• বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২০, ১৯ চৈত্র ১৪২৬  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

দৈনিক অধিকার নবান্ন সংখ্যা-১৯

এখন তো মনের দামে বাণিজ্য চলে -আকাশ ছোঁয়া

  সাফিনা আক্তার

৩০ জানুয়ারি ২০২০, ১১:০৭
কবিতা
একগুচ্ছ সবুজ ফিতে, বলা হয়নি অযাচিত গন্তব্যের কথা (ছবি : সম্পাদিত)

সিদ্ধহস্ত

নির্বাসন থেকে এবার মুক্তির ঢেউ একরাশ জলোচ্ছ্বাস জেগেছে প্রাণে পাড়ে পাড়ে উপচে পড়ে পানির গন্ধ, তুমি ছুঁয়ে ছিলে যখন আদিম নদীপথ গিরিতল থেকে লোকালয় সংস্কৃত দিন। মন্ত্রমুগ্ধের মতো উপাসনায় চাষির চোখ, ঝলমল হেমন্ত শস্য রাশি রাশি রূপালী জোছনা উষ্ণ এক মায়াবী চৈতন্য ।নীল সীমানা জয়ে একদিন দেখি তুমি ও হয়ে উঠেছো পিতামহের মতো ‘আদিম চাষি’ হেমন্ত পুরুষ, কৃষক আমার দু’চোখ তখন উঁকি দিতে থাকে উদাসী কৃষাণী, আদিম নারীর মতো।


সকাল-বিকাল

শরীরের ভেতর খিল এঁটে দেই অদ্ভুত ঘোর
পিপাসার আঁধারে দিয়েছি চোখ বিস্ময়ের ভোর
দরজার ওপাশে সূর্য ছিলো নিজের আলো ফেলে
সুবাস ছুঁয়ে অশোক অপরূপ, মায়া দেয় ঢেলে
মহিমময়ী আগুন করে ফাগুন শরীর খুলে
নয়ন জড়িয়ে চেয়ে থাকি রমণ প্রার্থনা ভুলে!
স্বপ্নঘোর আঘাত দিয়ে নক্ষত্রের আলো আকাশে
শোষণের ব্যথা বিধুর বয়ে চলে বাতাসে।
চাঁদের গায়ে দাগ পড়েছে তমাল তলে বসন্ত
অদ্ভুত ঘোর কাটছে তবু শেষ গোধূলি অশান্ত,
লোভের দুয়ারে আলো-ছায়া উপচে নাচে মৌটুসী
আমি একা গাজন গাই সমর্পণে প্রেম সন্ন্যাসী
দ্রোহে মজে মহারথী দহনের জ্বালা শুধু রসে
কোমল ঠোঁটে সুরবাধি ঢেউ যেন হাসে।


শীত

হিমেল সকালে খুললে দরজা শীতলা বাতাস ঢুকে
ঠাণ্ডা চাবুকে হায়, কী পিটনি হাত-পা-শরীর, বুকে
হিমেল সকালে হাকলে আজানে, গরম পানিতে অজু
কান ও গা-মাথা বস্ত্রে আঁটিয়া যার তে কাজেতে রুজু।
হিমেল সকালে পুষ্পমধুরা অট্ট হাসিয়েছে চুপে,
হয়তো লেপেও বুকে প্রিয়কে তৃপ্ত হয়েছে লুফে।
হিমেল সকালে টিয়ারা কেঁদেছে কার যে বিরহ দেখে
ঝরছে এখনো অশ্রু নীরবে সুরমা কপোল মেখে।
হিমেল সকালে ফিরনী সে রসে রস দে ভিজানো পিঠা
গন্ধেও স্বাদে চিত্ত ভরে যে আর যে কী তাজা মিঠা!
হিমেল সকালে ফুলেরা শেফালি শ্যামল বিছানে ঢলে,
তুলছ কিশোরী যন্তে আঁচলে সূত্রে গেঁথে দে গলে।


বিষণ্ণ সন্ধ্যা 


লেখার কথা ছিল ,চুমুর গান লিখব-ঠোঁটের সুরে ঘ্রাণ, ভুলে গেছি শিরোনাম সেই কবিতার
কি কি করি কই কই যাই, কি কি দেখি কত কী ভাবি?
হাতে হাত রাখি, চোখে চোখ মাখি! দাঁতে দাঁত কাটি সব ভুলে যাই!
তুমি তুমি ডাকি বহু ছবি আঁকি, জলে জল-জোছনায়! তুমি শুধু তুমি তন্দ্রায়।
ঋকটু ছুঁয়ে; শিবিরে ধুয়ে মুখ খানি নুয়ে ভেসেছি গঙ্গায়!
একটা কবিতা ঐ চোখে ভেজা ভেজা ঠোঁটে আঁকি শুভ্র লজ্জায়।


ভীষণ জ্বর মনে, কবিতা পুড়ছে শরীর!
ঠোঁটেরাও জ্বর ঠোসায় খুব রোগা আর অচল চুম্বনে
কেমন করে তুমি প্রেমের বাণী দাও,
উচ্চ স্বরে মৌলিক চাহিদা খাটাও
এখন তো মনের দামে বাণিজ্য চলে -আকাশ ছোঁয়া
দ্রব্যের দাম জীবন যেখানে জীর্ণ অনুদান!
আর তুমি পড়ে থাকো শিরি-ফরহাদ আহ্লাদে।


কত বকুলের ঘ্রাণে মিশে গেল চুম্বের শব্দ আর আমি কেবল তোমাতেই পড়েছিলাম-পথ ভোলা নাবিক, সকল শব্দগুচ্ছ ভোরের চৌকাঠে ঝিঁঝিপোকা কাঁদতে স্মৃতিরমিনার ভরে।

একগুচ্ছ সবুজ ফিতে, বলা হয়নি অযাচিত গন্তব্যের কথা, শালুক তুলতে গিয়ে বহুবার ডুবেছি অতলে! ডুবুরির সূত্র জানা নেই, কালের সাঁতারে ভেসে উঠে দেখি আমি তুমিহীনা।

আরও পড়ুন : পেন্সিলের ঢেউ এঁকে ভাসাচ্ছি কাঠগোলাপ

ওডি/এসএন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড