খালেদাকে কোথায় রাখলে বিএনপি খুশি হবে : তথ্যমন্ত্রী 

প্রকাশ : ১৫ মে ২০১৯, ১৫:১০

  নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জের নতুন কারাগারে স্থানান্তর না করে কোথায় রাখলে দলের নেতারা খুশি হবেন এই বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। একই সঙ্গে পুরান কারাগার থেকে নতুন কারাগারে স্থানান্তরে বিএনপি নেতাদের তো খুশি হওয়ার কথা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   

বুধবার (১৫ মে) সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী।

বিএনপির পক্ষ থেকে তো বারবার বলা হচ্ছিল যে, খালেদা জিয়াকে পুরনো একটি বিল্ডিংয়ে স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে রাখা হয়েছিল বলে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, যদিও তাকে সেখানে রাখার জন্য ভবনকে নতুনভাবে তৈরি করা হয়েছিল। সেটিকে মর্ডানাইজ করা হয়েছিল। সমস্ত সুযোগ-সুবিধা সেখানে দেয়া হয়েছিল। এরপরও বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল একটি পুরনো ভবনে নির্জন কারাগারে তাকে রাখা হচ্ছে, যেখানে অন্য কোনো বন্দি নেই।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, কেরানীগঞ্জ কারাগার তো একেবারে নতুন ভবন, সেটি একেবারে আধুনিক। সেখানে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা আছে। এতে তো বিএনপির খুশি হওয়ার কথা। 

কিন্তু দেখলাম রিজভী আহমেদ (বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী) এটি নিয়েও একটি সংবাদ সম্মেলন করেছেন বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। বিএনপির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এখন (খালেদা জিয়াকে) কোথায় রাখলে যে তারা খুশি হবেন বুঝতে পারছি না। 

পুরনো কারাগারকে জাদুঘরে রূপান্তর করা হবে বলে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সে জন্য এখান থেকে স্থানান্তরের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এখন এটি আর রেগুলার কারাগার নয়। কেরানীগঞ্জটি হচ্ছে একটি রেগুলার কারাগার।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়াকে বন্দি রাখা হয়। বর্তমানে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলে খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

বাংলাদেশ অকার্যকর রাষ্ট্র- বলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেওয়া বক্তব্য তুলে ধরে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম যেটি বলেছেন...আসলে বিএনপিটাই অকার্যকর হয়ে গেছে। 

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়কে অদম্য গতিতে এগিয়ে চলছে। রাষ্ট্র এগিয়ে যাচ্ছে, বিএনপিটা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবদের নেতৃত্বে অকার্যকর হয়ে গেছে। এটি যদি উনি বলতেন তাহলে সঠিক হতো।

এদিকে ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে দুই রাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কসহ নানাবিধ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো যাতে ভারতে দেখানো সম্ভব হয় সেই বিষয়টা আলোচনা করেছি। বিটিভি ভারতে দেখানোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। আমি এখনই এ ব্যাপারে বলতে চাই না, যেহেতু ভারতে নির্বাচন চলছে। খুব সহসা সুসংবাদ আমরা আপনাদের দিতে পারব। সুসংবাদ তৈরি হয়ে আছে ঘোষণা করতে চাই না। এ বিষয়গুলো আলোচনা হয়েছে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ভারত-বাংলাদশের যৌথ প্রযোজনায় বঙ্গবন্ধুর ওপর একটি ছবি নির্মিত হতে যাচ্ছে। সেই ছবির পরিচালক হচ্ছেন বিখ্যাত পরিচালক শ্যাম বেনেগাল। সেটি নিয়ে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভীর নেতৃত্বে তথ্য সচিবসহ সেখানে গিয়েছিলেন। সেখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু চলচ্চিত্রের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। ‘বঙ্গবন্ধু’র স্ক্রিপ্ট রাইটার আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশে আসবেন। তিনি দুসপ্তাহ বাংলাদেশে থাকবেন।’

তিনি জানান, ছবিটা যৌথ মালিকানায় হবে। ছবির ৬০ ভাগ মালিকানা থাকবে বাংলাদেশের, আর ৪০ ভাগ মালিক ভারত সরকারের। সেভাবেই বিনিয়োগটা হবে। ইতোমধ্যে ভারতের পক্ষ থেকে সেখানে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এবং কাজ শুরু হয়ে গেছে।

ওডি/এআর