• সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

কিডনি দিতে চেয়েও রাজিবকে আটকাতে পারলেন না রোমানা

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২১ মে ২০১৯, ০৪:২৯
রোমানা তাসমিন ও আনোয়ার হোসেন রাজীব
আনোয়ার হোসেন রাজীব ও রোমানা তাসমিন (ফাইল ফটো)

আনোয়ার হোসেন রাজিব ও রোমানা তাসমিন। পরিচয় ফেসবুকে। পরিচয় গড়ায় প্রেমে। বাড়ে ঘনিষ্ঠতা। ঘনিষ্ঠতা এতই গভীর, এ যেন লাইলী-মজনুর আধুনিক ভার্সন। এক পর্যায়ে প্রেমিকা জানতে পারেন তার মনের মানুষটি মৃত্যুপথযাত্রী। তার দুটি কিডনিই নষ্ট। রোমানা নিজের একটি কিডনি দিয়ে রাজিবকে বাঁচাতে চেয়েছেন, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। রাজিব নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।

রোমানার গ্রামের বাড়ি জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ভাটিপাড়ায়। পেশায় প্যারামেডিক। অপরদিকে লৌহজং পাইলট উচ্চবিদ্যালয় থেকে ২০০২ সালে এসএসসি পাস করেন রাজিব। ঢাকা কলেজ থেকে এমএ শেষ করেন ২০০৯ সালে। এরপর পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালসে জ্যেষ্ঠ অফিসার হিসেবে যোগ দেন। তার কিডনি রোগ ধরা পড়ে ২০১৪ সালের ১২ নভেম্বর।

রাজিব নিয়মিত ডায়ালাইসিস করাতেন। রাজিবের দুটি কিডনিই নষ্ট জানার পর রোমানা তাকে একটি কিডনি দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তিনি মৃত্যুপথযাত্রী ভালোবাসার মানুষকে বাঁচাতে চান। রাজিব ও তার পরিবার রোমানার কথা প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেনি। কিন্তু রোমানা সত্যিই রাজিবকে বাঁচাতে চান। কিডনি দিতে গিয়ে আইনি জটিলতা দেখা দেয়। আইনি জটিলতা ভাঙতে তিনি রাজিবকে বিয়ে করেন। তাদের বিয়ে হয় ২০১৭ সালের ১৩ জানুয়ারি।

রোমানাকে পাওয়ার পর রাজিবের মধ্যে বাঁচার আশা জাগে। কিন্তু টাকার অভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন আটকে যায়। রাজিব-রোমানার মানবিক বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও পত্রিকায় এ নিয়ে খবর হয়। এরপরই মুন্সীগঞ্জ-২ (লৌহজং-টঙ্গিবাড়ী) আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলিসহ খ্যাতিমানরা এগিয়ে আসেন। জোগাড় হয় প্রয়োজনীয় টাকা। ২০১৭ সালের ৭ আগস্ট ভারতে যান রাজিব-রোমানা। তবে কিছু শারীরিক জটিলতার কারণে রাজিবের শরীরে কিডনি প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। ভারতে দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেন তারা।

দেশেই চিকিৎসকদের পরামর্শে চলে রাজিবের চিকিৎসা। ডায়ালাইসিসের সঙ্গে নিয়মিত চিকিৎসায় পূর্বে দেখা দেওয়া শারীরিক বিভিন্ন জটিলতা থেকে কেটে ওঠেন রাজিব। রোমানা ফের ভারতে কিডনি প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা করতে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। প্রয়োজনীয় টাকা জোগাড় না হওয়ায় রাজধানীর ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়মিত ডায়ালাইসিস করে জীবন যুদ্ধে টিকে ছিলেন রাজিব।

রাজধানীর কেরানীগঞ্জের জিনজিরায় সাজেদা হাসপাতালে চাকরি করা প্যারামেডিক রোমানা হাসপাতালের কাছেই বাসা নিয়ে বসবাস শুরু করেন। সম্প্রতি রাজিব-রোমানা দম্পতি মিলে বাসার নিচেই একটি ফার্মেসি দেন। সেখানে রাজিবের পাশাপাশি অফিস শেষে রোমানাও সময় দিতেন।

নিয়মিত ডায়ালাইসিস করলেও শুক্রবার (১৭ মে) রাজিবের শরীর খারাপ করলে ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার (২০ মে) ভোর ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজীব শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

ওডি/এমআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড