• বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন

আসছে ঘাটতির বাজেট!

  অধিকার ডেস্ক

০৯ জুন ২০১৯, ১৪:২৬
বাজেট
ছবি : সংগৃহীত

২০১৯-২০ অর্থবছরে সবচেয়ে বড় বাজেট দিতে যাচ্ছে সরকার। আসন্ন অর্থবছরে বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। এই বাজেটে একদিকে যেমন আকার বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে বাজেট ঘাটতির পরিমাণও। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের থেকে যা প্রায় ২০ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা বেশি। বাজেটের এই ঘাটতি ঋণ ব্যাংকিং খাত ও সঞ্চয়পত্র থেকে পূরণ করা হবে।

অন্যদিকে এখানে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হচ্ছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা (জিডিপির ১৩.১ শতাংশ)। আর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) খাতে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৩০০ কোটি টাকা (জিডিপি’র ৬ দশমিক ৮ শতাংশ) ধরা হয়েছে। আর জিডিপির প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ। 

জানা গেছে, বর্তমান সরকারের তৃতীয় মেয়াদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ১৩ জুন (বৃহস্পতিবার) সংসদে বাজেট উপস্থাপন  করবেন। 

আর এই বাজেটেই ‘নতুন ভ্যাট আইন ২০১২’ ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হবে । রাজস্ব আওতা বৃদ্ধি এবং কর ফাঁকি রোধে অনলাইনে ভ্যাট আদায়ের অবকাঠামো তৈরি করা, ইসিআর মেশিন চালুসহ নানা পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। 

এছাড়া আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ কর্মসূচির আওতায় সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সুবিধাভোগীর সংখ্যা ১৩ লাখ বাড়িয়ে ৮৭ লাখে উন্নীত করাসহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনে সরকারি-বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে। 

এবারের বাজেটে মেগা প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করতে বাজেটে বরাদ্দ বেশি রাখা হবে। আর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপনের বিষয়টিও বাজেটে থাকবে। 

বাজেটের আকার

প্রাথমিকভাবে আসন্ন বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। এটি জিডিপির ১৮ দশমিক ১ শতাংশ। চলতি বাজেটের (২০১৮-১৯ অর্থবছর) আকার ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। আসন্ন বাজেটে ৫৮ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। ফলে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার থেকে নতুন বাজেটের আকার ১২ দশমিক ৬ শতাংশ  বেশি।

বাজেট ঘাটতি

আসন্ন বাজেটে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা ঘাটতির পরিমাণ ধরা হয়েছে। যা চলতি অর্থবছরের বাজেটের থেকে ২০ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা বেশি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে এক লাখ ২৫ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা ঘাটতি ছিল। জানা গেছে, এই বাজেটে ঘাটতি পূরণে বৈদেশিক উৎস থেকে নিট ৫২ হাজার ২২০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হতে পারে। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে এর পরিমাণ ৫০ হাজার ১৬ কোটি টাকা। 

পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নিট ৯৩ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা নেওয়া হবে। এর মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে ৬৮ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা (চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে এর পরিমাণ ৪২ হাজার ২৯ কোটি টাকা) এবং সঞ্চয়পত্র খাত থেকে ২২ হাজার ২৭০ কোটি টাকা (চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে এর পরিমাণ ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা) নেওয়া হতে পারে। 

জিডিপির আকার

এই বাজেটে জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) আকার ধরা হচ্ছে ২৮ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা । যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ২ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা বেশি। বর্তমান অর্থবছরে জিডিপির আকার ধরা হয় ২৫ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা। আর জিডিপির প্রবৃদ্ধি ধরা হচ্ছে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের জিডিপি ৭.৬ শতাংশ ধরা হলেও ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। 

এডিপির আকার 

২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এক লাখ ৩০ হাজার ৯২১ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা নেওয়া হবে। 

চলতি অর্থবছরের মূল এডিপিতে বরাদ্দ রয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। সে তুলনায় নতুন অর্থবছরের এডিপির আকার বাড়ছে ১৭ দশমিক ১৮ শতাংশ। নতুন এই এডিপিতে মোট ১ হাজার ৫৬৪টি প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। এবারের এডিপিতে পরিবহন খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। 

রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা

এই বাজেটে মোট রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১৩ দশমিক ১ শতাংশ। এখানে কর রাজস্ব ৩ লাখ ৪০ হাজার ১০০ কোটি এবং কর বহির্ভূত রাজস্ব ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। আর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকার রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য দেওয়া হচ্ছে। 

বাজেটে এনবিআর বহির্ভূত কর রাজস্ব প্রস্তাব করা হচ্ছে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা,যা চলতি বাজেট থেকে ৩৮ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা বেশি। এবছর রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য হচ্ছে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা।

সামাজিক নিরাপত্তার আওতা

আসন্ন বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা ১৩ লাখ বাড়িয়ে ৮৭ লাখ করা হবে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় বর্তমান বাজেটে সাড়ে ৭৩ লাখ মানুষ বিভিন্ন  ভাতা পান।  

মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা

আসন্ন অর্থবছরের বাজেটে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ২ হাজার টাকা বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকা করা হচ্ছে।  বর্তমানে প্রায় দুই লাখ মুক্তিযোদ্ধা নগদ ১০ হাজার টাকা করে মাসিক ভাতা পান। এর বাইরে তারা বর্তমানে দুই ঈদে সমপরিমাণ দুটি বোনাস, স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস ভাতা ও বৈশাখী ভাতা ভোগ করছেন। 

চিকিৎসা ক্ষেত্রে নগদ সহায়তা

বর্তমানে দেশে ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোক ও প্যারালাইসিসে আক্রান্ত গরিব রোগীদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে তা আরও বাড়ানো হবে। 

ওডি/টিএফ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড