তিকামী মুক্তিযোদ্ধারা আজো পরাজিত হয় নিত্য। আজো মনস্তাত্ত্বিক কারাবরণ করছে এই মুক্তিকামী মুক্তিযোদ্ধারা, আজো কাঙ্খিত মুক্তি মেলেনি তাঁদের। ফলে অবহেলিত শরীর, মন নিয়ে যুগযুগান্তর হাঁটছে তাঁরা দিগন্তের পথে।

এ পথের শেষ নিশানা কোথায়? সেটা যেন এই মুক্তিকামী মুক্তিযোদ্ধাদের আজো অজানা রয়ে গেছে! আবেগের আর্থিক মূল্যায়ন কখনো কোন মানুষ বা কোন জাতি নির্ধারণ করতে পারেনি। তাবৎ দুনিয়ায় কেউ আবেগের আর্থিক মূল্যায়ন করতেও চায়নি। বরং ভালোবাসা, সম্মান, শ্রদ্ধা দিয়ে আবেগের মূল্যায়ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। এরাষ্ট্র মুক্তিকামী মুক্তিযোদ্ধাদের আবেগের মূল্যায়ন ভালোবাসা, সম্মান, শ্রদ্ধা দিয়ে করার চেষ্টা করেছিলো বটে। ১৯৭৫ পরবর্তীতে দুই দশক যথেষ্ট অবহেলিত হয়েছে এই মুক্তিকামী মুক্তিযোদ্ধারা। বলতে গেলে এই দুই দশক মোটেও পায়নি কোন ভালোবাসা, সম্মান ও শ্রদ্ধা।

১৯৯৬সালের পর আবারো যখন মুক্তিকামী মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান, শ্রদ্ধা, মর্যাদা প্রদানের জন্য রাষ্ট্র মনোনিবেশন করেন। তখনি সেসব পুরোনো শকুনেরা রক্তচক্ষু বা কুদৃষ্টি নিক্ষেপ করে মুক্তিকামী মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান, শ্রদ্ধা, মর্যাদার উপর। এখানে মুক্তিযোদ্ধা সম্মানধারীদের ও তাঁদের সন্তানদের চাকুরিক্ষেত্রে কোটাপ্রথা প্রদান বিশেষ তৎপার্যপূর্ণ এবং মর্যাদাপূর্ণ।

এরূপ মর্যাদাবান করা হয়েছে পৃথিবীর প্রত্যেকটি স্বাধীন রাষ্ট্রের মুক্তিযোদ্ধাদের। কিন্তু এরাষ্ট্রে যেন এটা মহা অন্যায়, বিশেষত ওদের দৃষ্টিতে। তাই স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি এই কোটাপ্রথাবিরোধী আন্দোলন শুরু করে ১৯৯৮সালে, ধারাবাহিকভাবে ২০০৫, ২০০৮, ২০১৩ এবং সর্বশেষ ২০১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান ও সফলকাম অক্টোবরে মন্ত্রী পরিষদের কোটাপ্রথা বাতিলের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে। এ সফলতা আপামর জনগণের নয়, বরং স্বাধীনতা বিরোধীদের।

সেই হায়েনা, সেই পুরোনো শকুনের উৎফুল্লতার সফলতা। আজকের এই নীতিহীন দুর্নীতিগ্রস্ত জাতি মুক্তিকামী মুক্তিযোদ্ধারা চাননি। রাষ্ট্রের দেওয়া অধিকার কেঁড়ে নিয়ে, সম্মান কেঁড়ে নিয়ে অট্টহাসি যারা দেয়। তাদের তো কাঙ্খিত অধিকার বন্টনের দায়িত্বে থাকার কথা ছিলো না। আসলে সম্মান বা অধিকার কাউকে দেওয়া হলে, তা ফিরিয়ে নেওয়া চরম ইতরতার শামিল। বিশেষত রাষ্ট্র তা কখনো ফিরিয়ে নিতে পারে না। কেননা কাঙ্খিত অধিকার মুক্তিকামী মুক্তিযোদ্ধারা ছিনিয়ে এনেছিলো রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে।

কিন্তু কাঙ্খিত অধিকার মুক্তিকামী মুক্তিযোদ্ধারা আজো পাইনি। এমনকি পুরো জাতির বেশীর ভাগ লোক আজো অবহেলিত। অনেকবেশী শোষিত আজো এরাষ্ট্রের জনগণ। শাসানোতে অভ্যস্ত শাসকরা হৃদয় দিয়ে চিন্তা করে না এ বিষয়ে। কেননা তাঁদের হৃদয় স্বার্থান্ধতায় পরিপূর্ণ। তাই এখন স্মৃতি খনন করে কোন কোন মুক্তিযোদ্ধা আর আঁখিজল পদযুগলের মাঝের মাটিতে ফেলে এবং মনে মনে বলে- হে মাটি! পেয়েছো কি তোমার মুক্তি? তুমি মুক্তি পেলেও, তোমার বুকে বেড়ে উঠা মানুষ আজো পায়নি মুক্তির স্বাদ!

মুক্তির স্বাদ যেন লেহনযোগ্য নয়। তবে কিছু মানুষ (যারা পুরোনো শকুন) মনে মনে স্বস্তির স্বাদ পায়, স্বস্তির ঢেঁকুর তুলে। কিন্তু কেন? এমন প্রশ্ন করলে- উত্তর দুর্বোধ্য। কেউ সঠিক উত্তর করেনা। সঠিক উত্তর দিলে যেন দৈবিক অমঙ্গল হয়ে যাবে! সত্যিই জাতির আত্মার মুক্তির স্বাদ গ্রহণে নানা বাঁধা, নানা অসামঞ্জস্যতা, নানা প্রতিকূলতা রয়েই গেছে। মুক্তিকামী মানুষের, মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন এখনো অধরা। আর অধরা স্বপ্ন কখনো সুন্দরম নয়। সুতরাং মিথ্যে অহংকার করা এ জাতির কোনভাবেই মানানসই নয়।

- এম আই কে রাশিদুল ইসলাম রাশেদ কবি, লেখক, রাজনীতিবিদ।

 

চলমান আলোচিত ঘটনা বা দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য সমসাময়িক বিষয়ে আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড