• শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

তীরে ভিড়তে অনুমতি দিচ্ছে না তিউনিসীয় কর্তৃপক্ষ

ভূমধ্যসাগরে ১২ দিন ধরে ভাসমান ৬৪ বাংলাদেশিসহ ৭৫ অভিবাসী

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১২ জুন ২০১৯, ১৫:১৩
ভূমধ্যসাগরে
ছবি : জ্যাকোবিন

তিউনিস উপকূলবর্তী জলসীমায় প্রায় ৭৫ অভিবাসী নিয়ে মিশরের উদ্ধারকারী একটি নৌকা দীর্ঘ ১২ দিন ধরে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। অভিবাসীদের মধ্যে অধিকাংশই বাংলাদেশি, কর্তৃপক্ষ তাদের তীরে ভিড়তে অনুমতি না দেয়ায় নৌকাটি ভাসমান অবস্থায় রয়েছে বলে জানায় রেড ক্রিসেন্ট।

মিশরীয় নৌকাটি লিবিয়া থেকে ইউরোপের উদ্দেশ্যে রওনা করা অভিবাসীদের তিউনিসিয়ার জলসীমা থেকে করলেও মেডিনাইনের গভর্নর কর্তৃপক্ষ তাদের তীরে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি। অভিবাসী কেন্দ্রগুলোতে উপচে পড়া ভিড় থাকায় নতুন করে অভিবাসীদের আর তীরে আসার অনুমতি দিতে পারছে না বলে গভর্নর কার্যালয় থেকে জানানো হয়। উপকূলবর্তী শহর জারজিস থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে জাহাজটি ভাসমান অবস্থায় রয়েছে।

দরিদ্র অঞ্চলের দেশগুলো থেকে উন্নত জীবনযাত্রার আশায় পানি পথে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই ইউরোপে পাড়ি জমাতে চেষ্টা করে হাজার হাজার মানুষ। বাংলাদেশিদের একটা বিশাল অংশ এভাবেই উন্নত দেশগুলোতে গিয়েছে, শুধু বাংলাদেশ নয়, এশিয়া, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার অনেক দেশের মানুষই উন্নত ও নিরাপদ জীবনের তাগিদে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই এই পন্থা অবলম্বন করছে।  

ভাসমান অভিবাসীরা খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা প্রত্যাখ্যান করে বলে সরকারি সূত্রে বলা হয়েছে। তারা ইউরোপে যাওয়ার অনুমতি দাবি করছে যা তাদের আকাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য। সেখানে পৌঁছে তারা আরও ভালো জীবনযাপন করার প্রত্যাশা করছে।

রেড ক্রিসেন্ট কর্মকর্তা মংগি স্লিম বার্তা সংস্থা 'রয়টার্স'-এর কাছে বলেন, 'সমুদ্রে ১২ দিন কাটানোর পরে অভিবাসীরা শোচনীয় অবস্থানে রয়েছে। এমতাবস্থায় কিছু ডাক্তার চিকিৎসা সহায়তা দেয়ার জন্য নৌকায় পৌঁছেছেন, কিন্তু অভিবাসীদের অনেকেই বার বার সাহায্য প্রত্যাখ্যান করে আসছে।'

রেড ক্রিসেন্ট জানায়, ইউরোপের উদ্দেশ্যে লিবিয়া থেকে ছেড়ে যাওয়া অভিবাসীদের দলটির মধ্যে ৬৪ জনই বাংলাদেশের, বাকিরা মরক্কো, সুদান ও মিশরের নাগরিক। তাদের উদ্ধারের বিস্তারিত বিবরণ এখনও জানা যায়নি।  

লিবিয়ার পশ্চিম উপকূল আফ্রিকার অভিবাসীদের জন্য ইউরোপে যাওয়ার জন্য একটি প্রধান প্রস্থান পয়েন্ট। ইউরোপ পৌঁছানোর আশায় মানবপাচারকারীদের অর্থ প্রদানের মাধ্যমে এই পয়েন্ট থেকে যাত্রা করে। সম্প্রতি যদিও চোরাচালান নেটওয়ার্কগুলোকে ব্যাহত করতে এবং লিবিয়ান কোস্ট গার্ডকে সহায়তার জন্য ইতালির নেতৃত্বাধীন অভিযানের প্রচেষ্টার কারণে মানবপাচার হ্রাস পেয়েছে।

গত মাসে লিবিয়া হতে ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় তিউনিসিয়ার উপকূলে অন্তত ৬৫ অভিবাসী নিয়ে একটি নৌকা ভূমধ্যসাগরে ডুবে গিয়েছিল। 

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানায়, ২০১৯ সালের প্রথম চার মাসে ১৬৪ জন মানুষ এই পথে মৃত্যুবরণ করেছে। যা আগের সংখ্যাগুলোর তুলনায় ছোট সংখ্যা কিন্তু মৃত্যুর হারে অনেক বেশি। লিবিয়া থেকে তিউনিস উপকূল হয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর জন্য যাত্রাকারীদের প্রতি তিনজনের একজন নিহত হয়েছে। 'রয়টার্স' 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড