• শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন

ঈদের আগেই পরিবহন বহরে যুক্ত হচ্ছে ৮৩ ডাবল ডেকার বাস  

  অধিকার ডেস্ক

২০ জুলাই ২০১৯, ১৪:৫২
বিআরটিসি
বিআরটিসি ডাবল ডেকার বাস (ছবি: সংগৃহীত)

ঈদযাত্রায় মানুষের দুর্ভোগ কমাতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) দূরপাল্লাসহ রাজধানীর যাত্রী পরিবহন বহরে আরও ৮৩টি ডাবল ডেকার বাস যুক্ত করতে যাচ্ছে। 

বিআরটিসি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিআরটিসির জন্য দ্বিতল, একতলা  এসি এবং নন-এসি বাস সংগ্রহ প্রকল্পের আওতায় বাসগুলো কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে এই প্রকল্পের আওতায় ভারত থেকে কয়েক ধাপে বাংলাদেশে ৫১৭টি বাস এসেছে। আর ঈদুল আজহার আগেই আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে বাকি ৮৩টি বাস বাংলাদেশে প্রবেশ করবে।ঈদুল আজহার উপলক্ষে অধিকাংশ বাস দেশের লংরুটে চলাচল করবে।  

বিআরটিসি সূত্রে আরও জানা গেছে, ঈদের আগে বাসগুলো সারাদেশের যাত্রী পরিবহনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এই প্রতিটি বাসের আসন সংখ্যা ১২০টি। এছাড়া বাসগুলোতে আরও ৪০ জন যাত্রী দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করতে পারেন। 

জানা গেছে, ভারতীয় কোম্পানি অশোক লেল্যান্ডের কাছ থেকে প্রতিটি ৭২ লাখ টাকা দরে ৩০০টি ডাবল ডেকার, ৭০ লাখ টাকা দরে একশটি সিঙ্গেল ডেকার এসি ইন্টারসিটি, ৬৯ লাখ টাকা দরে  একশটি এসি সিঙ্গেল ডেকার এবং ৪২ লাখ টাকা দরে টাটার কাছ থেকে একশটি সিঙ্গেল ডেকার  নন-এসি বাস কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাসগুলোর অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছে ১২ বছর।   

ইতোমধ্যেই দেশে একশ নন-এসি সিঙ্গেল ডেকার, একশ এসি সিঙ্গেল ডেকার, একশ সিঙ্গেল ডেকার  ইন্টারসিটি ও ২১৭টি ডাবল ডেকার বাস এসেছে। আর আগস্টের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই বাংলাদেশে বাকি ৮৩টি ডাবল ডেকার বাস প্রবেশের মাধ্যমে শেষ হবে প্রকল্পের কাজ।

বিআরটিসি চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) ফরিদ আহমদ ভূঁইয়া বলেন, ইতোমধ্যেই আমরা ভারত থেকে কয়েক ধাপে ৫১৭টি বাস পেয়েছি। ৬০০টির মধ্যে ৮৩টি ডাবল ডেকার ননএসি বাস আগস্ট মাসেই হাতে পাবো। আর বাকি ৮৩টির মধ্যে ৩৪টি বাস এখন বেনাপোলে বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায়। সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ৮৩টি বাস হাতে পাবো। ফলে পরিবহন ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হবে এবং ঢাকাসহ সারা দেশের মানুষের যাতায়াতে ভোগান্তি কমবে।

প্রকল্পের সবশেষ ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) অনুযায়ী, প্রতিটি বাসের সিডি ভ্যাট নির্ধারণ করা হয়েছে বেশি। আর ৬০০টি বাসে পুনরায় ১০ শতাংশ হারে ভ্যাট ধরা হয়েছে। ফলে সবমিলিয়ে এ খাতে সিডি ভ্যাটের পরিমাণ দাঁড়ায় ১১৫ কোটি টাকা। সবশেষ ডিপিপিতে ছিল ১০১ কোটি টাকা। ফলে সিডি ভ্যাটে বাড়তি লাগছে আরও ১৪ কোটি টাকা।  

সূত্র জানিয়েছে, প্রথমে ৬০০টি বাসে নিবন্ধ ফি ধরা হয়েছিল ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা। তবে এখন নিবন্ধন ফি বাবদ ৬০ লাখ টাকা বাড়ছে। ফলে এই খাতে মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এছাড়া এই বাস পেতে এলসি কমিশন খাতেও ব্যয় বাড়ছে ২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে সিডি ভ্যাট, নিবন্ধন ও এলসি খাতে ব্যয় বাড়ছে। আর এই প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে  ৫২৫ কোটি ১৬ লাখ টাকা। যেখানে সরকারি অর্থায়ন ১৩২ কোটি ১৬ লাখ এবং ভারতীয় ঋণ ৩৯৩ কোটি টাকা। 

বিটিআরসি থেকে আরও জানা গেছে, ভারত থেকে আরও দুই বিলিয়ন ডলার (২০০ কোটি ডলার) নমনীয় ঋণ (এলওসি) পেয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ অবকাঠামো বিশেষ করে রেল, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে এ অর্থ ব্যবহার করতে পারবে। ভারত থেকে অন্তত ৭৫ শতাংশ পণ্য ও সেবা আমদানি করতে হবে। এই ৬০০টি বাস কিনতে প্রথমে মোট খরচ ধরা হয়েছিল ৫৮০ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, যার মধ্যে ইন্ডিয়ান লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) থেকে ৪৩৪ কোটি ৩২ লাখ টাকাই আসবে।তবে পরে ব্যয় কমে হয় ৫২৫ কোটি টাকা।    

জানা গেছে, বর্তমানে বিটিআরসি বহরে ৫৮৮টি পুরনো বাস রয়েছে, যেগুলো পরিবেশ দূষণ করছে। এই বাস স্বল্পতার কারণে বিআরটিসির পক্ষে যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদাও মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই নতুন ভারতীয় বাসগুলো কেনা হচ্ছে। 

এছাড়া বিআরটিসির অচল বাসগুলো মোহাম্মদপুর, কল্যাণপুর ও গাবতলী বাসডিপোতে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। আবার কোনো কোনো বাসের শুধু বাইরের আবরণ আছে, যন্ত্রাংশ খুলে পড়েছে। কিছু কিছু বাস আবার দুর্ঘটনার কবলে পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে গেছে।আবার কিছু কিছু বাসের চাকা মাটির সঙ্গে ডেবে গেছে। তাছাড়া রাজনৈতিক আগুনে হরতাল-অবরোধের সময় কিছু বাস পুড়ে গেছে। নতুন ভারতীয় ঋণে কেনা বাসগুলো এসব বাসের স্থলে রিপ্লেস করা হবে। এগুলোর মধ্যে কিছু বাস সারা দেশে দেওয়া হবে। আর রাজধানীর বিভিন্ন গন্তব্যে কিছু বাস চালু করা হবে। 

ওডি/টিএফ
 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড