• বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন

খেলাপি ঋণ আদায়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরাট ছাড়

  নিজস্ব প্রতিবেদক ১৬ মে ২০১৯, ২৩:৪৬

বাংলাদেশ ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংক। (ছবি : সংগৃহীত)

খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য এক বিরাট ছাড়ের ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তা শোধ করছেন না, তারা বকেয়া ঋণের ২ শতাংশ টাকা জমা দিয়েই নিজেদের ঋণ নিয়মিত করতে পারবেন।

যেখানে সুদ হার হবে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ। আর তারা এক বছরের ঋণ শোধে বিরতিসহ মোট ১০ বছরের মধ্যে বাকি টাকা পরিশোধ করতে পারবেন। এমনকি এ সময়ের মধ্যে তারা নতুন করে ব্যাংক থেকে আবারও ঋণ নিতে পারবেন।

একইসঙ্গে যারা মাত্র এক বছরের মধ্যেই এই ঋণ শোধ করে দিতে চান, তাদের জন্য আরও বড় ছাড়ের ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তারা চাইলেই যেকোনো সময় তহবিল খরচের সমান সুদ দিয়ে বাকি অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ মে) সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই ঋণ পুনঃতফসিল ও এককালীন পরিশোধ সংক্রান্ত একটি বিশেষ নীতিমালা জারি করেছে। যদিও এ সংক্রান্ত একটি খসড়া নীতিমালা এর আগেই অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবর পাঠানো হয়েছিল। আর তাতেই এবার কিছুটা ঘষামাজা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে সকল সুযোগ-সুবিধা রয়েছে সরকারের দেওয়া খসড়া মোতাবেক।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বর্তমানে এই ঋণ বিরূপভাবে খেলাপি হয়ে পড়ায় ঋণ বিতরণ ও আদায় কার্যক্রম অনেকটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মূলত উৎপাদনশীল খাতগুলোতে স্বাভাবিক ঋণ প্রবাহ বজায় রাখা এবং খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে এও বলা হয়, যেসব ঋণ ক্ষতিজনক অর্থাৎ খেলাপি হয়ে পড়েছে; সে সব ক্ষেত্রেই কেবল এই সুবিধা দেওয়া হবে।

অপর দিকে একই দিন অন্য একটি প্রজ্ঞাপনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘোষণা করেছিল, যে সব ব্যবসায়ী এখন পর্যন্ত নিজেদের ঋণের সব কিস্তি সময় মতো পরিশোধ করেছেন। কখনও কোনো কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হননি, তারা ‘ভালো গ্রাহক’। তাদের কাছ থেকে গত এক বছরে যে পরিমাণ সুদ আদায় হয়েছে, তাদের প্রত্যেককে এর ১০ শতাংশ ফেরত দেওয়া হবে।

এ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নতুন এ সুবিধা সম্পূর্ণ ব্যাংক খাতের জন্য অন্তর্ঘাতমূলক ব্যাপার। এ সুযোগ খেলাপি ঋণ কার্পেটের নিচে চলে যাবে। আমার ৬০ বছরের কর্মজীবনে এমন সুবিধার কথা শুনিনি।’

যদিও প্রতিষ্ঠানটির একাধিক কর্মকর্তাদের দাবি, নতুন এই সুবিধা প্রদানের ফলে ব্যাংক খাতের সঙ্কট কখনোই কমবে না। কেননা বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে তারল্য-সঙ্কট চলছে। কয়েকটি ব্যাংকের অবস্থা এতটাই খারাপ যে, তাদের জমা টাকা ফেরত দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এখন ব্যাংকগুলোর তহবিল খরচের হার প্রায় সাড়ে ৭ থেকে ৯ শতাংশ পর্যন্ত। যে কারণে গ্রাহকদের আস্থা ফেরাতে ঋণ খেলাপিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড