• মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ফাহাদ হত্যাকাণ্ড

ঘাতকদের সঙ্গে রাত পার করেন দুই শিক্ষক (ভিডিও)

  অধিকার ডেস্ক

১০ অক্টোবর ২০১৯, ১৭:৩০
আবরার
আবরারের লাশ হলগেটে রেখে খুনিদের সঙ্গে দুই শিক্ষক (ছবি : সংগৃহীত)

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের লাশ পাশে রেখে ঘাতকদের সঙ্গে রাত পার করেন দুই শিক্ষক। আবরার ফাহাদকে নির্মম হত্যা করার পর শের-ই বাংলা হলের প্রভোস্ট জাফর ইকবাল খান এবং ছাত্রকল্যাণের পরিচালক মিজানুর রহমানের সঙ্গে হলের গেটেই নির্লিপ্ত আলাপচারিতায় মগ্ন থাকেন হত্যাকারীরা। এ সময় খুনিদের   নির্লিপ্ত মনে দেখা যায় ফাঁস হওয়া ভিডিও ফুটেজে। শুধু তাই নয়, হত্যাকারীদের সঙ্গে হলগেটে রাত পার করে দেন হলের প্রভোস্ট ও ছাত্রকল্যাণ পরিচালক।

পরে রবিবার ( ৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের নিচতলা থেকে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

সর্বশেষ ফাঁস হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, ফাহাদের লাশ পাশে রেখেই শের-ই বাংলা হলের প্রভোস্ট জাফর ইকবাল খান এবং ছাত্রকল্যাণের পরিচালক মিজানুর রহমানের সঙ্গে খুনিরা আলাপচারিতায় মেতে উঠেন। পরে আবরার ফাহাদের হত্যাকারী ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গেই হলগেটে রাত পার করে দেন প্রভোস্ট জাফর ইকবাল খান এবং ছাত্রকল্যাণের পরিচালক মিজানুর রহমান।

পাঁচ দিনের রিমান্ডের প্রথম দিনে ডিবি পুলিশ ১০ আসামিকে পৃথক ও মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এদিকে, বুধবার (৯ অক্টোবর) আরও ৩ আসামিকে রিমান্ডে নিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাদের নিয়ে মোট ১৩ জন ছাত্রলীগ নেতাকে রিমান্ডে নেওয়া হলো।

রিমান্ডে ছাত্রলীগ নেতারা জানান, আবরার ফাহাদকে থেমে থেমে ৫ ঘণ্টা অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। বুয়েট ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপ-সম্পাদক অমিত সাহার শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে রাত ৮টার পর থেকেই শুরু হয় নির্যাতনের পালা। মূলত ৩ দফায় পেটানোর একপর্যায়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এ মেধাবী ছাত্র।

রিমান্ডে থাকা আসামিরা ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিল ২৪-২৫ জন। তবে বুধবার প্রকাশ হওয়া সর্বশেষ ভিডিও ফুটেজে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ৬-৭ জনকে দেখা গেছে।

জানা গেছে, রবিবার রাতে অমিত সাহার রুমে প্রথম দফায় মারধরের নেতৃত্ব দেন ছাত্রলীগ বুয়েট শাখার সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল। তার সঙ্গে মারধর শুরু করেন বুয়েট ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন ও উপসমাজ সেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল। এরপর তাদের সঙ্গে যোগ দেন জিওন, মনির, মোজাহিদুল ও অনিক সহ অন্যরা। প্রথম দফায় মারধর চলে রাত ১১টা পর্যন্ত। এরপর রাতের খাবার খাওয়ানো হয় ফাহাদকে। খাওয়ানো হয় ব্যথানাশক ট্যাবলেটও। দেয়া হয় মলম। দ্বিতীয় দফা মারধর শুরুর সময় মারমুখী ছিলেন অনিক।

এ সময় বার বার বমি করছিলেন নিহত আবরার। একপর্যায়ে তাকে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় মুন্নার কক্ষে। সেখানে আবরারের শরীরের ওপর অনিক ক্রিকেট স্ট্যাম্প ভাঙেন। পরে আরেকটি স্ট্যাম্প দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। তৃতীয় দফার মারধর শুরু হয় মুন্নার কক্ষে। তখন গভীর রাত।

অমানবিক নির্যাতনের পর ফাহাদ লুটিয়ে পড়েন। এরপর আবরারের নিথর দেহ টেনে-হিঁচড়ে নিচে নামানোর চেষ্টা করেন খুনিরা। সিঁড়িতে যেতেই তারা বুঝতে পারেন মারা গেছেন আবরার। এরপর সিঁড়িতেই ফাহাদের লাশ রেখে ওই স্থান ত্যাগ করেন হত্যাকারীরা।

পরে হত্যাকারীরা দীর্ঘ সময় কাটান হল প্রভোস্ট জাফর ইকবাল খান ও বুয়েট ছাত্রকল্যাণ পরিচালক মিজানুর রহমানের সঙ্গে। ঘটনার পর তারা বেরিয়ে হলের গেটেই অবস্থান করেন। ফাহাদকে সবচেয়ে বেশি মারধর রাসেল এবং অনিক।

এ বিষয়ে ডিবির একাধিক কর্মকর্তা জানান, খুনিদের টার্গেটে  ছিল আবরার ফাহাদ।

তাদের ধারণা ছিল সে ছাত্রশিবির বা অন্য কোনো ইসলামী ছাত্র সংগঠনের কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। সম্প্রতি তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে তেমনটিই মনে হয়েছিল খুনিদের কাছে।

ঘটনার রাতে আবরার ফাহাদ ২০১১ নম্বর কক্ষে যাওয়ার পরপরই তার মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেওয়া হয়। ফোন ঘাঁটতে ঘাঁটতে প্রথমে তাকে শিবির সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে জেরা করা হয়। এরপর শুরু হয় নির্মম মারধর। 

প্রসঙ্গত, ৬ অক্টোবর দিবাগত রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলায় আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ফাহাদ বুয়েটের ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন। এ হত্যার ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে চক বাজার থানায় মামলা করেন তার বাবা বরকত উল্লাহ। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি। এর মধ্যে ১৩ জনের নাম মামলার এজাহারে রয়েছে।

 

ওডি/টিএএফ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড