• মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

কেন বাড়ছে ধর্ষণ?

২৩ জুলাই ২০১৯, ১৫:২৩
ধর্ষণ নিয়ে শিক্ষার্থী ও বিশিষ্টজনদের অভিমত
শিক্ষার্থী ও বিশিষ্টজনদের সম্পাদিত ছবি

দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ধর্ষণ, বাড়ছে নিষ্ঠুরতা। সারাদেশে একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ কেউ রেহাই পাচ্ছে না এই ধর্ষণের হাত থেকে। ধর্ষক শুধু ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না, নিজের অপরাধ ঢাকতে ধর্ষণ শেষে করছে খুন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের সঙ্গে যুক্ত কতিপয় শিক্ষকরাও।

ধর্ষণ নিয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। তাদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর প্রতি মাসে গড়ে একশ জনেরও বেশি নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। গত ছয় মাসে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৬৩০টি। শুধু তাই নয়, ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৩৭ জন নারীকে। এছাড়া ধর্ষণের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন ৭ জন।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী ঘটনার মাত্রা আরও ভয়াবহ। প্রতিদিন গড়ে ধর্ষণ মামলা হয়েছে ১১টি। গেল বছর সারাদেশে এক হাজার ২৫১টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত সাড়ে চার বছরে সারা দেশে মোট ধর্ষণ মামলা হয়েছে ২০ হাজার ৮৩৫টি।

ধর্ষণ কেন বাড়ছে, এর প্রতিকারে সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিশিষ্টজনেরা কি ভাবছেন, তাদের মতামতগুলো তুলে ধরা হলো-

ধর্ষণ বাড়ার কারণ :

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী বদরুন্নেসা আমিন মুনা বলেন, বাসের চালক ও সহযোগীরা ঢাকায় পরিবার ছাড়া থাকে। তারা অ্যাগ্রেসিভ হয়ে যায়। ছেলেদের স্বভাবটাই এরকম। মেয়েরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, ছেলেরা পারে না। এটা স্বাভাবিকভাবে প্রাকৃতিক নিয়ম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান বলেন, নারীকে দমায়ে রাখার পুরুষের যে ডমিনেটিং মনোভাব, এর কারণেও ধর্ষণ বাড়ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী মোজাম্মেল হোসাইন বলেন, নৈতিকতার অবক্ষয়, আইনের অপপ্রয়োগ, কম প্রয়োগ বা যথাযথ প্রয়োগ না হওয়া ধর্ষণ বাড়ার পেছনে বড় কারণ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জেনিস ফারজানা বৃষ্টি বলেন, ধর্ষণের কোনো বিচার হচ্ছে না এটা প্রধান কারণ। এছাড়া ছেলেদের মানসিকতা হচ্ছে- তারা ছেলে সব পাওয়ার তাদের, তারা যা ইচ্ছা করতে পারে। তাছাড়া পর্নো সাইটগুলো বাংলাদেশ বন্ধ থাকায় শারীরিক চাহিদা মেটানোর জন্যও ধর্ষকরা এই ধর্ষণ করছে বলে মনে করেন এই শিক্ষার্থী।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নিলুফার ইয়াছমিন বলেন, ধর্ষণ পোশাক বা আকর্ষণ এসব কোনো কারণে হয় না। ধর্ষণের পেছনে প্রধান কারণ হচ্ছে- সামাজিক কাঠামোতে পুরুষতান্ত্রিক মনোভাবটা। এছাড়া আমাদের আইনি কাঠামো অনেক দুর্বল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, সুশাসনের অভাব এবং আইনের যে দুর্বলতা রয়েছে এই কারণে অপরাধীরা অপরাধ করে পার পেয়ে যাচ্ছে। এই কারণে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড গুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটাতে তারা সুযোগ পাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, স্পষ্ট অভিযোগ থাকার পরও রাজনৈতিক বিবেচনায় পার পেয়ে যাচ্ছে অথবা রাজনৈতিক বিবেচনায় লঘু শাস্তি হচ্ছে। এতে করে ধর্ষণ বাড়ছে। আমরা দেখি নয় মাসের শিশুও এতে ধর্ষণ হচ্ছে। এছাড়া সামাজিক মূল্যবোধের অভাবেও ধর্ষণ হওয়ার পেছনে কারণ বলে মনে করেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক তৌহিদুল হক বলেন, কোনো একটি কারণে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে না। একাধিক কারণের যখন মুখোমুখি হতে হয় তখন ধর্ষণের প্রবণতা বেড়ে যায়। অতীতের ধর্ষণের বিচার না হওয়া। এছাড়া নীলছবি বা পর্নোগ্রাফির আসক্তি রয়েছে আমাদের যুব সমাজের বড় অংশের মাঝে। পুরুষশাসিত সমাজে একজন পুরুষের এই ধরনের আচরণ, বিশেষ করে- ধর্ষণ বা যৌন শৃঙ্খলা বিঘ্ন করে এ ধরনের আচরণ পুরুষদের কাছে কিন্তু এখনও বাহবা পাওয়ার মতো আচরণ। সেই ধরনের প্রবণতা আমরা লক্ষ্য করি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম বলেন, বর্তমান সময়ে ধর্ষণ বাড়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। তার মধ্যে সামাজিক অস্থিরতাও দায়ী। এছাড়া সামাজিক সম্পর্কের যে অবনতি ঘটছে এটাও ধর্ষণ বাড়ার পেছনে অন্যতম কারণ।

তিনি আরও বলেন, আজকে আমাদের যৌথ পরিবার ব্যবস্থাগুলো একক পরিবার ব্যবস্থায় রূপ নিচ্ছে। এছাড়া আমাদের সমাজে বিচ্ছেদ বেড়ে যাচ্ছে এটাও ধর্ষণ বাড়ার পেছনে আরেকটি কারণ। প্রতিহিংসার কারণেও ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। প্রতিহিংসা বা শত্রুতার কারণে সেই পরিবারের মেয়ে বা নারীকে সহজে টার্গেট করে ধর্ষণ বা গণধর্ষণ করছে।

মেয়েদের ছোট পোশাকই কি ধর্ষণের কারণ :

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান বলেন, পোশাক যে পুরুষের মধ্যে যৌন উত্তেজনা তৈরি করছে ব্যাপারটা কিন্তু এমন না। কারণ একটাই পুরুষের নিয়ন্ত্রণ করার কুচরিত্র বা কু মনোভাব নিবৃত্ত না হওয়া।

এ দিকে ছোট পোশাককে দায়ী বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী বদরুন্নেসা আমিন মুনা।

এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জেনিস ফারজানা বৃষ্টি বলেন, যদি ছোট পোশাক দায়ী হত তাহলে ছোট বাচ্চারা কেন ধর্ষণের শিকার হচ্ছে? এটা তো হওয়ার কথা না। আমি মনে করি এটা পুরুষদের মানসিকতারই সমস্যা।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নিলুফার ইয়াছমিন বলেন, ছোট পোশাক দায়ী হওয়ার মতো বিষয় হতে পারে না। যদি সেটাই হতো তাহলে এমন অনেক অনেক খবর এসেছে যাতে দেখা যায় শিশুদের ধর্ষণের সংখ্যা বাড়ছে। এতেই প্রমাণ হতে পারে ছোট পোশাক ধর্ষণ প্রবণতা করার ক্ষেত্রে কোন কারণ হতে পারে না।

ধর্ষণের পর হত্যা করার কারণ সম্পর্কে নিলুফার ইয়াছমিন বলেন, ভারতে খুব উল্লেখযোগ্য একটা ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ওই সময় একজন অভিযুক্ত বলেছেন যে, ধর্ষণের পর মেরে ফেলি, কারণ হচ্ছে- ধর্ষিতা কোনোভাবে আমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য বা অভিযোগ করতে না পারে। এটা ধর্ষকদের একটা মনোভাব হতে পারে, মেরে ফেললে ঘটনা লুকাতে পারবে।

সামাজিক একটি বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ঢাবির মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী বদরুন্নেসা আমিন মুনা বলেন, প্রভাবশালী কোনো একটা ছেলে একটা মেয়েকে ধর্ষণ করার পর সমাজে দেখা যায়- স্থানীয়রা মেয়েটাকে ওই ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে পবিত্র করে দেয়। এটা কোনো কথা! বিচার না পাওয়ার পরিবর্তনে মেয়েটা সারা জীবন ওই বখাটের সঙ্গে জীবন কাটাবে এটা কেমন কথা হলো। তাদের এটার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা উচিত। এর জন্য প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা রাখা উচিত। এই জিনিসটা বন্ধ করতে।

প্রতিকারের উপায় :

বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, ধর্ষণ বন্ধ করতে হলে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ করতে হবে। সামাজিকভাবে প্রত্যেকটা মানুষকে সচেতন হতে হবে।

এ বিষয়ে ঢাবি শিক্ষার্থী জেনিস ফারজানা বৃষ্টি বলেন, নিশ্চয়ই এ দিকে প্রশাসনের দৃষ্টি আছে। আইনি ব্যবস্থা কার্যকর করা উচিত। এই শাস্তির বিষয়টা যদি প্রশাসন নিশ্চিত করতে পারে তবে এটা কমতে পারে।

ঢাবির শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান বলেন, মানুষের ভেতরে, আমাদের সমাজে এবং আমাদের লেখাপড়ায় সমাজ নিয়ে সেক্স নিয়ে নারী পুরুষের যে সম্পর্ক এগুলো নিয়ে কাজ করা দরকার। এটা নিয়ে অ্যাকাডেমিক পর্যায়েও কাজ হতে পারে। আর যারা উচ্চশিক্ষা নিতে পারছে না কিন্তু প্রাথমিক পর্যায়ে অন্তত পড়াশোনা করছে সেখানে আমরা নারী পুরুষের সম্পর্ক নিয়ে শিক্ষা দেওয়া যেতে পারে। যেন ছোটবেলা থেকে পুরুষের ভেতর নারীর প্রতি যে আকাঙ্ক্ষা, কৌতূহল জাগে সে যেন ওটাকে তার পড়াশোনার মাধ্যমে বিবেক দিয়ে নিজেকে নিবৃত্ত করতে পারে।

ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, ধর্ষণের মতো ঘটনাগুলোর সঙ্গে যারা জড়িত থাকে তাদের যদি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া যেত অন্য অপরাধীদের মনে সেটার একটা প্রভাব পড়ত। তারা হয়তো এই অপরাধ প্রবণতা থেকে দূরে থাকত।

তিনি আরও বলেন, সমাজে মানুষের মাঝে একটা সচেতনতা তৈরি করতে হবে। যেন এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে তারা সোচ্চার হয়। সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কথা বলে, তারা যেন প্রতিবাদ করে।

নুর এও বলেন, যদি আইনের শক্তভাবে প্রয়োগ হয় তাহলে এই ধরনের ঘটনাগুলো এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব এবং অ্যাভয়েড করা সম্ভব।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা হাসান আল মামুন বলেন, দ্রুত বিচারের মাধ্যমে একটা ট্রাইব্যুনাল গঠন করে এদের বিচার করা হলে এটা হ্রাস করা যাবে।

ঢাবির শিক্ষার্থী বদরুন্নেসা আমিন মুনা বলেন, প্রশাসনের কাজ একটাই, এদেরকে ধরে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া। পাঁচজন ধর্ষককে যদি ফাঁসি দিয়ে দেওয়া হয় তাহলে আমার মনে হয় যে এই জিনিসটা একদম কমে যাবে।

মুনা আরও বলেন, আমার বাবা যদি আমার ভাইকে শেখায়, তুমি একটা মেয়েকে রাস্তায় কিভাবে সম্মান করবে। তাহলে একটা ছেলে শিখবে। কিন্তু আমাদের সমাজ শেখায়- আমার বাবা আমাকে বলে যে, তোমাকে বোরকা পরতে হবে। তোমাকে সাবধানে চলাফেরা করতে হবে। ছেলেদের যদি একটু ভালোভাবে শিক্ষা দেওয়া হয় তাহলে ধর্ষণের হারটা কমবে।

ঢাবি শিক্ষক তৌহিদুল হক বলেন, আমাদের পরিবার ব্যবস্থাকে একটু জোরালোভাবে ভূমিকা পালনের ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে। অভিভাবকদের খোঁজ রাখতে হবে তাদের সন্তান কাদের সঙ্গে মিশছে। তাদের অগোচরে কোন ধরনের বিনোদন উপকরণগুলো ভোগ করছে। এগুলো যদি নিশ্চিত করতে পারি, তবে ধর্ষণের সংখ্যা কমবে এবং যেভাবে বিকৃতভাবে ধর্ষণ বাড়ছে- ধর্ষণ হচ্ছে সেটাও কমে আসবে।

ঢাবির অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম বলেন, টেকনোলজির যেন অপব্যবহার না হতে পারে সেই দিকটা বন্ধ করতে পারি কিনা দেখতে হবে। পাঠ্যপুস্তকে কীভাবে এটা অন্তর্ভুক্ত করা যায় যে এটা কতটুকু জঘন্য, কতটুকু ভয়ংকর। এর জন্য কী ধরনের শাস্তি পেতে হয় এটা যদি পাঠ্যপুস্তকের পাঠদান করা যায়। এর মাধ্যমে সচেতন করে তোলা যাবে সমাজকে। তাহলে আমরা এর থেকে কিছুটা মুক্তি পেতে পারি।

ধর্ষণ রোধে ধর্মীয় অনুশাসনের ভূমিকা :

হাসান আল মামুন বলেন, ধর্মীয় যে শিক্ষা আছে সেটা সেভাবে ব্যবহার করা প্রয়োজন। যেহেতু আমরা মুসলিম প্রধান দেশ। এর পাশাপাশি সামাজিক ও পারিবারিকভাবে সেই শিক্ষাকে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

এ প্রসঙ্গে নুরুল হক নুর বলেন, যখন ধর্মীয় উৎসব থাকে, তখন সবাই সেখানে জড়ো হয়। সেখানে যদি এই ঘটনাগুলো নিয়ে একটা বার্তা দেওয়া হয়- তাহলে ধর্ষণ রোধে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো একটা ভালো ভূমিকা রাখতে পারবে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্লাসে এ বিষয়গুলো নিয়ে সচেতন করা যায় সে ক্ষেত্রে শিক্ষকরা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ড. মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ধর্মের মূল্যবোধ হলো কোনোভাবে ধর্ষণ করা যাবে না। এটা ঘৃণ্য অপরাধ। প্রত্যেকটি ধর্মে ধর্ষণকারীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ধর্ষকের যে শাস্তি হওয়া উচিত :

মৃত্যুদণ্ড ছাড়া ধর্ষকের শাস্তির বিকল্প কিছু হতে পারে না বলে মনে করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নিলুফার ইয়াছমিন।

ধর্ষকের শাস্তি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোজাম্মেল হোসাইন।

ঢাবি শিক্ষার্থী জেনিস ফারজানা বৃষ্টি বলেন, সর্ব সম্মুখে মৃত্যুদণ্ড বা ফাঁসির শাস্তি দেওয়া উচিত। অথবা যেটাকে ধর্ষকরা তাদের শক্তি মনে করে সেটাকে নষ্ট করে ফেলাটাই একটা শাস্তি হতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল সংসদের এজিএস সাবরিনা স্বর্ণা বলেন, সৌদি আরবে কেউ চুরি করার সাহস রাখে না। কেন রাখে না, কারণ সে জানে যদি সে ধরা পড়ে সঙ্গে সঙ্গে তার হাতটি কেটে দেওয়া হবে। মানে এই যে তাৎক্ষণিক শাস্তির ব্যবস্থা। যদি এমন কোনো শাস্তি তাৎক্ষণিক দেওয়া হয় যেটা মানুষের মাঝে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

সাবরিনা স্বর্ণা আরও বলেন, মৃত্যুদণ্ড আমার কাছে মনে হয় খুব সহজ শাস্তি। কারণ একজন মানুষ যখন মারা গেল। তারতো আসলে বলার বা করার কিছু নেই। আর কত জনের মৃত্যুদণ্ডই আসলে হচ্ছে।

মৃত্যুদণ্ড বা অনেক বড় শাস্তি হওয়া উচিত মনে করেন ঢাবির শিক্ষার্থী বদরুন্নেসা আমিন মুনা। তিনি বলেন, ধর্ষকের শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।

বিষয়টি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান বলেন, আমি মনে করি না মৃত্যুদণ্ড দেওয়া উচিত। কিন্তু মানুষ চাচ্ছে কারণ সবার ভেতর একটা ক্ষোভ আছে। ধর্ষণ বাড়ার কারণে সবাই এই দাবিটা জানাচ্ছে। আমি চাই ধর্ষক যেন তার প্রাপ্য শাস্তি অবশ্যই পাক এবং এই ধরনের পরিস্থিতি বা দুর্ঘটনা আর না ঘটে। এজন্য আমাদের ভেতরে এক ধরনের সচেতনতা অবশ্যই তৈরি করা উচিত। আর এজন্য আমাদের শিক্ষা ও রাজনীতি পারবে মানুষকে তার ভেতরে এই বিষয়টা জাগ্রত করতে।

নুরুল হক নুর বলেন, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আওতায় এনে সর্বোচ্চ এক থেকে দুই বছরের মধ্যে এর বিচার নিষ্পত্তি করার বিধান থাকা উচিত।

গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব তৌহিদুল হক বলেন, একজন ধর্ষকের শাস্তি জনসম্মুখে হওয়া দরকার এবং সেটি মিডিয়ার মাধ্যমে সরাসরি দেখানো হবে। এর মধ্য দিয়ে যার এই ধরনের অপরাধ প্রবণতা রয়েছে বা ইচ্ছা যাদের মধ্যে রয়েছে তারা কিন্তু একটি সতর্কতামূলক বার্তা বা সংকেত রাষ্ট্র ও সমাজের কাছ থেকে পাবে। যার মধ্য দিয়ে সেটি ভয় হোক, শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে হোক, এ ধরনের অপরাধপ্রবণ ব্যক্তি এই ধর্ষণ থেকে বিরত থাকবে।

ড. মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ধর্ষকের ফাঁসি হতে পারে, তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। আর এটাকে যত দ্রুত আইনের আওতায় আনা যেতে পারে, মানুষ তত বেশি এটা নিয়ে সচেতন হবে এবং এই বিষয় নিয়ে ভাববে।

 

ওডি/এএস

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড