• বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

দৈনিক অধিকার নবান্ন সংখ্যা-১৯

ভাদ্রের তুলোমেঘে উড়ে যায় সময়

  বিনয় কর্মকার

৩০ জানুয়ারি ২০২০, ১২:৪৯
কবিতা
বৃষ্টিফাঁকির দিন, হতাশার নিমগ্ন প্রার্থনা ( ছবি : সম্পাদিত)

আটপৌরে

বৈশোখী আবাদী-দিন; দিনগোনা- মইয়ের মিহিন মাটি... গজিয়ে ওঠা দুটি পাতার ডাক।

আকাশে চেয়ে-চেয়ে শরীরজুড়ে ঘাম; আগুনপোড়া আকাশ। বৃষ্টিফাঁকির দিন, হতাশার নিমগ্ন প্রার্থনা; বৈশাখ কাটে, জ্যৈষ্ঠ কাটে...

আষাঢ়ের বানভাসা দিনে! আমি সাঁতরাই; ধানক্ষেত ডুবসাঁতার- উৎকণ্ঠা ডুবসাঁতার। সবুজধান; ঘোলাপানি, সবুজধান; কালাপানি।

নাইওরী নাও, রঙিন পাল, ভাইয়ের মুখ, বাবার মুখ; জলভাসা গ্রাম, মায়ের মুখ, শ্রাবণ যায় ভাদ্র যায়......

তবুও সংসার; অলস জলভাসা। যাত্রাদল, রঙিনবাতি, রাজা-মন্ত্রী জড়োয়া পোশাক ! ক্ষণিক ভোলা, ক্ষণিক প্রাণ..... হাড্ডিসার গরুর গোয়াল; সংসার বাস্তবতা টানাপোড়েন, আশ্বিন---- যায়না; কার্তিক --- যায়না.. তবুও--- রাত ; তবুও--- দিন..

অগ্রহায়ণ; সোনালী ধান.... অগ্রহায়ণ; অনেক হাসি.... অগ্রহায়ণ; গ্রামে-গ্রামে নবান্ন... অগ্রহায়ণ শহরে-শহুরে নবান্ন !

মিউজিয়াম

শহুরে নবান্ন দিন। ডায়েরিতে ভরকরে মনোপোজ শব্দমালা! আমনধানের গন্ধ ভুলেগেছি কতোকাল... আমাদের মাঠজুড়ে হাইব্রিড।

মিউজিয়ামের শোকেসে ভাঙ্গা পুতুলও সমাদর পায়, তবু বালিকার কোমল হাত মিসকরে খুব!

কৃষক

নাড়ার গাদা দেখে হেসে ওঠে গরুর পাল! লাকড়িচুলাও সন্তুষ্টির সুর তোলে গোবরঘুঁটেয়! বড়শির আগুনইশারা আজও বোঝেনি পতঙ্গমাছ!

ভাদ্রের তুলোমেঘে উড়ে যায় সময়! কেউ-কারও খবরও না রাখলেও- ভাতের হাঁড়ি জানে; গঞ্জের মোকামে বন্ধক কৃষকের কোষ্ঠী।

ধানের আবাদ করে, কতো-সাল চিটা নিয়ে ফিরেছি!

কৃষক কাব্য

আমাদের, একটা দরজার কথা বললেন! আমরা সদর দরজা ভাবলাম। খিড়কিখোলা, হাওয়া ঢোকে; বেরিয়ে যায়... আপনি ভাবলেন, এ-তো সুতোছেঁড়া ঘুড়ি!

রাজ-রাজাদের মহল, মন্ত্রী-সেপাই এমন দৃশ্যপটে, কোনোদিন দেখেছেন? উচ্চশিরে দাঁড়িয়ে আছে খাজনার প্রজা!

কিছু ড্রয়িংরুম এমনই; শোকেসে শোভাপায় জোড়া হালের বলদ, মাথাল মাথায় কৃষক! আর আমাদের দরজা পেরিয়ে যে ফসলের মাঠ; সে-মাঠের শস্যে এখনও আগুন জ্বলে....

ভাতশিল্প

উঠোনের এককোণে উনুন, মায়ের কোমল হাতের ছোঁয়া, লাকড়ি কিংবা শুকনো পাতার স্তূপ; ঘসি অথবা গোবরমুঠো, ধোঁয়া-মেশানো আগুন, রান্না বলতে-- আমি এই-ই বুঝতাম।

মা ছিলেন গৃহিণী!

বাণিজ্যিক-করণে রান্নাও শিল্প হয়ে ওঠে! প্রতিনিয়ত কতশত চাকচিক্যে এগোয়! অথচ; ক্ষুধার কাছে শিল্প ভীষণ হাস্যকর।

আরও পড়ুন : বুকচাপা কষ্টে শ্লোক বেঁধেছি নৈঃশব্দ্যের শিবিরে

ওডি/এসএন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড