• শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১ আশ্বিন ১৪২৭  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

দৈনিক অধিকার নবান্ন সংখ্যা-১৯

কেউ একটা গোলাপ হাতে আজও আয়েশার দরোজায় কড়া নাড়েনি

  আদিব হোসাইন

০২ মার্চ ২০২০, ১৪:৪৫
কবিতা
মনের ইচ্ছেগুলো সাজাইয়া প্রতিনিয়ত ভালোবাসার ক্যানভাস আঁকে আয়েশা (ছবি : সম্পাদিত)

আয়েশার স্বপ্নের ক্যানভাস

মনের ইচ্ছেগুলো সাজাইয়া প্রতিনিয়ত ভালোবাসার ক্যানভাস আঁকে আয়েশা। হৃদয়ের সংগোপনে যতন কইরা রাখে একটি পুরুষালী দেহ। যার বুকে মাথা রাইখা বাসর সাজায় প্রতি রাত।

বিকেলের হিমেল সমীরণে ভাইসা আসা সুরে খোঁজে রাখালের বাঁশির সুর। জানালার কার্নিশ ধরে দাঁড়াইয়া পথচারী যুবকের বহুতে স্পর্শে আঁকে হাত। চোখ কল্পনা দেখতে দেখতে দূর কোথাও চলে যায়!

ওড়না পেঁচিয়ে ঝাড়ু হাতে সকাল-বিকাল দূর করে ঘরে অলক্ষ্মী, অপেক্ষা সুপুরুষের। এ ঘরের মাটি ও ঘরে রাখে। ঠোঁটের কোণে মুচকি হাসিতে জানায় পুরুষ তোমার আগমনের পথ চেয়ে আছি। সালাম নিও!

মা ও বাবার খোশগল্পে বাবার স্থানে আঁকে অন্য পুরুষ। ভাইয়ের স্থানে দেখে অন্য যুবক।

অদেখা পুরুষের স্বপ্ন বিলাসী সংসার ভাইবা রাত কাটে ঘোরে। প্রবাহিত রজঃস্রাবের উন্মাদনায় নিজেকে ভাবে কামুক যুবতী। শুধু অপেক্ষা, এক পুরুষালী দেহ মন্দিরে নফল নামাজ আদায় করার।

কোন অচেনা যুবকের পথ চলার ছায়ায় ছবি আঁকে প্রেম ও প্রেমিকের। কখনো বা পাশে দেখে নিজের অস্তিত্ব। শত দেহ কেটে খোঁজ নেয় নব্য যুবককে। যাকে নিয়া রাতে চিত্রায়ন করে স্বপ্নিল বাসর। যার ঠোঁটে লিপিবদ্ধ প্রেমের মানচিত্র। নগ্ন হাতে প্রথম গোলাপ।

পুতুলের বিয়ে দিয়ে কাঁইন্দা ভাসায় চোখ। আয়নার সমানে বসে সাজে নব বঁধু, পাশে রাখে যুবক। বারংবার কুন্তল দিয়ে ঢাকে স্তন। ঠোঁট বাঁকিয়ে ভেংচি কাটে অদৃশ্য প্রেমিকের দিক!

ডায়রির পাতায় লিখা অগোছালো লেখারা ছন্দ হারিয়ে বসেছে। কিন্তু কেউ একটা গোলাপ হাতে আজও আয়েশার দরোজায় কড়া নাড়েনি।

ফাঁদ

বুকের লোমে খামছে ধরে প্রতিটি রাতে ঘুমানোর স্বপ্ন দেখা মেয়েগুলোর স্বামীর বুকে লোম থাকে না!

কোন এক প্রেমবাজ যুবকের হাত ধরে রাস্তায় প্রেমের কাব্য তৈরিতে স্বপ্ন দেখা মেয়েগুলোর স্বামীর হাতের ছোঁয়াও পায় না।

ক্লান্তিকর রান্নার সময় পেছনে কেউ চুল সরিয়ে তরকারির স্বাদ নিতে আসবে স্বপ্ন দেখা মেয়েগুলোর স্বামীর কয়েক যুগও রান্না ঘরে আসা এবং যাওয়া হয় না।

তবু মেয়েরা স্বপ্ন দেখে এক পুরুষকে ভালোবাসার। কিন্তু সমাজ এবং পুরুষেরা আজও এক মেয়ের স্বপ্ন বুঝলো না, বুঝেও না, বুঝতে চায়ও না!

এক মেয়ে স্বপ্নগুলো অপূর্ণ রেখেই, আঁচলে চোখ মুছতে মুছতে একদিন পৃথিবী ত্যাগ করে৷ তখন পুরুষ খোঁজে নেয় অন্য একটা স্বপ্নবাজ মেয়েকে! শুরু হয় স্বপ্নধ্বংসে মৃত্যুর তারিখ গণনা!

কুসন্তান

ছেলের মৃত্যুর খবর শুইনা মা কাঁদেনি, লাশের পাশে স্ট্যাচু অফ লিবার্টি দাঁড়াইয়া আছে; নিশ্চুপ, অনুভূতিহীন, নীরব দর্শক।

ইশ্বরও হয়তো নিজের ভালোবাসায় পূর্ণ ফসলের ধ্বংস দেখলে মা’য়ের মতোই তাকায়।

লোকের আনাগোনা শুইনা আর চুপ থাকুন পারে নাই। কইতেছিলো, কুত্তার বাচ্চাকে তো জন্মের আগেই মারতে চাইছি, কিন্তু পারিনি!

বেশ্যাও পুরুষতান্ত্রিক

ভয় নেই মনে, সংকোচের আড়ালে হৃদয় খোলে ভাসায় স্বর্গীয় মুখ৷ দায় নেই শরীরের, দাম আছে বলেই লোভে কাতর টাকার চোখ।

যোনির দরদাম শেয়ার বাজারের দর-পতনের মতো উঠে নামে, যেই নারী আপন ঘরে ত্যাগে অন্যের ঘরে চোখ ফেলে গোপনে।

সমাজপতি, মন্ত্রী-তন্ত্রীর দখলে শহরের সকল উঁচু উঁচু ঘর, দাম নেই মনের, স্তনের দাম আছে বলেই বাজারে উঠে নর!

পতিতারা স্থান পায়না উঁচু ঘরে, একটাই কথা সৌন্দর্য নেই শরীরে যেই নারীর বাহিরে ঘোমটা ভেতরে নগ্ন, সমাজ তাকেই রাখে আদরে।

পুরুষতান্ত্রিক সমাজে গোপনে শরীর বিলায় যে, সেই থাকে সম্মানে তার বাহিরেও সুনাম বেশি, সবাই চিনে জানে ভদ্র নারী এক নামে।

টাকাওয়ালা খদ্দের না পেলে ক্ষোভে জোরে ছোট্ট বাচ্চা ছেলে টানে পাশে, সেই কিন্তু বেশ্যা, তার ভেতর সব সময় পুরুষতান্ত্রিক মনোবাসনাই পোষে!

নারীই অপয়া

পুরুষ; লুকাইয়া লুকাইয়া দেখে পাশের বাড়ির ভাবির স্তন, নারী; লুকাইয়া থাকে পাশের বাড়ির সাহেব বাইর হয় যখন!

পুরুষ; নির্লজ্জের মতো ভিতরে ভিতরে চুইষা নেয় কামের স্বাদ, নারী; আঁচলে ঢাইকাও ফিরাইতে পারেনা ভোগের চোখ, হিংস্র দাঁত।

পুরুষ, কসবিতে গেলেও পাড়াত বোনের শরীর ছুঁইয়া অট্ট হাসে, পুরুষই বিয়ের সময় এলেই খোঁজ লাগায় কোন যুবতীর সতীত্ব আছে!

তাও সমাজের চোখে, পরিবেশের মুখে পুরুষই নেতা কিংবা পালোয়ান, সেখানে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারী হাঁচি দিলেও চলে যায়, মান-সম্মান!

আরও পড়ুন : ভাদ্রের তুলোমেঘে উড়ে যায় সময়

jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড