• শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন

আদালতে উপস্থাপন

ঢাকার যে ৫৯ এলাকায় ওয়াসার পানি বেশি দূষিত

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৬ মে ২০১৯, ১৯:৪৯
শরবত খাওয়ানোর উদ্যোগ
তাকসিম এ খানকে ওয়াসার পানি দিয়ে শরবত খাওয়ানোর উদ্যোগ নেন কয়েকজ (ফাইল ফটো)

রাজধানীর ১০টি জোনে ৫৯টি এলাকায় ঢাকা ওয়াসার পানি বেশি দূষিত বলে আদালতে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।

বৃহস্পতিবার (১৬ মে) দুই সদস্যের একটি হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

এর আগে রাষ্ট্রপক্ষের কাছে প্রতিবেদনটি জমা দেন ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান। প্রতিবেদনে বলা হয়, গেল তিনমাসে রাজধানীর ২৯২টি অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়, অভিযোগ অনুযায়ী ৫৯টি এলাকার ১০টি জোনে ওয়াসার পানি বেশি দূষিত।

মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, বৃহস্পতিবার আদালতে ওয়াসার তৈরি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকার ১০টি জোনে ৫৯ এলাকায় ওয়াসার পানি বেশি দূষিত।

এলাকাগুলো হলো-

জোন এক : যাত্রাবাড়ী, মুগদা, জুরাইন, মানিকনগর, বাসাবো, মান্ডা, কুসুমবাগ, ধোলাইরপার, রাজারবাগ ও মাতুয়াইল।

জোন দুই : লালবাগ, বাঘলপুর, শহীদনগর ও বকশিবাজার।

জোন তিন : ধানমন্ডি, কলাবাগান, জিগাতলা, ভূতেরগলি, শুক্রাবাদ ও মোহাম্মদপুর।

জোন চার : মিরপুর, শেওড়াপাড়া, পাইকপাড়া, পীরেরবাগ, কাজীপাড়া ও মনিপুর।

জোন পাঁচ : তেজগাঁও ও মহাখালী।

জোন ছয় : খিলগাঁও, রামপুরা, মগবাজার, মালিবাগ, শাহজাহানপুর, সিদ্ধেশ্বরী, নয়াটোলা ও পরিবাগ।

জোন সাত : শ্যামপুর, কদমতলী, রসুলবাগ মেরাজনগর, দনিয়া, পাটেরবাগ, কোনাপাড়া, শনির আখড়া ও মুসলিমনগর

জোন আট : বসুন্ধরা, বাড্ডা, ভাটারা ও আফতাবনগর।

জোন নয় : মোল্লারটেক, সায়েদাবাদ, রানাগোলা, খিলক্ষেত ও উত্তরা।

জোন দশ : মিরপুর, কাজীপাড়া, পল্লবী, কচুক্ষেত ও কাফরুল।

বুধবার (১৫ মে) এক প্রতিবেদনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানায়, ঢাকার ওয়াসার পানির ১০৬৫টি নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করতে ৭৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা দরকার। প্রতিবেদনটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু হাইকোর্টে দাখিল করবেন বলে জানানো হয়।

গত ১৭ এপ্রিল ‘ঢাকা ওয়াসা: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এতে ওয়াসার দুর্নীতি-অনিয়ম উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা ওয়াসার পানির নিম্নমানের কারণে ৯৩ শতাংশ গ্রাহক নানাভাবে পানি পানের উপযোগী করেন। এর মধ্যে ৯১ শতাংশ গ্রাহকই পানি ফুটিয়ে বা সিদ্ধ করে পান করেন। গৃহস্থালি পর্যায়ে পানি ফুটিয়ে পানের উপযোগী করতে প্রতিবছর আনুমানিক ৩৩২ কোটি টাকার গ্যাসের অপচয় হচ্ছে।

টিআইবির প্রতিবেদনের বিরোধিতা করে ওয়াসার এমডি বলেন, ওয়াসার পানি শতভাগ বিশুদ্ধ ও সুপেয়। ওয়াসার পানি ফুটিয়ে খাওয়ার দরকার হয় না। টিআইবির প্রতিবেদনটি নিম্নমানের।

ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খানের এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান পুরান ঢাকার বাসিন্দারা। তারা তাকসিম এ খানকে ওয়াসার পানি দিয়ে শরবত খাওয়ানোর উদ্যোগ নেন। এতে নেতৃত্ব দেন জুরাইন নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের সমন্বয়ক মিজানুর রহমান। কিন্তু ওইদিন তাকসিম এ খান ওয়াসা ভবনে আসেননি। বিষয়টি মিডিয়ায় আলোচিত হয়।

ওডি/এমআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড