• মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০, ১৭ চৈত্র ১৪২৬  |   ২৫ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

দৈনিক অধিকার নবান্ন সংখ্যা-১৯

অভিমানী আওয়াজ নিঃশব্দেই আটকে থাকে

  নীলাদ্রি শুভ্রতা

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৩:০৭
কবিতা
আপনাকে ছুঁয়ে যাওয়া ভীষণ দুর্গম (ছবি : সম্পাদিত)

পাহাড় এবং আপনি

জানেন? আজকাল খুব করে ইচ্ছে করে আপনাকে ‘পাহাড়’ বলে সম্বোধন করতে।
প্রিয়, শুভ্র, অনিরুদ্ধ, মেঘ বা অনিমেষ সম্বোধনের বদলে কাউকে পাহাড় বলার ইচ্ছেও কারো মনে জাগে!
কি অদ্ভুত ইচ্ছে তাই নাহ?

আপনাকে ছুঁয়ে যাওয়া ভীষণ দুর্গম। চাইলেই হয়ে উঠে নাহ। যেমনটা হয় উঁচু পাহাড় ছোঁয়ার ক্ষেত্রে।
উঁচু পাহাড় খুব দুর্গম হয় আবার দূর হতে তাকালে চোখে লেগে যাওয়ার মতো ভালোবাসার বস্তু...

আমার কাছে মনে হয় দূর হতে সবকিছুই বেশ সহজ এবং স্বাভাবিক 
সামনে গেলেই সব কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠে....
এই যেমন ইচ্ছে হলেই হুট করে পাহাড়ের বুকে পদার্পণ।
কিংবা চোখের সামনে রেখে আপনাকে ‘পাহাড়’ বলা।


অভিমান

অভিমানের উগ্রতায় একদিন দুজনেই সব ছেড়েছুড়ে যোগাযোগ নিভাই।
নীরবে নিঃশব্দে সমুদ্র জলরাশি 
চোখে হতে জড়াই..

একদিন হঠাৎ, 
আমাদের দেখা কোনোএক স্টেশনের ধার-কাছে।
চোখের উপর থেকে চোখ এড়িয়ে রাস্তা পাল্টাই,তুমি আসো পিছে-পিছে

ভেতরে বাড়তে থাকে এক অদ্ভুত কাঁপুনি
চোখে ভেসে উঠতে থাকে স্মৃতির ঝাঁকুনি।

পাড়ার গলি বদলাই
হাঁটার গতি বদলাই
সাথে ভীষণ কষ্টে সামলাই পিছু-দৃষ্টিকে।

হঠাৎ, তুমি ডেকে উঠলে
প্রিয় ডাকনামে, প্রিয় সুরে
হৃদগৃহে সাইক্লোন বয়ে যায় আর্তনাদের এবং আঁখি অগ্নি দাবানলে পুড়ে।

তাৎক্ষণিক ইচ্ছে হয়,
আঁখির দাবানল থামাতে কিনে নিয়ে আসি এক আকাশ বৃষ্টি।
তুমি এসে ছুঁয়ে বললে,আমার চোখে রাখো তোমার দৃষ্টি।

অথবা,
ভীষণরকম অভিমান জমা থাকলে ভ্রুকুটিয়ে আচ্ছা করে বকে দাও!
ফের আমায় বকাঝকার কোলাহলে আগলে নাও।

এমন করে নিজেও পারছি না যে আর!
তবে কি দীর্ঘ অভিমানের যুদ্ধের এখানেই ঘটবে উপসংহার?

এবং ভাবনায় আমি নীরব
অস্থিরতায় ভীষণ ঘামছে চিবুক!
তবুও আমি স্তব্ধ।
এবার বরং অভিমানী যুদ্ধ নিভুক!ৎ


শ্মশান

শ্মশান লাগে,
বুকের অতল গহ্বরে, কেমন যেন শ্মশান লাগে।
স্তব্ধ পিচ ঢালা রাস্তায় পদচারণে
পায়ের পাদদেশে শ্মশান লাগে।

চোখের কোণে লবণাক্ত উষ্ণ জলের ঢেউ শ্মশান নদী লাগে।
শান্ত-নীরব শ্মশান নদী, অথবা মৃত নদী।
মশালের আগুনে ট্রামলাইন বিধ্বস্তের চিত্র কেমন যেন শ্মশান পথ মনে হয়।

শতবর্ষের জমানো আবর্জনায় মিশে থাকা, পুরনো কুয়ার নিকটস্থ হয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেললে কেমন একটা শ্মশান ঘ্রাণ আসে।

ষোলো যুগ পেরিয়ে সব ধ্বংসের পর ভাঙাচোরা লোহার সিন্ধুকে ধ্বংসাবশেষ পরে থাকা এক কৌটা কাজল।
একচিমটি কাজল চোখে লেপ্টে দিলে, শ্মশান ছাই লাগে।
কাজল সাজের তৃপ্তিতে উচ্ছল হয়ে উঠে কিশোরীর আঁখি।

অবেলার স্টেশনে বসে থাকলে কোথাকার শ্মশান যেন করুণ সুরে ডাকে!
এবং ট্রেন আসে,
ট্রেনের জনশূন্য কামড়ায় জানলার পাশে বসে শ্মশান ঘ্রাণে বিমোহিত হই,তলিয়ে যাই নেশায়। 
এই বুঝি অন্তিম ট্রেনে শ্মশান বাড়ি যাই..


আজকাল যা হয়

স্তব্ধতায় গা ছমছম করা ভরদুপুরে অপেক্ষা হয় প্রাণের অস্তিত্বহীন বিশালাকৃতির মরুদেশের ন্যায়।
জলহীন রুক্ষ, তপ্ত বালির স্পর্শে পা পুড়ে ঝলসাতে চায়,বা হৃদ'ঘর দগ্ধ হয়।

প্রিয় গল্পগ্রন্থের নানা রঙে রঙানো রঙিন প্রচ্ছদসমূহ আচানক হয়ে উঠে ধূসর অথবা অ'রঙিন।
প্রচ্ছদের মলাটে অদৃশ্যমান আনাগোনা হয় বিষাদ অস্তিত্বের।
রূপকথার কবিতাগুচ্ছে আসেনা প্রাণবন্ত ভাব।

আবাদি ভূমিতে অযত্নে বেড়ে উঠা গুল্মলতা’রা নিজেদের মাঝেই আড়ি ভাব জমায় আমি স্বচক্ষে দৃষ্টিপাত করি।
কি ভীষণ অভিমানী তারা!
অথচ তাদের অভিমানী আওয়াজ নিঃশব্দেই আটকে থাকে, চেঁচামেচি নেই শোরগোল নেই...

বিস্তীর্ণ আকাশের নিচের জন কোলাহলপূর্ণ এক নদী খুব মনযোগী হয়ে শুনে এবং দেখে দূরদেশ থেকে আগত অসহায় চোখে চাহনিরত মানুষের ওপাড়ে যাওয়ার তীব্র ব্যাকুলতার স্বর,প্রিয়দের নিকটে ফিরে যাওয়ার আকুলতা।
আবার কখনোবা সে নিজেই জুড়ে বসে তাদের সাথে অলীক সংলাপ।

বেলা পেরোয়, প্রকৃতির সমস্ত কোলাহল ছুটি পায়।
মস্তিষ্কে নেমে আসে ফেলে আসা অপরিমেয় স্মৃতির প্রতিচ্ছবি এবং ছেড়ে-ছুড়ে পালানো ইচ্ছে বা আটকে যাওয়ার দীর্ঘশ্বাস।
মুহূর্ত পেরোয় আঁখি পলকের দাম্ভিকতা নিচু হয়, সাথে নিচু হয় দাম্ভিকতাপূর্ণ শব্দলিপি কিংবা দাম্ভিকতা মেশানো কন্ঠস্বর।

একটা, দু’টো, কয়েকশো, কয়েক হাজার কয়েক লক্ষাধিক, এমন করে অগণিত নক্ষত্র এসে উঁকি দেয়। তার এমন নিয়মিত উপস্থিতিতে অঢেল বিষণ্ণতা  ভার জমায় বিরহকাতর মানুষের অস্তিত্বে। আবার রোমাঞ্চকর মানুষের বেলায় তার উপস্থিতি হয় মুগ্ধতার। আবার কেউবা শব্দহীন হয়ে দেখে যায় আকাঙ্ক্ষার সমাপ্তি। 

বড়ই অদ্ভুতুরে প্রকৃতি!
প্রকৃতির এমন অদ্ভুত নিয়ম হয়তো তার ইচ্ছেতেই চুক্তিবদ্ধ।
যদিওবা পিছনে ফেলে আসা দিন বর্তমানে সম্পূর্ণই অস্পষ্ট। 
তবে, আজকাল এভাবেই চলছে সব, ঘটছে সব, ঘুলিয়ে /মিলিয়ে বা প্রকৃতি চালিয়ে যাচ্ছে সব।


একজন দুর্দান্ত তুমি

এবং তুমি যথেষ্ট দুর্দান্ত। 
কিভাবে জানতে চাইবে? বুঝতে আসবে? বা কথার যথার্থতা মেলাতে?
আসবে প্রশ্ন করতে?
তোমার খেয়ালের কারণ দর্শন করতে ছুটবে পিছু?

নাহ!দূরে থেকো।
এসোনা জানতে, বুঝতে বা খুঁজতে। এমন অদম্য সাহসিকতা নিয়ে পা বাড়িয়ো নাহ।

তুমির মস্তিষ্কে প্রশ্নের আনাগোনা, এইতো!
ইচ্ছে হচ্ছে আমার মনপ্রকোষ্ঠে এসে হুটহাট সব জেনে নিতে?

উত্তরে, ‘কই না তো!’

আমি চেহারা ভীষণ পড়তে জানি প্রিয় সে তোমার অজানা...
যেখানে বহু রঙের সাথেই এখনো তুমি সম্পূর্ণ অপরিচিত, সেখানে আমাকে তুমি পুরোপুরি জেনে যাবে!
তা মেনে নিচ্ছি না আপাতত।

আচ্ছা, মেঘের ঘ্রাণ নিয়েছো কখনো?
আগুনে পোড়ার ঘ্রাণ।
বৃষ্টি অথবা কুয়াশার ঘ্রাণ?
হেয়ালিপনায় বা ইচ্ছেতে? 

আমার আবার আগুনে দগ্ধ হওয়া কাঠপোড়ার গন্ধ নাকে নিতে ভালো লাগে ভীষণ।
আমার ভীষণ ভাল্লাগে নিঃশ্চুপ পিচঢালা রাস্তায় হাটতে তাও সময়টা আনুমানিক স্তব্ধ মধ্যরাত।

শ্যাওলা জমে যাওয়া শতবর্ষ পূর্বের ভাঙ্গাচোরা পুরনো ভবনের এককোণ ঘেঁষে বসে খোলা কেশে মাথা এলিয়ে শ্যাওলার স্পর্শে মোহিত হতে ইচ্ছে হয়।

আবার ইচ্ছে হয় গোধূলিলগ্নে হতে গাঢ়ো সন্ধ্যে পর্যন্ত নীরবতা আঁকড়ে ধরা নদীপথে নৌকার একপাশ ঘেঁষে কমদামী সুতি শাড়ী গায়ে জড়িয়ে গোধূলি গায়ে মেখে নিতে...

তুমি দুর্দান্ত।
তোমার ভালোবাসা এবং আমার অজ্ঞাত ইচ্ছে জানার আগ্রহ আমি দূর হতে দীর্ঘ সময় নিয়ে আড়িপাতা চোখে দৃষ্টিপাত করেছি।
প্রশ্ন, 
কখন?
কবে?
কোন লগ্নে?

প্রশ্ন করিয়ো নাহ,প্রকাশ ইচ্ছেশক্তিতে আমি বরাবরের মতোই চাপা স্বভাবের।
‘আমাকে অনুভব করে তুমি শূন্যতেও চিরকুট প্রেরণ করো’
কতটা দুর্দান্ত তুমি!
তা হয়তো আমার চিন্তাশক্তির বহু দূরে এবং বহু দূরে...

আরও পড়ুন : এই মিছিলগুলোই একদিন ইতিহাস হবে

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড