• বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন

রক্তাক্ত মাতমে নিষেধাজ্ঞা মূল্যহীন

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৭:৪৯
তাজিয়া মিছিল
তাজিয়া মিছিলে রক্তাক্ত যুবক (ছবি : সাগর)

কারবালার প্রান্তে এজিদ কর্তৃক মহানবী (সঃ) এর দৌহিত্র ও হযরত আলী (রা) এর পুত্র ইমাম হোসেন (রা) এর নির্মম হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর মহররমের ১০ তারিখ শোকের মাতম পালন করে থাকে বিশ্ব শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়। দিনটিকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরের মতো এবারও ঢাকায় তাজিলা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিছিলে হায় হোসেন, হায় হাসান বলে বুক চাপড়ে রক্তাক্ত হতে দেখা যায় শিয়া মুসলিমদের। রক্তাক্ত এই মাতম আর ধর্মীয় অনুভূতির কাছে নিষেধাজ্ঞা ছিল অনেকটাই মূল্যহীন।

মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দীন রোডের হোসেনি দালান থেকে বের হয় তাজিয়া মিছিল। মিছিলটি ঢাকেশ্বরী-আজিমপুর আর নিউমার্কেট হয়ে ধানমন্ডি এলাকায় গিয়ে থামে। এরপর আবার হোসেনি দালান অভিমুখে ফিরে আসে।

প্রতিবছরের মতো এবারও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিয়া মুসলিমরা এই তাজিয়া মিছিলে যোগ দেন। মিছিলে তাজিয়া, আলম, ঝুলা, তাবত, নিয়ে সমবেত হয়েছেন বিভিন্ন বয়সের নারী, শিশু ও পুরুষ। মিছিলে আছে দুইটি ঘোড়া, যাকে দুলদুল হিসেবে চেনে সবাই।       

এসময় মিছিল ঘুরে দেখা যায়, সবাই হায় হাসান, হায় হোসেন বলে বুক চাপড়াতে থাকে। কালো পতাকায় আরবি হরফে বিভিন্ন শোকবার্তা লিখে তারা সেগুলো বহন করেন। আবার কয়েকজনকে দেখা যায় প্রশাসনের নিরাপত্তা সত্ত্বেও নিজেদের বুকের কাছে শরীর কেটে রক্তাক্ত অবস্থায় মিছিলে যোগ দিতে।

মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার মিছিল কিছুটা জৌলুস হারালেও শোকের মাতম আগের তুলনায় বেড়েছে। তাদের মতে, কারবালার মর্মান্তিক শোকের স্মরণে এ তাজিয়া মিছিল, যা সাজানো হয়েছে কারবালার শোকের নানা প্রতিকৃতি দিয়ে।

সাঈদ ইসলাম নামের এক যুবককে দেখা যায় নিজের বুকের কাছে ব্লেড দিয়ে বেশ খানিকটা কেটে রক্তাক্ত হয়েছেন! তিনি জানান, এটি একটি ধর্মীয় ঐতিহ্য। আর এর মধ্য দিয়েই আজকের দিনের শোক পালন করা হয়।

প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও এমনটা হওয়ায় কয়েকজন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, এটা তাদের ধর্মীয় রীতির মধ্যে পড়ে। প্রশাসন এর খারাপ দিক বিবেচনা করে এরকমটা করতে নিষেধ করেন। তবে এখন যদি তারা না মানেন তবে জোরপূর্বক তো আর বন্ধ করা যাবে না। কারণ এখানে ধর্মীয় ভাবমূর্তি কাজ করে। 

তারা আরও জানান, আমরা যথেষ্ট নিরাপত্তা রেখেছি এবং এ ঘটনাটি তেমন বড় কিছু নয়। ওরা মিছিলের মধ্যে এমন করেনি। আগে থেকেই মাজার থেকে ওরা রক্তাক্ত অবস্থায় এসেছে। আমাদের নিরাপত্তা জোরদার আছে এবং প্রয়োজনে আরো জোরদার করা হবে।

প্রসঙ্গত, আরবি বা হিজরি সাল অনুসারে ১০ মহরম তথা আশুরা সমগ্র মুসলিম বিশ্বে ত্যাগ ও শোকের দিন। ঘটনাবহুল এ দিনে বর্তমান ইরাকের অন্তর্গত কারবালা প্রান্তরে মুয়াবিয়ার হাতে নিহত হন ইমাম হোসেন। কারবালার এই মর্মান্তিক শোকের স্মরণে তাজিয়া মিছিল।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড