• শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

আতঙ্কে আছেন ‘ক্যাসিনো সম্রাট’

  অধিকার ডেস্ক

১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৬:০১
ইসমাইল হোসেন সম্রাট
যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সম্রাট। (ফাইল ছবি)

রাজধানীতে একাধিক অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকায় গ্রেফতার আতঙ্কে কাকরাইলের নিজ কার্যালয়ে সময় পার করছেন যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সম্রাট। 

এরইমধ্যে অবৈধ জুয়া ও ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে বুধবার রাতে অস্ত্রসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন সম্রাটের শিষ্য ও অনুগামী হিসেবে পরিচিত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। এরপর থেকেই গ্রেফতার আতঙ্ক ভর করে সম্রাটের মনে।

বুধবার রাতে গুলিস্তানে পীর ইয়েমেনি মার্কেটসংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ক্যাসিনোতে অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব। স্থানীয়রা জানান, এ ক্যাসিনোর পরিচালনায় আছেন ইসমাইল হোসেন সম্রাট। এটি ছাড়াও রাজধানীর কয়েকটি ক্যাসিনো থেকে নিয়মিত চাঁদার ভাগ আসে তার কাছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, ক্যাসিনো নামে ঢাকায় জমজমাট ১২টি ক্লাব। এসব জুয়ার আসর থেকে আওয়ামী যুবলীগের নামে দৈনিক ভিত্তিতে বিপুল পরিমাণ চাঁদা তোলা হয়। প্রতিটি ক্লাব থেকে দৈনিক চাঁদা ধার্য করা আছে দশ লাখ টাকা। সে হিসাবে দৈনিক চাঁদার পরিমাণ ১ কোটি ২০ লাখ টাকা।

এ সব ক্যাসিনো থেকে প্রতি মাসে চাঁদা ওঠে ৩৬ কোটি টাকা। বছরে এই টাকার পরিমাণ ৪শ ৩২ কোটি, যা অবিশ্বাস্য বটে। তবে বিশাল অঙ্কের এই টাকার ভাগ যায় ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতাদের পকেটে। প্রতি মাসে চাঁদা হিসেবে আদায় করা এই টাকাকে বলা হয় ‘প্রক্রিয়ার টাকা’।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশ অনুযায়ী  ইতোমধ্যে জুয়ার আস্তানাগুলোয় সাঁড়াশি অভিযান চালানো শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাজধানীর জুয়াজগতের অঘোষিত সম্রাট হিসেবে পরিচিত মহানগর যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাট পলাতক। তার অন্যতম প্রধান সহযোগী হচ্ছেন আরেক যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ইতোমধ্যে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। ক্যাসিনো ব্যবসার প্রধান ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত ক্ষমতাধর দুই যুবলীগ নেতা খোরশেদ আলম ও আরমানও গা ঢাকা দিয়েছেন।

সেপ্টেম্বরের ১৬ তারিখ গভীর রাত থেকে ক্যাসিনোগুলো ঘিরে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তৎপরতা শুরু করে। সম্রাটের রাজধানীর কাকরাইলের আস্তানায় ডিবি ও র‌্যাব সদস্যরা তল্লাশি শুরু করলে ক্যাসিনো জগতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একে একে ক্যাসিনোগুলো বন্ধ হতে শুরু করে।

যুবলীগ নেতা খালেদ র‌্যাবের অভিযানে অস্ত্রসহ গ্রেফতার হওয়ার পর হাজারখানেক নেতাকর্মী নিয়ে কাকরাইলস্থ যুবলীগের কার্যালয়ে অবস্থান নেন মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সম্রাট। বুধবার গভীর রাতেও রাজধানীর কাকরাইলে যুবলীগ অফিসে কয়েকশো নেতাকর্মী নিয়ে অবস্থান করেন তিনি। মূলত গ্রেফতার আতঙ্ক থেকে নেতাকর্মী বেষ্টিত থাকছেন যুবলীগ নেতা সম্রাট। যদিও তিনি আতঙ্কে আছেন বলে স্বীকার করছেন না।

বিষয়টি নিয়ে মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী যুবলীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া অস্ত্রসহ গ্রেফতার হওয়ার পর যুবলীগের কাকরাইল অফিসে উপস্থিত হন বিভিন্ন ইউনিটের সহস্রাধিক নেতাকর্মী। তাদের ধারণা, চলমান অভিযানে গ্রেফতার হতে পারেন সম্রাট। সে জন্য তারা কার্যালয়ে অবস্থান নিয়েছেন। আতঙ্ক থেকেই নেতাকর্মী বেষ্টিত থাকছেন সম্রাট। তিনি রাজধানীর অন্তত একটি ক্যাসিনোর মালিক, সেই সঙ্গে একাধিক ক্যাসিনোর টাকা ভাগাভাগির সঙ্গে তার জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে তাকে যুবলীগ থেকে শোকজও করা হয়েছে।

গভীর রাতেও তার অফিসে নেতাকর্মীদের ভিড়ের কারণ জানতে চাইলে ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘আমার কাছে নেতাকর্মীরা প্রতিদিনই আসে। রাত ১টা-২টা পর্যন্ত থাকে। এটা নতুন কিছু নয়।’

স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি নেতাকর্মীর উপস্থিতি গ্রেফতার আতঙ্কের কারণে কিনা- প্রশ্নের জবাবে যুবলীগ নেতা সম্রাট বলেন, ‘আমি আতঙ্কিত নই। আইনত যদি কোনো সংশ্লিষ্টতা পায়, তা হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে পারে।’

এ ব্যাপারে রাতে কাকরাইল এলাকায় দায়িত্বরত রমনা থানার এসআই রঞ্জু মিয়া জানান, ‘রাত ২টার দিকে কার্যালয়ের দুপাশে নেতাকর্মীদের দেখে এসেছি। তবে কোনো বিশৃঙ্খলা ছিল না।’

ওডি/এএস

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড