• রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ঢাকায় যানজটে কষ্ট হলেও পরে সুফল মিলবে : প্রধানমন্ত্রী 

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২৫ মে ২০১৯, ১৩:২১
শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ছবি : ফাইল ফটো)

মেট্রোরেল নির্মাণ কাজের জন্য রাজধানী ঢাকায় সৃষ্ট যানজটে জনগণের কষ্ট হলেও পরে এর সুফল মিলবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

শনিবার (২৫ মে) ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় গোমতী সেতু জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা মহাসড়কে ২টি ফ্লাইওভার, ৪টি আন্ডারপাস গণভবন থেকে টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।   

তিনি বলেন, ঢাকায় যানজটে জনগণ কষ্ট পাচ্ছে। তবে ভালোকিছু পেতে হলে একটু কষ্ট সহ্য করতে হবে। মেট্রোরেল নির্মাণকাজ শেষ হলে যানজট কমে যাবে।

শেখ হাসিনা বলেন, মেট্রোরেলের কারণে যে জনদুর্ভোগ তার জন্য একটু কষ্ট হবেই। কিন্তু এর সুফল পরে পাওয়া যাবে। এখানে ১৬টা স্টেশন থাকবে। এর মাধ্যমে প্রায় ৬০ হাজার জনগণ চলাচল করতে পারবে।

দেশের জনগণের উন্নতিই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাজের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষের উন্নতি করা আমাদের লক্ষ্য। আর এ লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। জাতির পিতার দেখানো সেই নীতি সকলের সাথে বন্ধুত্ব কারো সাথে বৈরিতা নয়, সেই পথেই আমরা হাঁটছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ যে সেতুগুলো উদ্বোধন করা হচ্ছে সেগুলো আর্থ সামাজিক উন্নয়নসহ আঞ্চলিক সহযোগিতায় বিরাট অবদান রাখবে। যার কাছ থেকে আমরা উন্নয়ন সহযোগিতা পাচ্ছি তার কাছ থেকে আমরা তা গ্রহণ করছি। এর মাধ্যমে সাউথ এশিয়ান ও সাউথ ইস্ট দেশগুলোর সাথে আমরা যোগাযোগ করতে পারছি।

ভবিষ্যতে উন্নয়ন আরও বৃদ্ধির আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এখন যে সেতুগুলোর উন্নয়ন করছি আশাকরি ভবিষ্যতে আরও উন্নতি করতে পারবো। 

শেখ হাসিনা বলেন, সড়ক, নৌ, রেল, বিমান সবদিক থেকে যাতে মানুষের যোগাযোগ সহজ হয় সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, চালকদের বিশ্রামের জন্য মহাসড়কের পাশে আলাদা ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। যাতে করে তারা একটা নির্দিষ্ট সময় পর বিশ্রাম নিতে পারে।

এর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে আসন্ন পবিত্র ঈদ উল ফিতরের অগ্রিম শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রকল্পগুলোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। 

একই সাথে প্রধানমন্ত্রী কোনাবাড়ি ও চন্দ্রা ফ্লাইওভার, কালিয়াকৈর, দেওহাটা, মির্জাপুর ও ঘারিন্দা আন্ডারপাস এবং কাড্ডা-১, সাসেক সংযোগ সড়ক প্রকল্পের আওতায় জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা মহাসড়কে বিমাইল সেতুরও উদ্বোধন করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী ঢাকা-পঞ্চগড় রুটে ‘পঞ্চগড় এক্সপ্রেস’ নামের আন্তঃনগর ট্রেনের শুভ উদ্বোধন করেন। 

এর আগে কাঁচপুর, দ্বিতীয় মেঘনা, গোমতী সেতু নির্মাণ প্রকল্প পরিচালক আবু সালেহ মো. নুরুজ্জামান জানান, নবনির্মিত কাঁচপুর ব্রীজ ইতোমধ্যেই যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। নতুন দুটি সেতু চালু হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিশেষ করে ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা কিছুটা হলেও আরামদায়ক হবে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি বছরের ১৬ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর উপর দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতুর উদ্বোধন করেন।

নুরুজ্জামান জানান, জাপানি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওবায়সি করপোরেশন, শিমঝু করপোরেশন, জেএফএফ করপোরেশন ও আইএইচআই ইনফ্রা সিস্টেম্স কোম্পানি লি.২০১৬ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেঘনা ও গোমতীর সঙ্গে দ্বিতীয় কাঁচপুর ব্রিজের কাজ শুরু করে।

এই তিনটি সেতু নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে, ৮ হাজার ৪শ ৮৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাপানের জাইকা ৬ হাজার ৪শ ৩০ কোটি টাকা সহায়তা দিয়েছে।

তিনি বলেন, এই প্রকল্পে প্রস্তাবিত ব্যয়ের তুলনায় ১ হাজার কোটি টাকা কম খরচ হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক বলেন, চুক্তি অনুযায়ী জাপানের প্রতিষ্ঠানগুলো ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে কাজ শুরু করে এবং ২০১৯ সালের জুনে সম্পন্ন করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু ২০১৬ সালের জুলাইতে হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলার কারণে নির্মাণ কাজ চার মাস বন্ধ থাকে। এ কারণে সরকার নির্মাণ কাজ ৬ মাস বাড়িয়ে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করে দেয়। প্রকল্প পরিচালক আরও বলেন, সেতু তিনটির নির্মাণ কাজ নির্ধারিত সময়ের সাত মাস আগেই সম্পন্ন হয়।

নুরুজ্জামান জানান, ৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রায় ৪০০ মিটার দীর্ঘ নতুন কাঁচপুর সেতু নির্মাণ কাজ ২০১৭ সালে শেষ হয়। তিনি আরও জানান, নতুন কাঁচপুর সেতু পুরানোটির চেয়ে প্রস্থে ২ মিটার বেশি। কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই পুরোনো সেতুর সংস্কার কাজ শুরু করেছে।

তিনি বলেন, যথাক্রমে এক হাজার ৭৫০ কোটি ও ১ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন ৯৩০ মিটার মেঘনা ও ১৪১০ মিটার গোমতী সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নুরুজ্জামান আরও জানান, জনসাধারণের ঈদ যাত্রার সুবিধার্থে ৩১ মে কাঁচপুর সেতুর পূর্বাংশের ওভারপাস খুলে দেয়া হবে।

বন্দর নগরী ও রাজধানীর মধ্যে দুটি যাতায়াত পথ মেঘনা ও গোমতী সেতুতে এসে এক হয়ে গেছে। প্রযুক্তিগতভাবে পুরোনো কাঁচপুর সেতুতে দুটি যাতায়াত পথ থাকলেও এর প্রশস্ততা যথেষ্ট নয়।

এমতাবস্থায় সেতুর মুখে এসে যানজটের সৃষ্টি হয়। ঈদ ও সপ্তাহের শেষে যখন যান চলাচল বেড়ে যায় তখন পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। যাত্রী ও চালকগণ ১৯২ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যস্ততম এই পথে পাঁচ ঘণ্টার স্থলে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টায় গন্তব্যে পৌঁছেন।

ওডি/এআর 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪, ০১৯০৭৪৮৪৮০০ 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড