• শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সাত দিনের সফরে কিশোরগঞ্জ যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

  কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

০২ অক্টোবর ২০১৯, ২১:১৪
রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ সেতুর পাশে তার মুর‍্যাল (ফাইল ফটো)

টানা সাত দিনের সফরে নিজ জন্মভূমি কিশোরগঞ্জে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তিনি আগামী ৯ অক্টোবর (বুধবার) প্রথমে জেলা কিশোরগঞ্জের ভাটির কন্যা তাড়াইলে স্বাধীনতা ৭১ ভাস্কর্য উদ্বোধন করবেন। পরে নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেবেন তিনি। 

রাষ্ট্রপতির রাজনৈতিক জীবনের ১৯৭০ সালের প্রথম নির্বাচনি এলাকায় (তাড়াইল-ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম-নিকলী) তাড়াইল উপজেলায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে এটিই তার প্রথম সফর।

রাষ্ট্রপতির এই সফরকে ঘিরে কিশোরগঞ্জসহ তাড়াইল উপজেলাজুড়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। তাঁর আগমন উপলক্ষে তাড়াইলে ইতোমধ্যে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠান সফল করতে নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী ৯ থেকে ১৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল, সদর, মিঠামইন, ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলা সফর করবেন তিনি। সফরের প্রথম দিন আগামী ৯ অক্টোবর (বুধবার) তাড়াইল উপজেলায় সফরের মধ্য দিয়ে সাত দিনব্যাপী এই সফর শুরু হবে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ঢাকা থেকে দুপুরে তাড়াইল উপজেলার উদ্দেশে হেলিকপ্টার যোগে রওয়ানা দেবেন।

তিনি তাড়াইল উপজেলার শিমুলহাটি হেলিপ্যাডে অবতরণ করবেন। হেলিপ্যাড থেকে তিনি উপজেলা সদরে যাবেন। স্বাধীনতা ‘৭১ ভাস্কর্য-এর উদ্বোধন স্থলের পাশে বালুর মাঠে রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে। পরে তিনি চিরচেনা হিজল-তমাল ছায়া আর হাওর নদী বেষ্টিত তাড়াইল উপজেলা পরিষদ চত্বরে স্বাধীনতা ‘৭১ ভাস্কর্য’- এর উদ্বোধন করবেন।’

সফর কর্মসূচি ও স্থানীয় প্রশাসনের সূত্র মতে, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত তাড়াইল মুক্তিযোদ্ধা সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেবেন। কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. মুজিবুল হক চুন্নু ওই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন। অনুষ্ঠান শেষে বিকালে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে তাড়াইল ত্যাগ করবেন। কিশোরগঞ্জ শহরের খরমপট্টি তার নিজ বাসায় রাত্রী যাপন করবেন। পরদিন সকালে রাষ্ট্রপতি নিজ উপজেলা মিঠামইনে ও পরে ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলা সফর করবেন বলে কথা রয়েছে।

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা মিঠামইন সদরের কামালপুর গ্রামে ১৯৪৪ সালের ১ জানুয়ারি আবদুল হামিদের জন্ম হয়। তিনি কিশোরগঞ্জ সরকারি গুরুদয়াল কলেজে অধ্যয়নকালে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন। ১৯৬৬-৬৭ সালে তিনি ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি নির্বাচিত হন।

ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদানের কারণে ১৯৬৮ সালে তিনি কারাবরণ করেন। ১৯৬৯ সালে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। সত্তরের নির্বাচনে তিনি সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী হিসেবে (তাড়াইল-ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম-নিকলী) এমএনএ (পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ সদস্য) নির্বাচিত হন। তিনি তখন ২৫ বছরের উদীয়মান তেজস্বী যুবক।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে গৌরবোজ্জ্বল অবদান রাখেন। ৭১-এর মার্চের উত্তাল দিনগুলোতে তিনি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে কিশোরগঞ্জে স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গঠনের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৭ মার্চ কিশোরগঞ্জ শহরের রথখলা ময়দানে ছাত্র জনসভায় হাজার হাজার জনতার উপস্থিতিতে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলন করেন তিনি। এ কারণে-ই তখন তাঁকে ‘ভাটির শার্দুল’ উপাধিতে ভূষিত করেন এলাকাবাসী। তিনি দুঃসময় ও ক্রান্তিকালে কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কাণ্ডারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে দীর্ঘ ৩৭ বছর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তাঁর নিজ নির্বাচনি এলাকা থেকে সাতবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আর এই আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গা থেকে তাঁর ওপর অর্পিত হয় বিরোধী দলীয় উপনেতা, ডেপুটি স্পিকার, স্পিকার এবং পরপর দুবার রাষ্ট্রপতির মতো পদের গুরু দায়িত্ব। মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য সর্বশেষ তাঁর সাফল্যের মুকুটে যুক্ত হয়েছে স্বাধীনতা পদকের হিরণ্ময় পালক।

ওডি/এসএ 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড