• মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন

বাড্ডায় গণপিটুনিতে হত্যা

রাতে গ্রেফতার আরও দুই

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২৩ জুলাই ২০১৯, ০০:৫১
তাসলিমা বেগম রেনু
তাসলিমা বেগম রেনু। (ছবি : সংগৃহীত)

রাজধানীর বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে তাসলিমা বেগম রেনুকে (৪০) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আরও দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২২ জুলাই) রাতে বাড্ডার তেঁতুলতলা ও হোসেন মার্কেট এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার দুজন হলেন- আবুল কালাম আজাদ ও  মোহাম্মদ কামাল। এ নিয়ে রেনু হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার হলেন মোট ছয়জন। এর আগে রবিবার (২১ জুলাই) গ্রেফতার হওয়া চারজন হলেন- জাফর হোসেন, মোহাম্মাদ শাহীন, বাচ্চু মিয়া ও শহিদুল ইসলাম।

বাড্ডা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক জানান, ভিডিও ফুটেজ দেখে আজাদ ও কামাল নামে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা উত্তর বাড্ডায় থাকেন।

এর আগে সোমবার গ্রেফতার জাফর, শাহীন, বাপ্পীর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। আসামিদের আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে তাদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। অন্যদিকে রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন আসামিদের আইনজীবীরা। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম ধীমান চন্দ্র মণ্ডল চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

শনিবার (২০ জুলাই) সকালে উত্তর বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে ওই নারীকে পিটিয়ে আহত করে বিক্ষুব্ধ জনতা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে ঢামেক হাসপাতালে নিহতের মরদেহ শনাক্ত করেন তার ভাগনে ও বোন রেহানা। তারা জানান, নিহতের নাম তাসলিমা বেগম রেনু। তার ১১ বছরের এক ছেলে ও চার বছর বয়সী এক মেয়ে রয়েছে। আড়াই বছর আগে স্বামী তসলিম উদ্দিনের সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে ছেলেমেয়েকে নিয়ে মহাখালী ওয়ারলেস গেট এলাকায় একটি বাড়িতে থাকতেন তিনি।

বিষয়টি নিয়ে নিহতের ভাগিনা নাসির উদ্দিন বলেন, রেনু মানসিক রোগে ভুগছিলেন। চার বছর বয়সী মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করানোর জন্য তিনি এক স্কুল থেকে আরেক স্কুলে ঘুরছিলেন। এ কারণেই হয়তো তিনি বাড্ডার ওই স্কুলটিতে যান।

বাড্ডা থানায় দায়ের করা হত্যা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, রেনু তার মেয়েকে ভর্তি করতে স্কুলে যান। কিন্তু মানসিক অসুস্থতার কারণে তার আচরণ অস্বাভাবিক ছিল। এজন্য স্কুলের অনেকেই তাকে ছেলেধরা হিসেবে সন্দেহ করছিল। প্রধান শিক্ষক তার সঙ্গে কথা বলতে রুমে নিয়ে যান। কিন্তু স্কুল আঙ্গিনায় তার অস্বাভাবিকতা দেখে অনেকেই বের করে মারধর করতে চাইছিলেন। প্রধান শিক্ষক রেনুকে বাইরে বের না করলে, স্কুলের কিছু অভিভাবক ও বাইরে থেকে আসা উৎসুক জনতা রুমের গেট ভেঙে তাকে ‘ছেলেধরা’ বলে মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার রেনুকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় শনিবার বাড্ডা থানায় অজ্ঞাত ৪০০-৫০০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন নাসির উদ্দিন। মামলায় বলা হয়েছে, অতর্কিতভাবে ওই নারীকে স্কুলের অভিভাবক, উৎসুক জনতাসহ অনেকে গণপিটুনি দেয়। এতে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৪০০-৫০০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি জড়িত।

ওডি/এমআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড