• রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের সবচেয়ে দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন বাংলাদেশের

  অধিকার ডেস্ক

২০ জুন ২০১৯, ০৯:৪৬
এডিবি
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বাংলাদেশে এডিবির আবাসিক পরিচালক মনমোহন প্রকাশের সাক্ষাৎ (ছবি : পিআইডি)

এশিয়া প্যাসিফিক অর্থনৈতিক অঞ্চলের ৪৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বলে জানিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। 

বুধবার (১৯ জুন) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করা এশীয় উন্নয়ন আউটলুকে এডিবি বলেছে, ২০১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৭ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে যা ১৯৭৪ সালের পর সবচেয়ে দ্রুত সম্প্রসারণ। 

বুধবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সংসদ ভবনস্থ কার্যালয়ে শেখ হাসিনার কাছে এশীয় উন্নয়ন আউটলুক (এডিও) হস্তান্তর করেন বাংলাদেশে এডিবির আবাসিক পরিচালক মনমোহন প্রকাশ। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

এডিবি তাদের এডিওতে আভাস দিয়েছে যে, বাংলাদেশ ২০১৯ ও ২০২০ অর্থবছরে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে, যা হবে একটি নতুন রেকর্ড। এডিওতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ এশীয় প্যাসিফিক অঞ্চলে দ্রুততম প্রবৃদ্ধি অর্জন অব্যাহত রাখবে।’

এডিবির বার্ষিক প্রকাশনা এডিও এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের ৪৫টি দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন ও পূর্বাভাস দিয়ে থাকে। এতে বলা হয়, এশিয়ার অধিকাংশ দেশের প্রবৃদ্ধি হবে মাঝারি। ২০১৯ সালে এটি হবে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ২০২০ সালে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ, যা ২০১৭ সালে ছিল ৬ দশমিক ২ শতাংশ ও ২০০৮ সালে ছিল ৫ দশমিক ৯ শতাংশ।

তবে দক্ষিণ এশিয়া শ্লথ প্রবৃদ্ধির প্রবণতা কাটিয়ে ২০১৯ সালে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ ও ২০২০ সালে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। এডিওতে বলা হয়, এই প্রবৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামকগুলো হচ্ছে- শক্তিশালী নেতৃত্ব, সুশাসন, স্থিতিশীল সরকার ও অব্যাহত রাজনৈতিক শান্তিপূর্ণ অবস্থা, সুষ্ঠু সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতিমালা ও সঠিক উন্নয়ন অগ্রাধিকার।

এতে উচ্চ সরকারি বিনিয়োগ, জোরালো ভোগ চাহিদা, বিনিয়োগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, উন্নত বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বেসরকারি খাতের ঋণের ক্ষেত্রে উচ্চ প্রবৃদ্ধিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকা শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এডিওতে উল্লেখ করা হয়, বৈশ্বিক দুর্বল প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও বাংলাদেশে অনুকূল বাণিজ্য সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া, রপ্তানি ও রেমিটেন্স আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, অব্যাহত নীতি পরিবেশের কারণে জোরালো সরকারি বিনিয়োগ এবং দ্রুত বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং আওতা বৃদ্ধিসহ উচ্চ কর সংগ্রহ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও এগিয়ে নেবে।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সংস্কার উচ্চ বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে, যা প্রবৃদ্ধির সহায়ক হবে।

শেখ হাসিনা এডিবির আবাসিক পরিচালককে বলেন, তার সরকার একটি সুপরিকল্পিত উপায়ে দেশের অর্থনীতিকে ধাপে ধাপে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ‘আমরা এ বছরও বাজেট প্রণয়নের আগে আমাদের বিশ্লেষণ করেছি।’

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, আওয়ামী লীগ যখন বিরোধী দলে ছিল তখনও তার দল দেশের স্বার্থে বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সামগ্রিকভাবে দেশকে উন্নত করার এবং ধনী-গরিব ও গ্রাম-শহরের ব্যবধান হ্রাস করার স্বপ্ন ছিল। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার সারাদেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে, যেখানে সারা বিশ্বের বিনিয়োগকারীরা তাদের শিল্পকারখানা স্থাপন করতে পারবে।

মনমোহন প্রকাশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সরকারের সকল উন্নয়ন কর্মসূচি জনমুখী।

ওডি/এআর 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড