• শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১ আশ্বিন ১৪২৭  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

দৈনিক অধিকার নবান্ন সংখ্যা-১৯

চাকরি নাকি দাসত্ব

  মাহবুব নাহিদ

০১ মার্চ ২০২০, ১৫:৫৭
প্রচ্ছদ
ছোটবেলা থেকেই ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হবার স্বপ্নে বিভোর হই আমরা (ছবি : সম্পাদিত)

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের যুগবাণী থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে- আমাদের শক্তি সামর্থ্য স্থায়ী না হওয়ার কারণ হয়তো আমরা চাকুরীজীবী হবার একমাত্র স্বপ্ন দেখি বলেই, ছোটবেলা থেকেই ডাক্তার হবার স্বপ্ন কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হবার স্বপ্নে আমরা বিভোর হয়ে থাকি। নিজেদের জীবনে কোনো ব্যতিক্রম পরিকল্পনা থাকে না আমাদের। আমাদের শুধুই কারো অধীনে কাজ করার সখ। আমাদের স্বভাবসুলভ আচরণ বাস্তবসিদ্ধ প্রাকৃতিক অকৃত্রিম আচরণ যেন অবেলায় হারিয়ে যায় চাকরী নামক প্রভুত্বের দিন গুনতে গুনতে।

আমরা আমাদের মস্তিষ্ক, জ্ঞান বুদ্ধি শ্রম এমনকি ঘাম নামক রক্ত বিসর্জন দিচ্ছি, হারিয়ে ফেলছি নিজের স্বকীয়তাকে। প্রবল অত্যাচার অন্যায় বাধ্যতার যাঁতাকলে পিষ্ট হয়েও ঠোটের কোন এক কৃত্রিম হাসির গান গেয়ে যেতে হয়। অধীনতা জীবনের গ্লানি টানতে টানতে তারুণ্যের হাড়ে বার্ধক্যের ছোঁয়া লেগে যায়। এই অসম্ভব বেদনাদায়ক যন্ত্রণা চিরতরে আমাদের শেষ করে দেয়না হয়তো, তিলে তিলে দেহের লোহিত রক্তকণিকা অণুচক্রিকা এমনকি হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিকতা ধ্বংস করে দেয়।

হয় তো পরিবারের প্রয়োজনে এই আগুনের মুখে ঝাপ দিতে হয় কিন্তু এই স্বেচ্ছায় ধর্ষণ হবার জন্য এক গগনচুম্বী যুদ্ধের সম্মুখীন হতে হয়। সাপের ছোবলে বা বাঘের থাবা কিংবা ডলফিনের খাদ্য হয়ে ফিরে আসতে হয়। ধুঁকিয়া মরিয়া পিষিয়া আমাদের মনুষ্যত্ব নামক সবচেয়ে বড় অর্জনটি হারিয়ে ফেলতে বাধ্য করে।

চাকরিক্ষেত্রে অনেকেই উপরে ওঠার সিঁড়ি হিসেবে তৈলমর্দন পেশাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। চাকরি করতে গিয়েও আমরা অনেকেই কাজের চেয়ে উপরস্থ ব্যক্তিদের মনোরঞ্জন করার ব্যাপারে বেশি মনোযোগী হয়ে উঠে।

চাকরী মানেই দাসত্ব নয়। চাকরী আস্তে আস্তে আমাদের দাসে রূপান্তর করতে পারে। নিজেদের মানসিক বিচার বিশ্লেষণ, শক্তি সামর্থ্য সকল কিছুই আবদ্ধ করে ফেলে। প্রত্যেকটা মানুষের মাঝে লুকিয়ে থাকে একটা সৃজনশীলতা। প্রতিটি মানুষের থাকে তার একান্ত স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্য। সে তার বিশ্লেষণী দক্ষতা দিয়ে গড়ে তুলতে পারে নিজের একটি প্রতিষ্ঠান।

নিজের প্রতিষ্ঠান নিজেই পরিচালনা করার বোধশক্তি আমাদের রয়েছে। কিন্তু আমাদের মূল সমস্যা হচ্ছে আত্মবিশ্বাসের জায়গায়। আমরা নিজেরাই নিজেদের চিনি না। আমরা কান চিলে নিয়ে গেছে শুনে চিলের পিছে ঘুরে মরি। আমরা খুঁজে বেড়াই কি কারণে আমরা সফল হতে পারছি না। নিজেদের ব্যর্থতার দ্বায় কারো উপরে চাপিয়ে দেয়ার মানুষ খুঁজতে ব্যস্ত আমরা। কিন্তু আমরা জানিনা যে আমরা নিজেরাই নিজেদের ব্যর্থতার জন্য দায়ী। আমিই আমাকে পিছয়ে দিচ্ছি।

আজ আমাদের জেগে উঠতে হবে,নব-চেতনায় নব উল্লাসে নতুন দিনের শপথ নিয়ে আগাতে, আগামী দিনের বিজয়ের পতাকা যেন আমাদের হাতেই থাকে।

আরও পড়ুন : প্রেমে পৃথিবী জয় করা যায়

আমাদের শক্তি সাধনাকে নতুনত্বের পিছনে ব্যয় করতে হবে। কবি বলেছেন “যে তিমিরে,সে তিমিরে” আমরা আমাদের বুদ্ধিবৃত্তি নিজের প্রয়োজনে দেশের প্রয়োজন সৃজনশীল ভাবনায় ব্যয় করবো,এর আগে এই দাসত্ব ভুলতে হবে আগে। দেহের মুক্তি হলেই অন্তরাত্মা মুক্তি পাবে।

jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড