• শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন

‘কিশোর গ্যাং’ রুখতে যা করবেন

  অধিকার ডেস্ক

১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৯:৩৩
কিশোর গ্যাং
প্রতীকী ছবি

গ্যাং কালচারের নামে দিনের পর দিন ভয়ংকর হয়ে উঠছে রাজধানী ঢাকা সহ সারাদেশের কিশোরদের একটা অংশ। কিশোর অপরাধ নিয়ে বর্তমান সময় আলোচনা চলছে। যদিও উত্তরায় কিশোর আদনান হত্যার পর থেকেই এ বিষয়ে সবার টনক নড়ে।

ইতোমধ্যে কিশোর গ্যাং রোধে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে। এবং গ্যাং কালচারের সঙ্গে জড়িতদেরকে আটক করছে পুলিশ।

এমন একটি ঘটনা তুলে ধরা হলো- রাজধানীর এক বাসিন্দা বলেন, সম্প্রতি তার ছেলের আচরণ বেশ বদলে গিয়েছে দেখতে পান। তার ছেলেটি সময় মতো বাসায় ফিরছে না। স্কুল শেষে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা মারতে চলে যায়, বেশ রাত করে বাসায় আসে। এখানেই শেষ নয়, মায়ের কাছ থেকে বেশি বেশি হাত খরচের টাকার জন্য বিভিন্ন বায়না করে। এমতাবস্থায় একদিন স্কুল থেকে অভিযোগ আসে। পরে সেখানে গিয়ে জানতে পারি, আরও কয়েকজন ছেলের সঙ্গে মিলে অন্য একজনকে বেধড়ক মারধর করেছে সে। এটা শুনে আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ার মতো অবস্থা।

দ্বিতীয় ঘটনাটি হলো- ফরিদপুরের এক বাসিন্দা সে গত ১০ বছর যাবৎ সৌদি আরব প্রবাসী। দেশের বাড়িতে অর্থাৎ গ্রামে তার স্ত্রী ও দুই সন্তান থাকে। কয়েকদিন আগে স্কুল পড়া ছেলেটি মোটরসাইকেল কেনার জন্য ভিশন কান্নাকাটি শুরু করে। এভাবে বেশ কিছু দিন করার পর স্ত্রীর চাপে ওই সৌদি প্রবাসী মোটরসাইকেল কেনার জন্য টাকাও পাঠিয়ে দেন। এর কিছুদিন পরে সেই মোটরসাইকেল নিয়ে অন্য বন্ধুদের সঙ্গে মিলে ছিনতাই করতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয় স্কুল পড়ুয়া ছেলেটি। 

এদিকে, বাংলাদেশে ঢাকাসহ বেশ কয়েকটি জেলায় কিশোরদের মধ্যে গ্যাং বা দলবদ্ধভাবে নানা ধরণের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। গত ৮ই সেপ্টেম্বর পুলিশ মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারি কিশোর গ্যাং কালচার গড়ে উঠতে না পারে, সে ব্যাপারে পুলিশ সুপারদের তৎপর থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

কয়েকটি জেলায় এ ধরণের কিশোর গ্যাংয়ের কারণে বেশ কিছু হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে। পাশাপশি মারমারি, চুরি, ছিনতাই, ইভ টিজিং, মাদক ব্যবসা, মেয়েদের উত্যক্ত করার মতো অভিযোগও রয়েছে ওই সব কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে।

কেন গ্যাং কালচার সংস্কৃতিতে জড়িত হয়ে পড়ছে কিশোররা?

এ বিষয়ে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ ও সমাজ বিজ্ঞানীরা বলছেন, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নতা, অ্যাডভেঞ্চার বা ক্ষমতা দেখানোর লোভ, মাদক, বন্ধুদের পাল্লা পড়া সহ বিভিন্ন কারণে কিশোর গ্যাং গুলো তৈরি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যস্ততার কারণে অনেক মা-বাবা তাদের সন্তানদের ঠিকমতো সময় দিতে পারে না। সন্তান কি করছে, কাদের সঙ্গে চলাফেরা করছে, কোথায় যাচ্ছে, তারা কি চায়, তাদের চাহিদা কী, এমন নানান বিষয়ে কোন খোঁজ রাখেন না ওই সব বাবা-মা।।

তখন সন্তানরা বন্ধুদের সঙ্গে বেশি সময় কাটাতে পছন্দ করে, এক কথায় আশ্রয় খোঁজে। অনেক সময় সেখানে তারা অপরাধ করার মতো মানসিকতা খুঁজে পায়। সেখানেই ঘটে বিপত্তি। এমনি ভাবে তাদের ছোট ছোট দল তৈরি হয়। এরপর  মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে যায় বা রাজনৈতিক বড় ভাইয়ের স্বার্থে এই কিশোররা জড়িত হতে থাকে। অনেক সময় আধিপত্য দেখানো, সবার সামনে নিজেকে ক্ষমতাধর দেখানোর লোভ থেকে নানা অপরাধমূলক কাজে জড়িত হয়ে পড়ে কিশোররা।

কীভাবে বুঝবেন আপনার সন্তান গ্যাং কালচারে জড়িত

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোরদের গ্যাং কালচারে জড়িত হওয়া ঠেকাতে অভিভাবকরাই সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারেন।

বিবিসির ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সন্তানের চলাফেরা, আচরণের দিকে নজর রাখলেই বুঝতে পারা যাবে যে, সে আসলে কোন গ্যাং বা মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে কিনা। এছাড়া সন্তানটি সময়মতো বাসায় ফিরছে কিনা। ঠিকমতো খাচ্ছে কিনা, ঘুমাচ্ছে নাকি। অতিরিক্ত টাকা দাবি করছে। বাসায় বন্ধুদের নিয়ে বেশি আড্ডা দিচ্ছে। এ রকম বেশ কিছু বিষয় দেখে বোঝা যায় সে আসলে কোনো গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত কিনা।

কীভাবে গ্যাং থেকে ফেরাবেন সন্তানকে?

এ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেন, সন্তান গ্যাং এর সদস্য জানতে পারলেই আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। বরং পারিবারিক কিছু উদ্যোগের মাধ্যমেই এ থেকে তাদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব। সন্তানের স্কুলে নিয়মিত খোঁজখবর রাখা, কাদের সঙ্গে মিশছে, কোথায় যাচ্ছে, সেটা নিয়মিতভাবে নজরে রাখা উচিত।

পাশাপাশি অভিভাবকদের সন্তানকে বেশি বেশি সময় দেয়া জরুরি। তাদের সঙ্গে আস্থার, বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। যত ব্যস্ততাই থাকুক না কেন, পারিবারিক সম্পর্ক তৈরি করাটা জরুরি। এই বিষয়গুলো একটু খেয়াল রাখলে সন্তানদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

যদি এ রকম কোনো ঘটনা ঘটে তাহলে সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে ওই এলাকা থেকে দূরের অন্য এলাকায় চলে যাওয়া। এমনকি স্কুল-কলেজ বদলে ফেলায় উত্তম। এক্ষেত্রে আপনার সন্তানের জন্য জটিল ওই সমস্যাটি কাটিয়ে ওঠা অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে।

ওডি/টিএএফ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড