• মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন

মানবপাচারে যুক্ত নোয়াখালীর তিন ভাইয়ের চক্র শনাক্ত

  নিজস্ব প্রতিবেদক ১৫ মে ২০১৯, ১৭:৪৮

একে আবদুল মোমেন
পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন (ফাইল ফটো)

পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন বলেছেন, ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ৩৯ জনের পরিচয় মিলেছে। মানবপাচারে যুক্ত নোয়াখালীর তিন ভাইয়ের একটি চক্র ও মাদারীপুরের দুজন রয়েছেন। তাদেরও শনাক্ত করা গেছে।

বুধবার (১৫ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

একে আবদুল মোমেন বলেন, ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ১৪ যাত্রীর সঙ্গে লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা কথা বলেছেন। তারা এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য পেয়েছেন। যে চারজনের লাশ মিলেছে, এদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি। তিনি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার গৌতম দাসের ছেলে উত্তম কুমার দাস। উত্তম কুমারের পরিবার ছবি দেখে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভূমধ্যসাগর হয়ে ইতালির উদ্দেশে দুটি নৌকায় প্রায় ১৩০ জন রওনা হন। এদের মধ্যে ১০০ জন ছিলেন বাংলাদেশি। একটি নৌকা নিরাপদে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। অন্য নৌকাটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে প্রায় ৮০ জন ছিলেন।

তিউনিসিয়া থেকে পাওয়া বার্তার বরাত দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, উদ্ধার ১৪ জনের মধ্যে চারজনকে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে দুজন দগ্ধ হয়েছেন। এ দুইজন তেলের ড্রাম ধরে ভূমধ্যসাগরে প্রায় ৮ ঘণ্টা ভেসে ছিলেন। অপর দুজন অন্য কোনভবে আঘাত পেয়ে আহত হয়েছেন। আর ১০ জন তিউনিসিয়ার রেড ক্রিসেন্টের আশ্রয় শিবিরে রয়েছেন।

এক প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের এসব নাগরিক ৪ থেকে ৫ মাস আগে লিবিয়ায় যান। এর আগে দুবাই, শারজা, আলেকজান্দ্রিয়া হয়ে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে যান। ত্রিপোলিতে মানব পাচারকারীদের হাতে আটক হন। মানব পাচারকারীরা তাদের আটকে রেখে মারধর করে বাংলাদেশে পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায় করেছে।

মন্ত্রী জানান, মানব পাচারের সঙ্গে যুক্ত নোয়াখালীর তিন ভাইয়ের একটি চক্র ও মাদারীপুরের দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। সিলেট থেকে যারা গেছেন, তাদের পরিবার কিছু দালালকে শনাক্ত করেছে।

তিউনিসিয়ার উপকূলবর্তী ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীবাহী নৌকাডুবিতে নিহত ২৭ বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।

নিহতরা হলেন- নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার জয়াগ গ্রামের নাসির, ঢাকার টঙ্গীর কামরান, সিলেটের জিল্লুর রহমান, কিশোরগঞ্জ জেলার জালাল উদ্দিন, সুনামগঞ্জের মাহবুব, মাদারীপুর জেলার সজিব, সিলেট বিয়ানীবাজারের রফিক ও রিপন, শরীয়তপুরের পারভেজ, কামরুন আহমেদ মারুফ, মৌলভীবাজার কুলাউড়ার শামিম, কিশোরগঞ্জ জেলার আল-আমিন, ফেঞ্চুগঞ্জ সিলেটের লিমন আহমেদ, আব্দুল আজিজ ও আহমেদ, সিলেট দক্ষিণ সুরমার জিল্লুর, বাইল্যাহার মৌলভীবাজারের ফাহা, সিলেট ফেঞ্চুগঞ্জের আয়াত, হাউড়তোলা সিলেটের আমাজল, সিলেটের কাসিম আহমেদ, সিলেট বিশ্বনাথের খোকন, রুবেল, সিলেটের মনির, বিশ্বনাথ সিলেটের বেলাল, সুনামগঞ্জের মাহবুব, নাদিম, সিলেট গোলাপগঞ্জের মারুফ প্রমুখ।

নৌকাডুবিতে নিহত ও জীবিত বাংলাদেশিদের তথ্য আদান-প্রদানের জন্য চালু করা হয়েছে দুটি হটলাইন নম্বর। এগুলো হলো ৮৮-০২-৪৯৩৫৪২৪৬ ও ০১৮১১৪৫৮৫২১। ৪৯৩৫৪২৪৬ নম্বরটি অফিস চলার সময় প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে বিকাল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত ও ০১৮১১৪৫৮৫২১ নম্বরটি ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে বলে জানিয়েছে রেড ক্রিসেন্ট কর্তৃপক্ষ।

ওডি/এমআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড