• মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ফেসবুকের স্ট্যাটাসই কি কেড়ে নিল ফাহাদের প্রাণ? 

০৯ অক্টোবর ২০১৯, ১৯:৫৪
আবরার ফাহাদ
নিহত বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদ (ছবি : সংগৃহীত)

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদের কর্মকাণ্ডের তদারকি করতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে তাকে ডেকে নিয়ে নৃশংসভাবে নির্যাতন চালায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। নির্যাতনের এক পর্যায়ে নিহত হন আবরার ফাহাদ।        

ফাহাদ বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই মোড়ে। রবিবার (৬ অক্টোবর) বিকালে বাড়ি থেকে হলে ওঠেন আবরার ফাহাদ। তিনি শেরে বাংলা হলের নিচতলায় ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন।

বাড়ি থেকে ফেরার পর ওইদিন রাতেই আবরার ফাহাদকে ডেকে নেয় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তার ফেসবুক ও মেসেঞ্জার ঘাটেন। এরপর এক পর্যায়ে শুরু হয় নির্যাতন। রাত ৮টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ফাহাদকে নির্যাতন করা হয় ২০১১ নম্বর রুমে। হলের শিক্ষার্থী ও একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বাড়ি থেকে ফেরার কয়েক ঘণ্টার মাথায় রাত আটটার দিকে আবরারসহ দ্বিতীয় বর্ষের সাত-আটজন ছাত্রকে শেরেবাংলা হলের দোতলার ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে পাঠান তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাত-আটজন নেতা। তারা আবরার ফাহাদের মুঠোফোন নিয়ে ফেসবুক ও মেসেঞ্জার ঘেটে দেখেন। এরপর ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে আবরারকে পেটাতে শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়নরত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আরও কয়েকজন নেতা-কর্মী আসেন। তারা আরেক দফা পেটান আবরারকে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, পেটানোর একপর্যায়ে আবরার নিস্তেজ হয়ে পড়েন। তখন ছাত্রলীগের নেতারা আবরারের হলের সহপাঠীদের ডেকে আনেন এবং তাদের দিয়ে নিথর দেহটি দোতলা ও নিচতলার মাঝামাঝি সিঁড়িতে নিয়ে রাখেন। এরপর ছাত্রলীগের নেতারা বাইরে যান রাতের খাবার খেতে। পরে যখন নিশ্চিত হলো আবরার বেঁচে নেই, তখন সিঁড়ি থেকে লাশ নিয়ে রাখা হয় হলের ক্যানটিনে। সোমবার ভোরে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, আবরারকে প্রথম দফা পেটানোর ঘটনায় ছিলেন- বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপসম্পাদক ও পুরকৌশল বিভাগের ছাত্র অমিত সাহা, উপদপ্তর সম্পাদক ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র মুজতাবা রাফিদ, সমাজসেবাবিষয়ক উপসম্পাদক ও বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ইফতি মোশারফ ওরফে সকালসহ তৃতীয় বর্ষের আরও কয়েকজন।

এছাড়া দ্বিতীয় দফায় পেটান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অনীক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক ও নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একই বর্ষের মেফতাহুল ইসলাম ওরফে জিয়নসহ কয়েকজন। তারা সবাই বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ওরফে রাসেলের অনুসারী।

ঘটনা চলাকালীন ২০১১ নম্বর কক্ষে উপস্থিত বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আশিকুল ইসলাম বলেন, ‘রাত আটটার দিকে আবরারকে ২০১১ নম্বর কক্ষে ডাকা হয়। আমি মাঝেমধ্যে ওই কক্ষে বন্ধুর কাছে যাই। ওই দিন রাতে গিয়ে দেখতে পাই, সেখানে আবরারের ফেসবুক আইডি ও মেসেঞ্জার চেক করা হচ্ছে। রাত পৌনে নয়টার দিকে আমি কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসি। পরে সেখানে কী হয়েছে, জানি না।’

আবরার হত্যার ঘটনার সিসি টিভি ফুটেজ প্রকাশ 

আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইতোমধ্যেই ১৫ মিনিট দুই সেকেন্ডের একটি সিসি টিভি ফুটেজ দৈনিক অধিকারের হাতে এসেছে। সংগৃহীত ওই ফুটেজে ঘটনার দিনের বিস্তারিত প্রকাশ পেয়েছে।

সিসি টিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ৮টা ১২ মিনিটে আবরার ফাহাদকে ছাত্রলীগের কর্মীরা তার রুম থেকে ডেকে দোতলায় নিয়ে যায়। এরপর রাত ১টা ১৪ মিনিটে দোতলার ২০১১ নম্বর কক্ষ থেকে কয়েকজন তাকে বের করে ২০০৫ নম্বর কক্ষে নিয়ে যায়। এর এক ঘণ্টা পর রাত ২টার দিকে তাকে ২০০৫ নম্বর কক্ষ থেকে তোষকের মধ্যে নিয়ে নিচতলায় নামানো হয়। সিঁড়িতে তাকে কিছুক্ষণ ফেলে রেখে পরবর্তীতে একটি স্ট্রেচারে তোলা হয়। এরপর চিকিৎসক আসেন। কিছুক্ষণ পর হলের প্রভোস্ট ও ছাত্র কল্যাণ পরিচালক আসেন। তাদের সঙ্গে ছাত্রলীগের বুয়েট শাখার সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান রাসেলকে কথা বলতে দেখা যায়।  

আবরার হত্যার ঘটনায় মামলা

রবিবার মধ্যরাতে বুয়েটের সাধারণ ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবরারকে শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়। সোমবার (৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই ঘটনায় সোমবার রাতে নিহত ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আটক ১০ জনকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় বলে পরে জানান লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মুনতাসিরুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) আটক ওই ছাত্রলীগ নেতাদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হলে চকবাজার থানায় করা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরী এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন-বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি মুস্তাকিম ফুয়াদ, উপ-সমাজকল্যাণ সম্পাদক ইফতি মোশারফ সকাল, ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিওন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার, গ্রন্থনা ও গবেষণা সম্পাদক ইশতিয়াক মুন্না, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মুনতাসির আলম জেমি (২১), মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির (২১), ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ (২১), মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মেহেদী হাসান রবিন (২২)।

মামলার এজাহারে থাকা ১৯ আসামি হলেন- শেরে বাংলা হলের মেহেদী হাসান রাসেল (২৪), মুহতাসিম ফুয়াদ (২৩), মো. অনিক সরকার (২২), মো. মেহেদী হাসান রবিন (২২), ইফতি মোশাররফ সকাল, মো. মনিরুজ্জামান মনির, মো. মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মো. মাজেদুল ইসলাম, মো. মোজাহিদুল, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মো. জিসান, মো. আকাশ, মো. শামীম বিল্লাহ, মো. শাদাত, মো. তানিম, মো. মোর্শেদ, মো. মোয়াজ ও জেমি।    

এদিকে আবরার ফাহাদ হত্যায় জ‌ড়িত থাকার অভিযোগে মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে তিনটায় রাজধানীর ঝিগাতলা এলাকা থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র শামসুল আরেফিন রাফাতকে (২১), ডেমরা থেকে ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মো. মনিরুজ্জামান মনিরকে (২১) ও গাজীপুরের বাইপাল থেকে একই ব্যাচের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র মো. আকাশ হোসেনকে (২১) গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

গ্রেফতার তিন আসামিকে বুধবার (৯ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. তোফাজ্জল হোসেন পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 

আলোচনা সমালোচনায় অমিত সাহা 

শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর রুমের শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের বুয়েট শাখার আইন বিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম অমিত সাহা। তবে মামলার এজাহারে নেই অমিত সাহার নাম। এই নিয়ে নানা আলোচনা সমালোচনার জন্ম নেয়।

বুয়েটের হলের কয়েকজন শিক্ষার্থীর তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ নম্বর কক্ষে চার শিক্ষার্থী থাকেন। তাদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপসম্পাদক ও পুরকৌশল বিভাগের ছাত্র অমিত সাহা, উপদপ্তর সম্পাদক ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র মুজতাবা রাফিদ, সমাজসেবা বিষয়ক উপসম্পাদক ও বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ইফতি মোশারফ। আরেকজন চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী, যিনি দূর্গা পূজার ছুটিতে দুই দিন আগে বাড়িতে আছেন। তবে জানা যায়নি তার নাম।

বুয়েটের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, অমিত সাহার নিয়ন্ত্রণাধীন ছিল ২০১১ নম্বর কক্ষটি। ঘটনার সময় তার নেতৃত্বে ছাত্রলীগের কর্মীরা আবরারকে বেদম মারধর করেন। পরে তিনিসহ অন্যরা বেরিয়ে যান। ওই কক্ষ থেকে পুলিশ রক্তমাখা স্টিক, ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করে। এই রুমে শুধু আবরারকেই নয়, আরো অনেককেই এনে নির্যাতন করা হতো। যার কক্ষে এ ঘটনা ঘটল তাকে আসামি না করা অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর রুমের পাশে থাকা এক ছাত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক অধিকারকে জানান, ২০১১ নম্বর কক্ষে চার শিক্ষার্থী থাকেন এর মধ্যে তিন জন পলিটিক্যাল আর একজন নন পলিটিক্যাল। এরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপসম্পাদক ও পুরকৌশল বিভাগের ছাত্র অমিত সাহা, উপদপ্তর সম্পাদক ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র মুজতাবা রাফিদ, সমাজসেবা বিষয়ক উপসম্পাদক ও বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ইফতি মোশারফ। আরেকজন চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী, যার রাজনৈতিক কোনো ব্যাকগ্রান্ড নেই। 

তিনি আরও জানান, ঘটনার দিনের কয়েকদিন আগে থেকেই ছুটিতে রয়েছেন ওই শিক্ষার্থী। পরীক্ষার জন্য এক মাসের ছুটি উপলক্ষেই ওই ছাত্র বাড়িতে রয়েছেন। পূজার ছুটিতে বাড়িতে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মূলত পরীক্ষার পূর্বে দেওয়া ছুটিটাই মুখ্য।

অমিত সাহার প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদে ওই ছাত্র বলেন, ঘটনার দিন অমিত সাহা কক্ষে ছিল কিনা এই বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে অমিত সাহা ছাত্রলীগ করে। সে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। যে ছুটিতে বাড়ি গেছে সে অমিত সাহা নন।  

এদিকে অমিত সাহাকে নিয়ে এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নানা আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে। তাকে উগ্রহিন্দুত্ববাদী মতাদর্শের খেতাবও দেওয়া হয়েছে। আলোচনায় উঠে এসেছে তার উগ্রধর্মীয় মতাদর্শই আবরার ফাহাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেসের (ইসকন) সদস্য অমিত সাহা। ইসকনের ব্যানারে তিনি বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্ম নিয়ে বিভিন্ন স্ট্যাটাস দিতেন। তবে ঘটনার পর থেকে তার ফেসবুক ডিঅ্যাকটিভ আছে। তার মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

তার বিষয়ে জানতে দৈনিক অধিকার থেকে অমিত সাহার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

অন্যদিকে গোয়েন্দা সংস্থা বলছে, বুয়েট ছাত্রলীগ শাখার গ্রন্থনা ও গবেষণা সম্পাদক এবং মেকানিক্যাল বিভাগের ১৫ ব্যাচের ছাত্র ইশতিয়াক মুন্না এ হত্যার নির্দেশনা দিয়েছেন।

 প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে গোয়েন্দা সংস্থা সূত্র জানায়, ফাহাদ শনিবার (৫ অক্টোবর) ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসটি ইশতিয়াক মুন্নার নজরে আসে। তিনি একই হলের শিক্ষার্থী বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক আশিকুল ইসলাম বিটু, উপ-সমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, ক্রীড়া সম্পাদক মেজবাউল ইসলাম জিয়ন, উপ-আইন সম্পাদক অমিত সাহা ও তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকারকে বিষয়টি জানিয়ে ফাহাদকে ডেকে আনার নির্দেশ দেন। এরা প্রত্যেকে ১৬ ও ১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে দুইজন রবিবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ফাহাদকে ডেকে ২০১১ নং কক্ষে নেন। ওই কক্ষে ফাহাদের কাছ থেকে মুঠোফোন নেওয়া হয়। এ সময় তার ফেসবুক মেসেঞ্জার চেক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর তাকে মারধর শুরু হয়। একপর্যায়ে ফাহাদ জ্ঞান হারালে কোলে করে মুন্নার কক্ষে (২০০৫নং) নেওয়া হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে দোতলা ও নিচতলার সিঁড়ির মধ্যবর্তী জায়গায় নিয়ে যান তারা। পরে হল প্রভোস্ট এবং চিকিৎসককে সংবাদ দেওয়া হয়। চিকিৎসক ঘটনাস্থলে এসে ফাহাদকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তখনই বুয়েট কর্তৃপক্ষ পুলিশে সংবাদ দেয়।  

মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) ফাহাদ হত্যার দায় স্বীকার করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শাখা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত ও গ্রেফতার ১০ নেতাকর্মী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম।

চকবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহরাব হোসেন বলেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে যাদের শনাক্ত করা হয়েছে কেবল তাদের নামেই মামলা হয়েছে। এরপরও তদন্ত হবে। তদন্তে যদি অমিতের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়, অবশ্যই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

তার কক্ষে তো আবরারকে হত্যা করা হয়েছে, এ ক্ষেত্রে কি তার আসামির হওয়ার কথা না- এমন প্রশ্নের জবাবে সোহরাব হোসেন বলেন, বললাম তো, তদন্তে প্রমাণ পেলে তাকেও আসামি করা হবে। তাকে বাঁচাতে পুলিশের কোনো পরিকল্পনা নেই।

২০১১ নম্বর কক্ষ ছিল ছাত্রলীগের টর্চার সেল

বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিংসহ রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার বুয়েটের অনেক শিক্ষার্থীই। রাজনৈতিক নির্যাতনসহ এসব অপকর্মের জন্য হলগুলোতে রয়েছে আলাদা টর্চার সেল। আবরার ফাহাদকে যেই রুমে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করা হয় সেটিও মূলত ছিল বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের শেরে বাংলা হলের টর্চার সেল। 

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একাধিক শিক্ষার্থী এবং শেরে বাংলা হলের আবাসিক ছাত্রদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর রুমের পাশে থাকা এক ছাত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক অধিকারকে জানান, ২০১১ নম্বর রুমটি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার হতো। সেটা ছাত্রলীগের টর্চার সেলও ছিল। এই রুমে থাকা চার শিক্ষার্থীর মধ্যে তিনজনই ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বলেও জানান তিনি।  
ঘটনার দিনের বর্ণনা জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘আমি রাত ৮টার দিকে একবার বাইরে বের হই। তখন ওই রুমের সামনে প্রায় ১৫ জনের জুতা দেখি। তবে রুমটি যেহেতু রাজনৈতিক কারণে ব্যবহার হতো তাই তেমন একটা সন্দেহ হয়নি। ওই রুমের সামনে প্রায়ই এমন দেখা যেত।’

শেরে বাংলা হলের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ‘বুয়েটের হলগুলোতে রাজনৈতিক এমন টর্চার সেল রয়েছে। যেখানে বিভিন্ন সময় জুনিয়র ব্যাচদের ডেকে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। তবে এসবে প্রতিবাদ জানানোর মতো সাহস আসলে কারও নেই।’

এছাড়া বুয়েটের একাধিক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, শেরে বাংলা হলের রুম-২০১১ হল শাখা ছাত্রলীগের ঘোষিত টর্চার সেল। একটু ব্যতিক্রম হলে শেখানোর নাম করে জুনিয়রদের র‌্যাগ দেওয়া হতো সেখানে।

বুয়েটে সিনিয়র ভাই ও ছাত্রলীগ কর্মীদের হাতে আবরারের মতো না হলেও এমনই নির্যাতিত হয়েছিলেন বুয়েটের সাবেক এক শিক্ষার্থী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে টর্চার সেলের বিষয়ে তথ্য জানিয়ে তার নির্যাতনের লোমহর্ষক ছবিও প্রকাশ করেছেন তিনি। 

এনামুল হক নামে বুয়েটের সাবেক ছাত্র ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে জানিয়েছেন, বিভিন্ন হলের কয়েকটি রুমে ছাত্রলীগের এমন টর্চার সেল রয়েছে। যেখানে ফেসবুকে ভিন্নমতের স্ট্যাটাস দেওয়ার কারণে বুয়েটের শিক্ষার্থীদের নির্যাতিত হতে হয়।

এ বিষয়ে ফেসবুকে কয়েকটি ছবি আপলোড করে বুয়েটের সাবেক ওই ছাত্র বলেছেন এসব মারের দাগ আবরারের নয়; এগুলো তার শরীরেরই ছবি। আবরার মারা গেলেও সেবার ছাত্রলীগ কর্মীর নির্যাতনের পরও প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন তিনি। সেখানে দেখা গেছে নির্যাতনের কারণে পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের চিহ্ন।

নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, বুয়েটের ও এ বি এর দোতলায় মেকানিক্যাল ড্রয়িং কুইজ দেয়া শেষ হওয়া মাত্রই পরীক্ষার রুম থেকে তন্ময়, আরাফাত, শুভ্র জ্যোতি টিকাদারদের নেতৃত্বে ৮-১০ জন ছাত্রলীগের ছেলে শিক্ষকের সামনে থেকে তুলে নিয়ে আহসানউল্লাহ হলের তখনকার টর্চার সেল ৩১৯ নাম্বার রুমে নির্যাতন করে। আমি কারো সঙ্গে যেখানে রাগারাগি পর্যন্ত করতাম না, কারো সঙ্গে কখনোই সম্পর্ক খারাপ পর্যন্ত যেখানে ছিল না, শুধুমাত্র ফেইসবুকে সরকারি নীতির সমালোচনা করে পোস্টের কারণে বুয়েটের মতো একটা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রলীগ আমার সঙ্গে এমন আচরণ করে।

তিনি বলেন, ‘এর ৬ দিন আগে সাবেক বুয়েট ছাত্রলীগ সভাপতি শুভ্র জ্যোতি টিকাদার ('০৯) ও কাজল ('০৯) ল্যাব থেকে আমাকে ধরতে এসে ব্যর্থ হয়ে পরীক্ষার রুম থেকে আমাকে একা ধরতে ওরা ৮-১০ জন প্রস্তুতি নিয়ে আসে! বিকেল ৫টা থেকে রাত ১১টা ৩০!! বদ্ধ রুমে আমার পিঠের ওপর লোহা দিয়ে '১০ ব্যাচের এক ভাই প্রধানত তার শক্তি পরীক্ষা করে।’ 

বুয়েটে ছাত্র সংগঠন নিষিদ্ধের আল্টিমেটাম 

বুধবার (৯ অক্টোবর) বুয়েটে সকল প্রকার রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে হলগুলোতে রাজনৈতিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক কার্যক্রমের জন্য অস্বস্তিতে থাকেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের বিভিন্ন সময় জোরপূর্বক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য করা হয়। এমনকি না গেলে টর্চার সেলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। 

তারা অভিযোগ করে বলেন, বুয়েটের অনেক সাধারণ শিক্ষার্থীই বিশেষ করে জুনিয়ররা রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার। জুনিয়ররা হলে উঠলে র‍্যাগ দেওয়া, তাদেরকে রাজনীতিতে জড়াতে বাধ্য করা এবং ভিন্ন মতাবলম্বীদের টর্চার সেলে নিয়ে নির্যাতন এসবে অতিষ্ঠ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এজন্যই আবরার ফাহাদকে প্রাণ দিতে হয়েছে। তাই অবিলম্বে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে বুয়েট থেকে সকল ধরনের রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন নিষিদ্ধের আল্টিমেটাম দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।  

কুষ্টিয়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত আবরার  

সোমবার রাত ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে নিহত আবরার ফাহাদের লাশ বুয়েটের কেন্দ্রীয় মসজিদে আনা হয়। সেখানে তার প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তার লাশ নিয়ে যাওয়া হয় ফাহাদের গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ায়। পরে মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টায় কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই রোডে ফাহাদের নিজ বাড়ির সামনে এ জানাজা সম্পন্ন হয়। আত্মীয়-স্বজন, এলাকাবাসীসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা নামাজের জানাজায় অংশগ্রহণ করেন। এরপর সকাল দশটায় কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার রায়ডাঙ্গা গ্রামে তৃতীয় দফা জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে ফাহাদের দাফন সম্পন্ন হয়।

সোশ্যাল মিডিয়া তদারকির জন্য ডাকা হয় ফাহাদকে 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন বিষয় নিয়েই লেখালেখি করতেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ। রবিবার রাতে হঠাৎ ছাত্র শিবির সন্দেহে তাকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

এসব বিষয়ে বুয়েট ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক আশিকুল ইসলাম বিটু সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ফাহাদকে শিবিরকর্মী সন্দেহে রাত ৮টার দিকে হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে আনা হয়। সেখানে আমরা তার মোবাইল ফোনে ফেসবুক ও মেসেঞ্জার চেক করি। ফেসবুকে বিতর্কিত কিছু পেইজে তার লাইক দেওয়ার প্রমাণ পাই। সে কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগও করেছে। সেখান থেকে তার শিবির সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাই আমরা।

বিটু জানান, আবরারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন বুয়েট ছাত্রলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মুজতবা রাফিদ, উপ-সমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল এবং উপ-আইন সম্পাদক অমিত সাহা।

জেরা করে শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার পর চতুর্থ বর্ষের ভাইদের খবর দেওয়া হয় বলে জানান বিটু। তিনি বলেন, খবর পেয়ে বুয়েট ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার সেখানে যান। একপর্যায়ে আমি রুম থেকে বের হয়ে আসি। এরপর হয়তো ওরা মারধর করে থাকতে পারে। পরে রাত তিনটার দিকে শুনি ফাহাদ মারা গেছে।

এদিকে নিহত শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের ফেসবুক ঘেটে দেখা যায়, সম্প্রতি ভারত থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি নিয়ে স্ট্যাটাসে তিনি শেষ সমালোচনা করেছেন। ফারাক্কা ইস্যু নিয়ে কথা বলেছেন। কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে কথা বলেছেন। ৪৬-৪৭ এর সময় দেশভাগ নিয়ে তার স্ট্যাটাস রয়েছে। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়েও কথা বলেছেন। তিনি নানা সময় পত্রিকার নিউজও শেয়ার করেন। মানে তিনি একজন দৈনিক সংবাদ পাঠক।

তবে আবরার রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট নয় এমনটা জানিয়েছেন তার পরিবার ও এলাকাবাসী। আবরারের বাবা জানান, সে অতি নম্র ভদ্র সভাবের একজন ছেলে ছিলেন। আবরার বা আমাদের পরিবারের কেউ কোনো ধরনের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। 

ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফায়াজ জানান, ভাইয়ের ফেসবুক আইডি আমার কাছেও ছিল। আমি প্রায়ই তার ফেসবুক দেখতাম। তবে তার কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা ছিল না। এমন কোনো মেসেজ কখনই পায় নি। 

আবরার ফাহাদের মামাতো ভাই জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আবরারের সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা ছিল না। সে কুষ্টিয়ায় গিয়েছিল। রবিবার বিকাল পাঁচটায় কুষ্টিয়া থেকে ঢাকায় এসে হলে উঠে। তারপর মধ্যরাতে খবর পাই ভাই মারা গেছে।’

ফেসবুকে আবরারের সর্বশেষ স্ট্যাটাস 

ফেসবুকে আবরার ফাহাদ সর্বশেষ লিখেছিলেন, “১. ৪৭ এ দেশভাগের পর দেশের পশ্চিমাংশে কোনো সমুদ্রবন্দর ছিল না। তৎকালীন সরকার ৬ মাসের জন্য কলকাতা বন্দর ব্যবহারের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ করল। কিন্তু দাদারা নিজেদের রাস্তা নিজেদের মাপার পরামর্শ দিয়েছিল। বাধ্য হয়ে দুর্ভিক্ষ দমনে উদ্বোধনের আগেই মংলা বন্দর খুলে দেওয়া হয়েছিল। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ ইন্ডিয়াকে সে মংলা বন্দর ব্যবহারের জন্য হাত পাততে হচ্ছে।

২. কাবেরি নদীর পানি ছাড়াছাড়ি নিয়ে কানাড়ি আর তামিলদের কামড়াকামড়ি কয়েকবছর আগে শিরোনাম হয়েছিল। যে দেশের এক রাজ্যই অন্যকে পানি দিতে চায় না সেখানে আমরা বিনিময় ছাড়া দিনে দেড়লাখ কিউবিক মিটার পানি দিব।

৩. কয়েকবছর আগে নিজেদের সম্পদ রক্ষার দোহাই দিয়ে উত্তর ভারত কয়লা-পাথর রপ্তানি বন্ধ করেছে অথচ আমরা তাদের গ্যাস দিব। যেখানে গ্যাসের অভাবে নিজেদের কারখানা বন্ধ করা লাগে সেখানে নিজের সম্পদ দিয়ে বন্ধুর বাতি জ্বালাব।

হয়তো এ সুখের খোঁজেই কবি লিখেছেন-

“পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি

এ জীবন মন সকলি দাও,

তার মত সুখ কোথাও কি আছে

আপনার কথা ভুলিয়া যাও।”

ওডি/এআর 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড