• শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

ঈদযাত্রায় মৃত্যুমিছিল : সড়কে ২২১, নৌ-রেলে ২৬

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১২ জুন ২০১৯, ১৫:০৪
যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ
যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন

চলতি বছর ৩০ মে থেকে ১০ জুন পর্যন্ত ঈদযাত্রার ১২ দিনে ১৮৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২২১টি প্রাণ গেছে। এর সঙ্গে নৌ ও রেল দুর্ঘটনায় আরও ঝরেছে ২৬টি প্রাণ। বুধবার (১২ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

ঈদযাত্রার ১২ দিনে  দেশের ১৮টি জাতীয় দৈনিক, ৬টি আঞ্চলিক দৈনিক, ১০টি অনলাইন নিউজপোর্টালে প্রকাশিত সংবাদ এবং জাতীয় পঙ্গু হাসপাতালের তথ্য পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করে তৈরি প্রতিবেদন সম্পর্কে ব্রিফ করেন সংগঠনটির সভাপতি ব্রি. জেনারেল (অব.) জি এম কামরুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মো. সামসুদ্দীন চৌধুরীসহ সংগঠনটির আরও কয়েকজন সদস্য।

যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদুল ফিতরের সময় সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ২১২টি দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে গাড়িচাপার ঘটনা ছিল ৫১টি, মুখোমুখি সংঘর্ষ ৮১টি, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ১৯টি এবং অন্যান্য কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩৪টি। যার মধ্যে দেশের সড়ক ও মহাসড়কে ১৮৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণ গেছে মোট ২৪৭টি, আহত হয়েছেন আরও ৬৬৪ জন।

যে সব যানবাহন দুর্ঘটনায় পড়েছে তাদের মধ্যে ৬৩টি ট্রাক-কাভার্ডভ্যান ও পিকআপ, ১৯টি কার-মাইক্রোবাস, ৩০টি নছিমন-করিমন, ভটভটি-ইজিবাইক, অটোরিকশা, ৬৪টি মটরসাইকেল ছিল। এছাড়া ২৬টি অন্যান্য যানবাহন দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল। সড়ক ছাড়াও নৌপথের ৫ দুর্ঘটনায় চার ব্যক্তি নিহত এবং ১২ জন আহত হন এবং ট্রেনে কাটা পড়ে মোট ২২ জনের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে সংগঠনটি ঈদকেন্দ্রিক যাত্রীর চাপ, চালকদের প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, বেশি ভাড়া আদায়, অদক্ষ চালকের হাতে দৈনিক চুক্তিতে যানবাহন ভাড়া দেয়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহনে যাত্রী বহন, মহাসড়কে অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, নছিমন-করিমন, মোটরসাইকেল অবাধে চলাচল, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, বিরতিহীন/বিশ্রামহীনভাবে যানবাহন চালানো, যাত্রীদের ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতাকে দায়ী করে।

নিরাপদ ঈদযাত্রায় যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ সরকারি-বেসরকারি সংস্থার স্টাফবাস যাত্রী বহনে ব্যবহার করা এবং প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে যানবাহন ভাড়া করার সুপারিশও করেছে।

একই সঙ্গে সংগঠনটি যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ, সড়ক বাঁক সোজা করা, যানবাহনের ফিটনেস পদ্ধতি ডিজিটাল করা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করা, হালকা গাড়ি চালানোর লাইসেন্স নিয়ে ভারী গাড়ি চালাচ্ছেন– এমন ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ দেয়া, মহাসড়কে নছিমন-করিমন জাতীয় গ্রামীণ যানবাহন বন্ধে সরকারি সিদ্ধান্ত শতভাগ বাস্তবায়ন, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ করা এবং যাত্রী সচেতনতা বৃদ্ধি করারও সুপারিশ করেছে। 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড