• রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬  |   ২৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ছেলেধরা সন্দেহে নারীকে পিটিয়ে হত্যা : ৫শ জনের বিরুদ্ধে মামলা

  অধিকার ডেস্ক

২১ জুলাই ২০১৯, ১০:১৮
নারীকে পিটিয়ে হত্যা
ছবি : সম্পাদিত

রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে এক নারীর মৃত্যুর হওয়ার ঘটনায় অজ্ঞাত ৪শ থেকে ৫শ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। শনিবার (২০ জুলাই) রাতে বাড্ডা থানায় নিহতের ভাগিনা নাসির উদ্দিন এ হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, উত্তরপূর্ব বাড্ডার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে অতর্কিতভাবে ওই নারীকে স্কুলের অভিভাবক, উৎসুক জনতাসহ অনেকে গণপিটুনি দেয়। এতে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আনুমানিক ৪শ থেকে ৫শ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি জড়িত।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পুলিশের বাড্ডা থানার ডিউটি অফিসার এসআই মাসুদ। মামলার বাদী নিহতের ভাগিনা নাসির উদ্দিন। বাড্ডা থানার এসআই সোহরাব হোসেনকে মামলাটি তদন্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহতের লাশ শনাক্ত করেন তার ভাগিনা ও বোন রেহানা। তারা জানায়, নিহতের নাম তসলিমা বেগম রেনু। তার ১১ বছরের এক ছেলে ও চার বছর বয়সী এক মেয়ে রয়েছে। দুই বছর ছয় মাস আগে তসলিম উদ্দিনের সাথে তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে ছেলেমেয়েকে নিয়ে মহাখালী ওয়ারলেস এলাকায় একটি বাড়িতে থাকতেন তিনি।

বিষয়টি নিয়ে নিহতের ভাগিনা নাসির উদ্দিন বলেন, রেনু মানসিক রোগে ভুগছিলেন। চার বছর বয়সী মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করানোর জন্য তিনি এক স্কুল থেকে আরেক স্কুলে ঘুরছিলেন। এ কারণেই হয়তো তিনি বাড্ডার ওই স্কুলটিতে যান।

বাড্ডা থানায় দায়ের করা হত্যা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, রেনু তার মেয়েকে ভর্তি করতে স্কুলে যান। কিন্তু মানসিক অসুস্থতার কারণে তার আচরণ অস্বাভাবিক ছিল। এজন্য স্কুলের অনেকেই তাকে ছেলেধরা হিসেবে সন্দেহ করছিল। প্রধান শিক্ষক তার সঙ্গে কথা বলতে রুমে নিয়ে যান। কিন্তু স্কুল আঙ্গিনায় তার অস্বাভাবিকতা দেখে অনেকেই বের করে মারধর করতে চাইছিলেন। প্রধান শিক্ষক রেনুকে বাইরে বের না করলে, স্কুলের কিছু অভিভাবক ও বাইরে থেকে আসা উৎসুক জনতা রুমের গেট ভেঙে তাকে ‘ছেলেধরা’ বলে মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার রেনুকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ব্যাপারে বাড্ডা থানার অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) আহমেদ হুমায়ুন বলেন, আমরা প্রধান শিক্ষকের স্টেটমেন্ট নিয়েছি, তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে মূল ঘটনা জানা যাবে।

এদিকে শনিবার বিকালে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এক নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ গুজবে কান দিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা রাষ্ট্রবিরোধী কাজের শামিল। এছাড়া ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে হত্যা ফৌজদারী অপরাধ। আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না।’

পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, পদ্মা সেতু নির্মাণে মাথা লাগবে- একটি মহলের এমন গুজব ছড়ানোর পর সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েকজন গণপিটুনিতে মর্মান্তিকভাবে নিহত হয়েছেন। গণপিটুনির ঘটনা গুলো তদন্ত করে এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

ওডি/এএস

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড